মঙ্গলবার, মার্চ ১৯

দিদিই এ যুগের নেতাজি, ৮০ বছর পর ‘দিল্লি চলো’র ডাক: বারুইপুরে অভিষেক

দ্য ওয়াল ব্যুরোমঞ্চে বসে নেতাজির নাতি তথা তৃণমূল কংগ্রেসের যাদবপুরের সাংসদ সুগত বসু। আর তাঁকে সাক্ষী রেখেই শনিবারের বার বেলায় নেতাজির সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তুলনা টানলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

বললেন, ‘আশি বছর আগে এক বাঙালি দিল্লি চলোর ডাক দিয়েছিলেন। আশি বছর পর ফের এক বাঙালি দিল্লি চলোর ডাক দিয়েছেন।’

‘আশি বছর আগের সেই বাঙালি ছিলেন দক্ষিণ কলকাতার বাসিন্দা। আশি বছর পরের এই বাঙালিও দক্ষিণ কলকাতার মানুষ।’

‘আশি বছর আগে সেই বাঙালি কংগ্রেস ছেড়েছিলেন। আশি বছর পরের এই বাঙালিও কংগ্রেস ছেড়ে বেরিয়ে এসে তৃণমূল কংগ্রেস করেছিলেন।’

বারুইপুরে ব্রিগেডের প্রস্তুতি সভা থেকে যুব তৃণমূল সভাপতি আরও বলেন, “নেতাজি বলেছিলেন তোমরা আমাকে রক্ত দাও, আমি তোমাদের স্বাধীনতা দেব। এখন বাংলায় দিলীপবাবুরা (বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ) বলছেন, তোমরা আমাদের ভোট দাও, আমরা তোমাদের রক্তস্নাত বাংলা দেব। আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলছেন, তোমরা আমাদের বিয়াল্লিশে বিয়াল্লিশ দাও, আমরা তোমাদের দিল্লির বুকে একটা প্রগতিশীল, ধর্ম নিরপেক্ষ সরকার দেব। এটাই ওদের সঙ্গে আমাদের পার্থক্য।”

এ দিনের সভা থেকেও অভিষেক বলেন, ১৯ জানুয়ারি ব্রিগেডের সভায় দেশের বিভিন্ন দলের নেতারা আসবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতকে শক্ত করতে। কেজরিওয়াল থেকে ফারুক আবদুল্লাহ, স্ট্যালিন থেকে কুমারস্বামী, একাধিক নেতৃত্বের নাম বলেন তিনি। প্রসঙ্গত, একুশে জুলাইয়ের মঞ্চ থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেছিলেন, ব্রিগেডে বিজেপি-র মৃত্যুঘণ্টা বাজানোর সমাবেশে তিনি সারা দেশের বিজেপি বিরোধী দলগুলির নেতাদের উপস্থিত করবেন। এবং তার প্রস্তুতিও চলছে বেশ কয়েক দিন ধরেই।

নরেন্দ্র মোদীর ‘পাবলিসিটি স্টান্ট’কেও কটাক্ষ করেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ। বলেন, “ভোটের আগে প্রচার করে বেরিয়েছিলেন, চাওয়ালা দেশের প্রধানমন্ত্রী হবে। যাঁরা চা বিক্রি করেন, তাঁরা সৎভাবে নিজেদের জীবিকা নির্বাহ করেন। কিন্তু আমরা কখনও মোদীজিকে চা বিক্রি করতে দেখিনি। বরং আমরা দেখেছি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ১০০ টাকার চপ্পল এবং ৩০০ টাকার শাড়ি পরে, টালির বাড়িতে থাকতে।” পর্যবেক্ষকদের মতে, বিজেপি কর্মীরা যেমন মোদীর উঠে আসাকে তুলে ধরেছিলেন, তেমনই তৃণমূল একই কায়দায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উঠে আসা, অনাড়ম্বর জীবনকে লোকসভার আগে আরও বেশি করে তুলে ধরতে শুরু করে দিল।  

Shares

Comments are closed.