মঙ্গলবার, মার্চ ২৬

জোটের নামে সিপিএমের ধাপ্পা মানব না, দরকারে একা লড়বে কংগ্রেস: মান্নান

দ্য ওয়াল ব্যুরোকংগ্রেসের সঙ্গে আসন বন্টন এখনও চূড়ান্ত হয়নি। তা সত্ত্বেও শুক্রবার বামফ্রন্টের বৈঠক ডেকে আলিমুদ্দিন স্ট্রিট থেকে প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করে দেওয়ায়, ক্ষোভের জ্বালামুখ খুলে দিলেন প্রদেশ কংগ্রেস নেতৃত্ব।

প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সোমেন মিত্র তবুও সংযত মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ওঁরা যা পারে করুক, জোট ভাঙার দায় আমরা নেব না। কিন্তু এ ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে মুখে কোনও আগল রাখতে চাননি বিরোধী দলনেতা আবদুল মান্নান। তিনি পষ্টাপষ্টি জানিয়ে দেন, সিপিএম যা করল, তার পর আর যাই হোক জোট হতে পারে না। আমরাও এ বার সব আসনে প্রার্থী ঘোষণা করে দেব।

বামেদের সঙ্গে জোট অটুট রাখা নিয়ে কংগ্রেস যে ধারাবাহিক চেষ্টা চালাচ্ছিল তা নিয়ে সন্দেহ নেই। বিপরীতে সিপিএমের অবস্থান হল, জলে নামব কিন্তু চুল ভেজাব না। অতীতে মহেশতলা বিধানসভার উপ নির্বাচনের সময় তৎকালীন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতির সঙ্গে কথা বলেছিলেন সিপিএম রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র। যাতে কংগ্রেস সেখানে প্রার্থী না দেয়। কিন্তু মহেশতলায় প্রচারে অধীর চৌধুরীকে একবারও ডাকেননি সূর্যবাবু।

মান্নান সাহেব ক্ষোভের সঙ্গেই এ দিন জানান, এ বারও ওঁরা গোড়ায় বলেছিল যে আনুষ্ঠানিক ভাবে জোটের কথা বলব না। শুধু আসন সমঝোতা হবে। যৌথ প্রচারেরও প্রশ্ন নেই। তা নিয়ে আপত্তি তুলতে সীতারাম ইয়েচুরি পরে জানান, না না যৌথ প্রচারও হবে। কিন্তু ফের আসন বন্টন নিয়ে আলোচনার সময় ঝামেলা পাকাতে শুরু করেন সিপিএম নেতারা। তাঁর কথায়, “ঢাক ঢাক গুড় গুড় করে জোট হয় নাকি! জোট করবঅথচ মুখে বলব না। বলব আসন সমঝোতা হয়েছে। আবার এক সঙ্গে প্রচারও করব না। এ সব ধাপ্পাবাজি চলবে না।”

প্রদেশ কংগ্রেস নেতাদের বক্তব্য, উত্তরবঙ্গে জলপাইগুড়ি, দার্জিলিং, কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার, উত্তর দিনাজপুর কোথাও একটাও আসন ছাড়তে রাজি নয় সিপিএম। তা ছাড়া বর্ধমান জেলার তিনটি আসনের একটাও ছাড়বে না জানিয়ে দিয়েছে। বলছে, কখনও বলছে, শরিকদের চাপ রয়েছে। কখনও আবার জানাচ্ছে, ওঁদের সংগঠন নাকি চাঙ্গা হয়ে গিয়েছে। কিন্তু মান্নান সাহেবদের পাল্টা প্রশ্ন, ওঁদের শরিকদের আছে টা কীআর একটা ব্রিগেড করেই চাঙ্গা হয়ে গেল সিপিএম?

এ কথা বলেই এ দিন পাল্টা হুঁশিয়ারি দেন কংগ্রেস নেতারা। তাঁরা বলেন, বাংলায় জোট না হলেও কংগ্রেস আসন জিতবে। সিপিএম একটাতেও জিতবে না। তা ছাড়া আবদুল মান্নানের কথায়, ওঁরা ভুলে যাচ্ছে, শুধু বাংলা নিয়ে কংগ্রেস নয়। কংগ্রেস একটা জাতীয় দল। ফলে বাংলায় দুর্বল হলেও গোটা দেশে বেঁচে থাকবে। কিন্তু সিপিএম এ বার একটাও আসন জিততে না পারলে মুছে যাবে। ত্রিপুরায় এমননিতেই পার্টিটা শেষ হয়ে গেছে। এ বার বাংলা ও কেরলেও হবে।

এ দিন বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু প্রেস বিবৃতিতে জানিয়েছেন, বাকি ১৭টি আসনের কিছু আসনে কংগ্রেস এবং কয়েকটিতে বামফ্রন্ট প্রার্থীরা লড়াই করবে। এমনও বলা হয়েছে, কয়েকটি আসনে দু’দলই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারে।

Shares

Comments are closed.