রবিবার, জুন ১৬

মুকুল বলেছিলেন চাঁপাডাঙা আমাদের, অভিষেক বললেন মোটেই না

দ্য ওয়াল ব্যুরো: মঙ্গলবার বিকেলে সাংবাদিক সম্মেলন করেছিলেন বিজেপি নেতা মুকুল রায়। হুগলির দুটি গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্যদের হাতে বিজেপি-র পতাকা ধরিয়ে দাবি করেছিলেন তালপুর আর চাঁপাডাঙা গ্রাম পঞ্চায়েতের দখল নিল গেরুয়া শিবির।

চব্বিশ ঘণ্টা কাটল না। পাল্টা সাংবাদিক সম্মেলন করলেন যুব তৃণপমূল সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কাল যাঁরা বিজেপি দফতরে গিয়েছিলেন, আজ তাঁরা তৃণমূল ভবনে। ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ এ দিন দাবি করলেন, মিথ্যে বলেছেন মুকুল রায়। ওই পঞ্চায়েত তৃণমূলের ছিল, তৃণমূলের আছে, তৃণমূলের থাকবে।

এ দিন অভিষেক বলেন, “মিথ্যে কথা বলে মুকুল রায় সবাইকে বিভ্রান্ত করতে চাইছেন। উনি দিল্লির কাছে নম্বর বাড়াতে চাইছেন।” এ দিন অভিষেকের পাশে ছিলেন বর্ধমানের জেলা পরিষদের সদস্য শান্তনু কোঙার। শুভ্রাংশু রায়রা যে দিন বিজেপি-তে যোগ দেন, সে দিন গেরুয়া ঝাণ্ডা হাতে তুলে নিয়েছিলেন বর্ধমানের এই যুব নেতাও। তাঁকে পাশে বসিয়ে এ দিন যুব তৃণমূল সভাপতি বলেন, “মুকুলবাবুর সুপুত্র ওঁকে ভুল বুঝিয়ে দিল্লি নিয়ে গিয়েছিল।”

চাঁপাডাঙা অঞ্চলের দোর্দণ্ডপ্রতাপ তৃণমূল যুব নেতা মহারাজ নাগের হাত ধরেই গতকাল বিজেপি দফতরে গিয়েছিলেন ওই পঞ্চায়েত সদস্যরা। এ দিন মহারাজের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “তারকেশ্বর পুরসভার চেয়ারম্যান উত্তম কুণ্ডুর নেতৃত্বে আজ সকালে তৃণমূলের গুণ্ডাবাহিনী গিয়ে ওই পঞ্চায়েত সদস্যদের অস্ত্র-সহ ভয় দেখায়। হুমকি দেয়, কেস দিয়ে ভিতরে ঢুকিয়ে দেবে। বাধ্য হয়েই তাঁরা তৃণমূল ভবনে গিয়েছেন।” মহারাজের অভিযোগ উড়িয়ে উত্তম বলেন, “আমরা কাউকে ভয় দেখাইনি। ওরাই গতকাল ভয় দেখিয়ে তৃণমূলের সদস্যদের বিজেপি-তে যোগদান করিয়েছিল।”

বাংলায় দল ভাঙানোর রাজনীতি এই প্রথম নয়। পর্যবেক্ষকদের মতে, বঙ্গ রাজনীতিতে এই সংস্কৃতি চালু করেছিল তৃণমূলই। যদিও এ ব্যাপারে মুকুল রায়কেই কাঠগড়ায় তোলেন অভিষে। তাঁর কথায়, “মুকুলবাবু যখন তৃণমূলে ছিলেন, তখনও দলকে বিভ্রান্ত করে নানান কাজ করেছেন। এখন ওই দলে গিয়েও দিল্লির নেতাদের কাছে নম্বর বাড়াতে চাইছেন।”  তাঁর কথায়, “সারদা, নারদ থেকে পিঠ বাঁচাতেই দল বদলে এ সব কাজ করছে কেউ কেউ। বাংলার মানুষ এদের চরিত্র জানে।”

সিঙ্গুর আন্দোলন নিয়ে মুকুল রায়ের ‘ভুল’ কবুল প্রসঙ্গেও এ দিন কটাক্ষ করেন অভিষেক। তিনি বলেন, “সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে জমি ফেরত দেওয়া হয়েছে। যে দিন অনিচ্ছুক কৃষকদের জমি ফেরত দেওয়া হচ্ছে, সে দিন উনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে মঞ্চে ছিলেন। তখন কেন দল ছাড়েননি? এ সব কথা বলা মানে সুপ্রিম কোর্টের রায়কে অসম্মান করা।”

তবে দল ভাঙানোর রাজনীতি নিয়ে মুকুল রায়ের বিরুদ্ধে অভিষেক যে অভিযোগ তুলেছেন সে ব্যাপারে মুকুল-ঘনিষ্ঠ এক বিজেপি নেতা বলেন, “যুবরাজের নেতৃত্বেই তো মুর্শিদাবাদ জেলায় দল ভাঙিয়েছিল তৃণমূল। তখন মুকুল রায় তো ছিলেন না। ওঁর পিসিই তো কংগ্রেসের বিধায়ক শঙ্কর সিং-কে রাণাঘাটের তৃণমূল সভাপতি করেছেন। ওঁদের মুখে এ সব কথা মানায় না। আয়নায় গিয়ে আগে নিজের মুখটা দেখুন।”

Comments are closed.