মুকুল থেকে রাজ্যপাল, মোকাবিলার মুখ অভিষেক

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: কে বলে গো এই প্রভাতে নেই তুমি?

    ভোট বিপর্যয়ের ময়নাতদন্তের পর সম্প্রতি দলে কিছু সাংগঠনিক রদবদল করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দিদি-র সে দিনের সাংবাদিক বৈঠকের পর তৃণমূলেরই একাংশ নেতা মনে করতে শুরু করেছিলেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সম্ভবত কিছুটা ‘সাইডলাইনে’ ঠেলে দিলেন নেত্রী। বিরোধী শিবিরেরও অনেকের ধারনা ছিল তাই। যুব কংগ্রেসের সভাপতি পদে থাকার পাশাপাশি আগে পুরুলিয়া, বাঁকুড়া জেলার পর্যবেক্ষক ছিলেন অভিষেক। দিদি জানিয়েছিলেন, এখন শুধু ভোটার লিস্ট দেখবেন অভিষেক।

    কিন্তু বুধবার, নিন্দুকদের মুখে কার্যত ছাই দিয়ে যেন নতুন ভূমিকায় অবতীর্ণ হলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তপসিয়ায় তৃণমূল সদর দফতরে এ দিন বিকেলে সাংবাদিক বৈঠক করেন অভিষেক। তাঁর প্রত্যয়ও ছিল দেখার মতোই।

    চাপাডাঙার যে তৃণমূল নেতারা মঙ্গলবার বিজেপি-তে যোগ দিয়েছিলেন, চব্বিশ ঘন্টার মধ্যেই এ দিন তাঁদের দলে ফেরান অভিষেক। দুই, দলবদল নিয়ে নাম না করে মুকুল রায়ের তুলোধনা করেন। তিন, পাল্টা দুর্নীতির অভিযোগ তোলেন মুকুলের বিরুদ্ধে। চার, এনআরএস-এ ডাক্তার নিগ্রহের ঘটনায় সরকারি হাসপাতালগুলিতে যে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে, তা কাটাতে সরকার ও দলের তরফে বিশ্বাসবর্ধক বার্তা দেন। আবার রোগীদের ভোগান্তির কথা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে বিক্ষোভরত ডাক্তারদের উদ্দেশ্যেই প্রশ্ন তোলেন, ভাল মন্দ কিছু হয়ে গেলে তার দায় কার? এবং সর্বোপরি, রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠীর প্রতি সম্মান জানিয়ে বলেন, উত্তরপ্রদেশেই বা কেন রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করা হবে না? যেখানে আড়াই বছরের শিশুকে ধর্ষণ করে খুন করা হচ্ছে, গত দশ দিনে ২৫ জন যাদবকে মারা হয়েছে, সেই মগের মুলুক তো রাষ্ট্রপতি শাসনের জন্য ফিট কেস!

    সার্বিক এই ছবিতে বিষয় ধরে ধরে দলের অবস্থান তুলে ধরা একটা দিক। কিন্তু বাংলার রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এর অন্য দিকটাও স্পষ্ট। তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির জন্য তা আরও প্রাসঙ্গিক। তা হল, এই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে শুধু যুব তৃণমূল সভাপতি বলা যাবে না। বরং দলের তাঁর অবস্থান ও গুরুত্ব কতটা তা এই ছবিতেই পরিষ্কার। তিনি বর্ধমানের পর্যবেক্ষক নন, কিন্তু সেখানকার ভাঙন যেমন ঠেকাচ্ছেন, তেমনই প্রতি আক্রমণে চ্যালেঞ্জ ঠুকছেন বিজেপি-কে। বললে অতিশয়োক্তি হবে না, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পর তিনিই এখন তৃণমূলের অঘোষিত নম্বর-টু।

    তৃণমূলের এক মমতা-ঘনিষ্ঠ নেতা অবশ্য বলেন, এ কথা বলে অনেকে আবার দলের মধ্যেই নারদ-নারদ লাগানোর চেষ্টা করতে পারে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলায় তৃণমূলের একটি মিডিয়া সেল গঠন করে দিয়েছেন। ওই কমিটিতে অভিষেক ছাড়াও পার্থ চট্টোপাধ্যায়, শুভেন্দু অধিকারী, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ দলের ১৫ জন নেতা রয়েছেন। কে কবে পার্টি অফিসে বসবেন তা ঠিক করে দেওয়া হয়েছে। কে কবে সাংবাদিক বৈঠক করবেন তাও মিডিয়া সেলের  নেতারা নিজেদের মধ্যে হোয়াটস অ্যাপ গ্রুপে আলোচনা করে নিচ্ছেন।  সেই মোতাবেক সাংবাদিক বৈঠক করা হচ্ছে। এ দিন সে ভাবেই অভিষেকের সাংবাদিক বৈঠক করার কথা ছিল। এর অতিরিক্ত কিছু নয়।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More