বুধবার, জুন ২৬

মমতা এক রাতে ২ লক্ষ মুকুল, ৫ লক্ষ সৌমিত্র তৈরি করতে পারেন: অভিষেক

দ্য ওয়াল ব্যুরো: মঙ্গলবার ফেসবুকে বিস্ফোরণ ঘটানোর পর বুধবার দুপুরে মুকুল রায়ের হাত ধরে বিজেপি-তে যোগ দিয়ে দিয়েছেন বিষ্ণুপুরের সাংসদ সৌমিত্র খাঁ। গেরুয়া শিবিরে যোগ দিয়েই যুব তৃণমূল সভাপতি তথা তৃণমূলের তরফে বাঁকুড়া জেলার পর্যবেক্ষক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘হরিদাস পাল’ বলে কটাক্ষ করে আক্রমণ শানিয়েছিলেন মুকুল-শিষ্য। বুধবারই পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুড়েছিলেন অভিষেক। আর বিষ্যুদবারের পড়ন্ত বিকেলে হাওড়ার কুলগাছিয়ায় ব্রিগেডের প্রস্তুতি সভা থেকে অভিষেক বললেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চাইলে এক রাতে দু’লক্ষ মুকুল রায় আর পাঁচ লক্ষ সৌমিত্র খাঁ তৈরি করতে পারেন। কিন্তু মুকুল রায় চেষ্টা করলে গোটা একটা শতাব্দীতেও একজন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তৈরি করতে পারবেন না।”

বুধবার বিজেপি সদর দফতরে দাঁড়িয়ে উত্তেজিত শরীরী ভাষায় সৌমিত্র খাঁ বলেছিলেন, “বাংলায় পিসি-ভাইপো পুলিশ রাজ চালাচ্ছে।” এর পরে পরেই সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অভিষেক বলেছিলেন, “ওরকম অনেক দেখা আছে। হাতি ঘোড়া গেল তল, মশা বলে কত জল!” সেই সঙ্গে এও বলেন, “লোকসভা ভোটে একটা বুথেও জিতে দেখাক দেখি, আমার নাম বদল করে ফেলব।” এ দিন অভিষেক আক্রমণের মাত্রা আরও খানিকটা বাড়িয়ে দিয়ে বলেন, “আমরা আবর্জনা করে ডাস্টবিনে ফেলে দিচ্ছি। বিজেপি তাদের রত্ন করে মাথায় তুলে নিচ্ছে।”

আরও পড়ুন The Wall Impact: থাপ্পড় কাণ্ডের জেরে আলিপুরদুয়ারের ডিএম’কে আদিবাসী উন্নয়নে বদলি করল নবান্ন

বুধবারই জোড়া বহিষ্কারের পর্ব সেরে ফেলেছিল বাংলার শাসক দল। তৃণমূলের তরফে জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল, বিষ্ণুপুরের সাংসদ সৌমিত্র খাঁ এবং বোলপুরের সাংসদ অনুপম হাজরাকে বহিষ্কার করছে দল। এই দু’জন দীর্ঘদিন ধরেই দলের অভ্যন্তরে ‘বিতর্কিত’ বলে পরিচিত। শৃঙ্খলার কোনও আগল না রেখে সোশ্যাল মিডিয়ায় নানা সময়ে দল- বিরোধী মন্তব্য করতে দেখা গিয়েছে। অবশেষে দু’জনকেই বহিষ্কার করতে একপ্রকার বাধ্য হয় তৃণমূল।

বুধবার দিল্লিতে নিজের বাসভবনে তৃণমূলের ক্রিজ থেকে সৌমিত্রর উইকেট ফেলে দেওয়ার পর রাজনৈতিক মহলে অনেকটা কৌতূহল বাড়িয়ে দিয়েছিলেন একদা তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কম্যান্ড মুকুল রায়। বলেছিলেন, খোদ মমতা নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন বিজেপি এবং এনডিএ-নেতাদের সঙ্গে। সেই নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে নানান কানাঘুষো শুরু হয়েছিল। এ দিনের সভা থেকে ঠারেঠোরে মুকুলের সেই বক্তব্যকেও উড়িয়ে দিলেন অভিষেক। গোটা বক্তৃতার সিংহভাগ জুড়ে মোদী এবং তাঁর দল বিজেপি-কে আক্রমণ করলেন। কখনও ছন্দ মিলিয়ে, কখনও আবার রাজনৈতিক ঘটনা বা নীতি উল্লেখ করে। সরাসরি না বললেও, ইঙ্গিতে বুঝিয়ে দিলেন, উনিশের ভোটের পর দিল্লির কুর্সিতে যাচ্ছেন দিদিই। ঘোষণা করে দিলেন, আগামী দিনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই ১৩০ কোটি মানুষের মুক্তিসূর্য।

অভিষেকের কটাক্ষের জবাবে বিজেপি-র এক মুখপাত্রের বক্তব্য, “যাঁরা বিজেপি-তে এলেন তাঁরা রত্ন না আবর্জনা ক’দিন পরেই মালুম হবে। ওটা নিয়ে ওঁর মাথা না ঘামালেও চলবে। যুব নেতা বরং তাঁর দলের মধ্যে জমে যাওয়া পাহাড় প্রমাণ আবর্জনা সাফ করায় মন দিন।”

The Wall-এর ফেসবুক পেজ লাইক করতে ক্লিক করুন 

Comments are closed.