রানিগঞ্জে মিডডে মিলের চালের বস্তা উধাও, প্রশাসনে অভিযোগ প্রধান শিক্ষকের, উদ্ধার স্কুল থেকেই

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো, পশ্চিম বর্ধমান: রানিগঞ্জের জেকে নগর হাইস্কুলে  মিডডে মিলের চালের বস্তার গরমিল নিয়ে একপ্রস্থ নাটক হয়ে গেল। ৭৪ বস্তা চালের বদলে মাত্র ২১ বস্তা চাল রয়েছে দেখে পুলিশে অভিযোগ জানান প্রধান শিক্ষক। তল্লাশির সময় স্কুলের একটি ঘরে বাকি ৫৩ বস্তা চাল পাওয়া যায়। পুরো ঘটনা নিয়ে স্কুল এখন একাধিক পক্ষে বিভক্ত হয়ে গেছে।

ওই স্কুলের গুদামে মিডডে মিলের ৭৪ বস্তা চাল থাকার কথা থাকলেও চাল রাখার গুদামে গিয়ে দেখা যায় সেখানে রয়েছে ২১ বস্তা চাল। তা দেখে বিডিও এবং জেলা স্কুল পরিদর্শককে সেকথা জানান স্কুলের প্রধানশিক্ষক মনোজিৎ চট্টোপাধ্যায়। ৬ অগস্ট নিমচা ফাঁড়িতে এ ব্যাপারে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

প্রধান শিক্ষকের দাবি, স্কুলের একজন কর্মীকে জিজ্ঞাসা করে স্কুলে চালের বস্তার বিভিন্ন রকম হিসেব দেখতে পান। তখন তিনি স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের জানান এবং তখনই সিদ্ধান্ত নেন থানায় অভিযোগ করার। এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে একটি বিশেষ পরিদর্শক দল তৈরি করে দেন রানিগঞ্জের ব্লক উন্নয়ন আধিকারিক। সোমবার ওই স্কুল পরিদর্শন করতে যান সেই দলের সদস্যরা। তাঁরা  স্কুলেরই এক দিকে বাংলা বিভাগের একটি ঘরে ৫৩ বস্তা চালের হদিস পান। যে ঘর থেকে চালের বস্তা উদ্ধার হয়েছে সেই জায়গাটি কোয়ারেন্টাইন সেন্টার হিসেবে ব্যবহারের জন্য নির্দিষ্ট করা আছে।

কী ভাবে চালের গুদাম থেকে এই বস্তাগুলি সেই ঘরে গেল তা নিয়ে এখনও কিছু জানা যাচ্ছে না। পরিদর্শক দল শুধু এটুকু জানিয়েছে যে, যত সংখ্যক চালের বস্তা স্কুলে থাকার কথা ছিল সেই সংখ্যক বস্তাই রয়েছে।

পরিদর্শনে আসা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি বিনোদ নুনিয়া অভিযোগ করেছেন, স্কুলের ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্য এই ধরনের অভিযোগ করে স্কুলের অন্য সব সদস্যের বদনাম করতে চাইছেন প্রধান শিক্ষক। স্কুলের পরিচালন কমিটির সভাপতি অভয় উপাধ্যায়ও বলেন, “সব ঠিকঠাকই আছে। শুধু স্কুলের বদনাম করার জন্য এই ধরনের অভিযোগ করা হয়েছে।”

যদিও পরিদর্শনে আসা মুখ্য পরিদর্শক তথা রানিগঞ্জের সমষ্টি উন্নয়ন দফতরের যুগ্ম সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক অমর্ত্য মুখোপাধ্যায় এ প্রসঙ্গে কোনও কথাই বলতে চাননি।

স্কুলের প্রধান শিক্ষক মনোজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের অভিযোগ, স্কুলের বেশিরভাগ সহকর্মীর কোনও সহযোগিতা তিনি পান না। একটি গুদামে চাল রাখা হয় বলেই তিনি জানতেন। এখনও তাঁর কাছে পুরো বিষয়টি নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে বলে তিনি দাবি করেছেন।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More