পাঁচ বছরের অগ্নিদগ্ধ শিশুকে ফেরালো ৬টি হাসপাতাল! অবশেষে ঠাঁই আরজিকরে

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: পাঁচ বছরের ছোট্ট দিয়া। গোবরডাঙার ইছাপুরের বাসিন্দা। শুক্রবার সন্ধে সাড়ে সাতটা নাগাদ আচমকাই তার গায়ে আগুন লেগে যায়। তারপর থেকে জেলা এবং শহর মিলিয়ে মোট ৬টি হাসপাতালে ঘুরেছেন দিয়ার বাবা-মা। তালিকায় রয়েছে কলকাতার নামিদামী সরকারি হাসপাতালও। কিন্তু বাচ্চাটির পরিবারের অভিযোগ, সব জায়গা থেকেই ফেরত পাঠানো হয়েছে তাঁদের। ভর্তি নেওয়া হয়নি অগ্নিদগ্ধ বাচ্চাটিকে। শেষ পর্যন্ত রীতিমতো যুদ্ধ করে মেয়েকে আরজিকর হাসপাতালে ভর্তি করতে পেরেছেন বাচ্চাটির পরিবার।

    শুক্রবার পেশায় ইলেকট্রিক মিস্ত্রি রঞ্জিত দাসের বাড়িতে ছিল গৃহপ্রবেশের পুজো। মেয়েকে বাড়িতে রেখেই প্রতিবেশীদের প্রসাদ দিতে গিয়েছিলেন রঞ্জিতবাবু এবং তাঁর স্ত্রী। সেই সময়েই ঘটে যায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। ঘরে থেকে ধোঁয়া বেরতে দেখেই ছুটে আসেন সবাই। দেখেন, দিয়ার সারা শরীরে আগুন লেগে গিয়েছে। কোনওমতে বাচ্চাটিকে উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়া হয় হাবড়া হাসপাতালে। সেখান থেকে বাচ্চাটিকে রেফার করা হয় বারাসত হাসপাতালে। সেখানে শুক্রবার রাতে থাকার পর, শনিবার সকালেই মেয়েকে কলকাতায় নিয়ে আসার ব্যবস্থা করেন রঞ্জিতবাবু।

    রঞ্জিতবাবুর অভিযোগ, শনিবার সকাল সাড়ে সাতটা নাগাদ এনআরএস-এ নিয়ে আসা হয় দিয়াকে। সেখানে দু’ঘন্টা কার্যত বিনা চিকিৎসায় ফেলে রাখা হয়ে তার মেয়েকে। তারপর বলা হয় “এসএসকেএম-এ নিয়ে যান।” এসএসকেএম-এ নিয়ে যাওয়া হলে প্রাথমিক ভাবে বাচ্চাটির ড্রেসিং করে দেয় তারা। এরপর তাকে রেফার করা হয় শম্ভুনাথ পণ্ডিত হাসপাতালে। এসএসকেএম-এর দাবি, বেড খালি না থাকার ফলে বাচ্চাটিকে ভর্তি নেওয়া সম্ভব হয়নি। অগত্যা অগ্নিদগ্ধ মেয়েকে নিয়ে শম্ভুনাথেই ছোটেন দাস পরিবার। অভিযোগ, সেখান থেকেও ফিরিয়ে দেওয়া হয় তাঁদের। কর্তৃপক্ষ জানায়, এই ধরণের অগ্নিদগ্ধ বাচ্চাদের চিকিৎসার পরিষেবা হাসপাতালে নেই। এরপর শম্ভুনাথ পণ্ডিত হাসপাতাল থেকেই বাচ্চাটিকে রেফার করা হয় বি সি রায় শিশু হাসপাতালে। কিন্তু সেখানেও ভর্তি নেওয়া হয়নি পাঁচ বছরের ওই আগ্নিদগ্ধ বাচ্চাটিকে। এমনটাই দাবি করেছেন দিয়ার বাবা রঞ্জিত দাস।

    এদিকে বিভিন্ন হাসপাতালে ঘুরতে ঘুরতে সময় পেরিয়ে গিয়েছিল অনেকটাই। তীব্র যন্ত্রণায় ছটফট করছিল বাচ্চাটি। দুপুর দু’টো নাগাদ তাকে নিয়ে আরজিকর হাসপাতালে যান রঞ্জিতবাবু। অভিযোগ, সেখানেও বলা হয় বেড খালি নেই। চাইলে শিশুটিকে জেনারেল ওয়ার্ডে ভর্তি করতে পারেন তার পরিবার। দিয়ার বাবা-মা জানান, সংক্রমণ হওয়ার ভয়েই মেয়েকে জেনারেল ওয়ার্ডে ভর্তি করেননি তাঁরা। এরপর বিকেল চারটে নাগাদ বাচ্চাটির শারীরিক পরিস্থিতির বেশ অবনতি হয়। তখনও বাচ্চটিকে ভর্তি নেয়নি আরজিকর। শেষ পর্যন্ত জরুরি বিভাগের সামনেই বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন বাচ্চাটির পরিবারের লোকজন। অবশেষে বিকেল সাড়ে চারটে নাগাদ অগ্নিদগ্ধ শিশুটিকে ভর্তি নেয় হাসপাতাল। জানা গিয়েছে, তাকে আইসিইউ-তে রাখা হয়েছে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More