বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১৭

ফের ধাক্কা খেলেন মুকুল রায়, কাঁচরাপাড়ার পাঁচ কাউন্সিলর ফিরে গেলেন তৃণমূলে

দ্য ওয়াল ব্যুরো: দু’দিন আগে বিজেপি-র থেকে হালিশহর পুরসভা ছিনিয়ে নিয়েছিল তৃণমূল। গতকাল ডিগবাজি খেয়েছেন হরিণঘাটার কিছু বিজেপি কাউন্সিলর। এ বার কাঁচরাপাড়ার পাঁচ কাউন্সিলরকে বিজেপি থেকে ঘরে ফেরাল তৃণমূল। যদিও কাঁচরাপাড়া পুরসভার দখল এখনও বিজেপি-রই রয়েছে। কিন্তু এ ঘটনায় মুকুল রায় ফের ধাক্কা খেলেন বলে মনে করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার বিধানসভা চত্বরে সাংবাদিক বৈঠক করে কাঁচরাপাড়ার ওই পাঁচ কাউন্সিলরকে আনুষ্ঠানিক ভাবে দলে ফেরান পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। সেই সঙ্গে তিনি বলেন, পার্টির বস-এর কাছে নম্বর বাড়াতে লোকসভা ভোটের পর শাসক দলের কিছু কাউন্সিলরকে ভাঙানো শুরু করেছিলেন কাঁচরাপাড়ার এক নেতা। কাউকে রিভলভার ঠেকিয়ে, কারও ছেলেকে কিডন্যাপ করার ভয় দেখিয়ে কাউন্সিলরদের ভাঙানোর চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু তাঁরা বিজেপি-তে গিয়ে দেখেছে গাঁদা ফুল আর পান পরাগের গন্ধে টেকা যাচ্ছে না। তৃণমূলের মতো মুক্ত পরিবেশ আর কোথাও নেই। তাই তাঁরা ফিরে এসেছেন।
২৪ টি আসনের কাঁচরাপাড়ায় এখন তৃণমূলের আসন সংখ্যা হল ১০। ফলে এখনও বিজেপি-র বোর্ডস সেখানে টিকে থাকল ঠিকই। কিন্তু নিঃসন্দেহে চাপে পড়ে গেল গেরুয়া শিবির।

লোকসভা ভোটের পর থেকে একে একে ব্যারাকপুর, ভাটপাড়া, কাঁচরাপাড়া, নৈহাটি, হালিশহর পুরসভার দখল নিয়েছিল বিজেপি। ঠিক যে কায়দায় ষোলো সালে বিধানসভা ভোটের পর ঝালদা, বেলডাঙার মতো পুরসভায় একটা আসনে না জিতেও দখল নিয়েছিল তৃণমূল। সে ভাবেই রাতারাতি উত্তর চব্বিশ পরগনা ও নদিয়ার এই পুরসভাগুলোর বহু কাউন্সিলর বিজেপি-তে যোগ দেন।

তাঁদের পুনরায় দলে ফেরানোর জন্য ববি হাকিম, উত্তর চব্বিশ পরগনার জেলা তৃণমূল সভাপতি জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক, সুজিত বসুদের দায়িত্ব দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এর পরই উলোটপুরান শুরু হয়েছে বলে তৃণমূলের দাবি।
কাউন্সিলরদের ঘর ওয়াপসি-র জন্য তৃণমূল যে সক্রিয় হয়ে উঠেছে তা আন্দাজ করে বুধবার রাতে দিল্লি থেকে তড়িঘড়ি কাঁচরাপাড়ায় ফেরেন মুকুল রায়। সেখানকার দলীয় কাউন্সিলরদের রাতে ডেকে মিটিংও করেন। সেই সঙ্গে দাবি করেন, কাঁচরাপাড়ায় বিজেপি-র ভাঙন হবে বলে যে দাবি করা হচ্ছে তা গুজব।

কিন্তু রাত পোহাতে দেখা গেল, যা রটে তা কিছু তো বটে। কাঁচরাপাড়া পুরসভা দখল করতে না পারলেও পাঁচ জন কাউন্সিলরকে ভাঙিয়ে নিতে তৃণমূল সফল। এ দিন ববি হাকিমরা দাবি করেন, আরও তিন জন কাউন্সিলর তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। তাঁরা দলে ফিরে এলে কাঁচরাপাড়া পুরসভায় ফের দখল নিতে পারবে তৃণমূল।

Comments are closed.