বুধবার, জুলাই ১৭

দিল্লির বাবারাও বাঁচাতে পারবে না, আমি পুরোটা দেখছি, খানাকুলে হুঙ্কার অভিষেকের

দ্য ওয়াল ব্যুরো: শনিবার সন্ধেবেলা দুষ্কৃতীদের হাতে খুন হয়েছিলেন খানাকুল ১ নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য তথা দাপুটে তৃণমূল নেতা মনোরঞ্জন পাত্র। রবিবার তাঁর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন যুব তৃণমূল সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। খানাকুলে দাঁড়িয়েই বিজেপি-র দিকে নিশানা করে অভিষেক বললেন, “যারা মনোরঞ্জন পাত্রকে খুন করেছে, তারা সবাই বিজেপি-র লোক। আগে এরাই সিপিএমের অনিল বসুর হয়ে এলাকা দখল করত। তবে আমি স্পষ্ট বলছি, যারা খুন করেছে তাদেরকে দিল্লির বাবারাও বাঁচাতে পারবে না। আমি পুরোটা দেখছি।”

অভিষেক এ দিন দুপুর তিনটে নাগাদ খানাকুলে পৌঁছন। সঙ্গে ছিলেন আরামবাগ মহকুমার দায়িত্বপ্রাপ্ত তৃণমূল নেতা দিলীপ যাদব। ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ কথা বলেন নিহত মনোরঞ্জনের দুই ছেলে, স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে। আশ্বাস দেন, দোষীদের উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা করবে প্রশাসন।

যুব তৃণমূল সভাপতি এ দিন বলেন, “সন্ত্রাসের পাল্টা সন্ত্রাস, রক্তের পাল্টা রক্তের রাজনীতি আমরাও করতে পারি। কিন্তু আমরা ওই রাজনীতি করি না। ১৬ জনের নামে এফআইআর হয়েছে। চার জনকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করা হয়েছে।” খুন হওয়ার তিন দিন আগেও হামলা হয়েছিল মনোরঞ্জন পাত্রর উপর। সেই সময়ে পুলিশ এসে তাঁকে উদ্ধার করে। কিন্তু তার ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ফের হামলা। এটা কি প্রশাসনের গাফিলতি নয়? জবাবে সাংবাদিকদের অভিষেক বলেন, “পুলিশের একটা অংশের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপরে বাংলার মানুষের ভরসা আছে। দুষ্কৃতীরা ছাড়া পাবে না।”

পর্যবেক্ষকদের মতে, একটা সময়ে আরামবাগ মহকুমায় সিপিএমের দাপটে অন্য কোনও রাজনৈতিক দল মাথাই তুলতে পারত না। অনিল বসুদের দাপট এতটাই ছিল যে, থানা পুলিশের আগে বিচার হত সিপিএমের জোনাল পার্টি অফিসে। পরে একই পথে হাঁটে তৃণমূল। গত কয়েক বছরে আরামবাগে তৃণমূল ছাড়া অন্য পতাকা কার্যত নিষিদ্ধ। কিন্তু এই লোকসভায় খেলা ঘুরে গিয়েছে। কোনও রকমে এই আসন জিতেছে তৃণমূল। হু হু করে ভোট বেড়েছে বিজেপি-র। আর তারপর থেকেই শুরু হয়েছে সংঘর্ষ।

অভিষেকের কথায়, “গত আট বছরে এই এলাকায় কোনও রক্তপাত হয়নি। বিজেপি কয়েকটা আসন পেতেই সিপিএমের কায়দায়  রংবাজির জমানা আনতে চাইছে।” বিজেপি-র উদ্দেশে হুঙ্কার দিয়ে অভিষেক বলেন, “কে কত বড় মস্তান হয়েছে দেখব। দরকার হলে ১০ দিনের মধ্যে আমি ফের এলাকায় আসব।”

মনোরঞ্জন পাত্রর খুন নিয়ে অভিষেকের বক্তব্য প্রসঙ্গে বিজেপি রাজ্যসভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেন, “প্রশাসন ওঁর পিসির হাতে। ওঁরা আটকাক। এই ঘটনায় বিজেপি-র কোনও যোগ নেই।”

খানাকুলের সিপিএম নেতা ভজহরি ভুঁইয়া বলেন, “অভিষেক বাচ্চা ছেলে। উনি জানেন না, এখানে ওঁর দলের নেতারা রোজ টাকা পয়সার ভাগ বাঁটোয়ারা নিয়ে মারামারি করে। যারা পরিমাণে কম পেয়েছে তারাই বিজেপি হয়েছে। প্রশাসন দেখুক কী হচ্ছে!”

Comments are closed.