‘মাস্ক পরোনি কেন’, বলতেই বৃদ্ধকে ইট দিয়ে কপাল ফাটাল প্রৌঢ়, সিউড়ির ঘটনায় গ্রেফতার ১

শনিবার ভোরবেলা মাস্ক না পরে রাস্তায় বেরনোর প্রতিবাদ করায় এক ৭৩ বছরের বৃদ্ধকে ইট দিয়ে মেরে কপাল ফাটিয়ে দিলে এক ব্যক্তি। ঘটনাটি ঘটেছে বীরভূমের সিউড়ির স্টেশন মোড়ের কাছে।

২৪

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো, বীরভূম: সরকার থেকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা—গত চার মাস ধরে বলেই চলেছে, প্রকাশ্য জায়গায় মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক। রাজ্য সরকার মাস্ক না পরে রাস্তায় বেরোলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নিতেও নির্দেশ দিয়ে রেখেছে পুলিশকে। কিন্তু নাগরিকদের একাংশের যেন কোনও হেলদোলই নেই। শনিবার ভোরবেলা মাস্ক না পরে রাস্তায় বেরনোর প্রতিবাদ করায় এক ৭৩ বছরের বৃদ্ধকে ইট দিয়ে মেরে কপাল ফাটিয়ে দিলে এক ব্যক্তি। ঘটনাটি ঘটেছে বীরভূমের সিউড়ির স্টেশন মোড়ের কাছে। অভিযুক্ত সাবির শেখকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

এদিন সকাল সাড়ে পাঁচটা নাগাদ মর্নিং ওয়াক সেরে খাটাল থেকে দুধ নিয়ে একটি মিস্টির দোকানের সামনে দিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন সিউড়ি শহরের রামকৃষ্ণ পল্লীর বাসিন্দা ৭৩ বছরের বৃদ্ধ তথা অবসরপ্রাপ্ত ইসিএল কর্মচারী নির্মল সিংহ। তাঁর বক্তব্য, তিনি সেই সময়ে দেখতে পান দোকানের সামনে দু’জন মাস্ক না না পরে দিব্যি খোশগল্প করছেন। তাঁদেরকে তিনি জিজ্ঞাসা করেন, কী কারণে মাস্ক পরেননি? পাশাপাশি মাস্ক পরার পরামর্শও দেন তিনি।

স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, ওই বৃদ্ধ মাস্ক পরার কথা বলতেই দু’জনের মধ্যে থেকে একজন তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে শুরু করেন। বৃদ্ধ রুখে দাঁড়াতেই ওই ব্যক্তি রাস্তা থেকে একিটি আধলা ইট তুলে সপাটে তাঁর কপালে বসিয়ে দেয়। রক্তাক্ত অবস্থায় প্রাক্তন খনিকর্মী নির্মলবাবুকে উদ্ধার করে স্থানীয়রাই হাসপাতালে নিয়ে যান। প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তারপর ফকির পাড়ার বাসিন্দা ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ করেন নির্মলবাবু।

গোটা ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে সিউড়িতে। কপালে ক্ষত নিয়েই নির্মলবাবু বলেন, “আমি ওঁদের বললাম, প্রকাশ্য জায়গায় যখন বেরোবে তখন মাস্কটা পড়তে হবে। দেখছ না চারিদিকে কী হচ্ছে! আমি ওদের এও বলি, সাধারণ মানুষের জায়গায় বেরোলে নিজের জন্য না পরলেও আমাদের জন্য মাস্ক পরতেই হবে। তখনই ওদের মধ্যে একজন আমায় গালিগালাজ করতে শুরু করে।”

বৃদ্ধের অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তারপর অভিযুক্তের বাড়ির লোক এসে ক্ষমা চান নির্মলবাবুর কাছে। অনুরোধ করেন, যাতে পুলিশকে বলে তিনি কেস তুলে নেন। শৃতের বৌমা জানিয়েছেন, “আমার দু’বছরের ছেলে মারা যাওয়ার পর থেকে ামার শ্বশুরমশাইয়ের মাথার ঠিক নেই।”

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More