খড়্গপুরে এক দিনেই ৪৫ জন করোনা পজিটিভ, বেলদায় বন্ধ করা হল ফাঁড়ি

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: পশ্চিম মেদিনীপুরে সোমবার রাতে মোট ৪৬ জনের করোনা পজিটিভ রিপোর্ট এসেছে। শুধুমাত্র খড়্গপুরে সোমবার যে ৬০ জনের সোয়াব টেস্টের ফল আসে তার মধ্যে ৪৫ জনের রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে। এর মধ্যে আবার ৪২ জন খড়্গপুরের ইএফআর (ইস্টার্ন ফ্রন্টিয়ার রাইফেলস) কর্মী। দ্রুত তাঁদের মেদিনীপুরের আয়ুশ করোনা লেভেল ১ হাসপাতালে ভর্তি করার ব্যবস্থা করা হয়েছে। অন্য আক্রান্ত ব্যক্তি বেলদার পুলিশকর্মী।

বেলদায় ওই পুলিশ আধিকারিকের করোনা পজিটিভ রিপোর্ট আসায় সিল করে দেওয়া হয়েছে জোড়াগেড়িয়া ফাঁড়ি। সোমবার জেলা স্বাস্থ্য দফতরের রিপোর্ট আসার পরেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন জোড়াগেড়িয়া ফাঁড়ির সমস্ত পুলিশ কর্মী। বেলদার অন্য পুলিশ কর্মী ও আধিকারিকরাও আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় সিল করে দেওয়া হয় জোড়াগেড়িয়া ফাঁড়ি চত্বর। জানিয়ে দেওয়া হয় ফাঁড়ির সব কাজ আগামী সাত দিনের জন্য বন্ধ রাখা হচ্ছে। ওই ফাঁড়িতে কর্মরত বিয়াল্লিশ পুলিশকর্মীকে কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়েছে। কয়েক জন আধিকারিককে আগেই কাজের সূত্রে শালবনিতে পাঠানো হয়েছিল। ফলে এখানে প্রশাসনিক কাজকর্মে সমস্যা হতে পারে বলে প্রশাসনের অন্দরে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সালুয়ায় ইএফআর ক্যাম্পের অন্তত দুশো জন জওয়ানের নমুনা সংগ্রহ করেছে জেলা স্বাস্থ্য দফতর। তার মধ্যে ছেচল্লিশ জনের করোনা পজিটিভ রিপোর্ট এসেছে। বাকিদের সোয়াব পরীক্ষার ফল এখনও আসেনি।

কন্টেনমেন্ট জোন ঘোষণা করা হয় খড়্গপুরের সালুয়া ট্রেনিং ক্যাম্প ও বেলদা ২ নম্বর ব্লকের জোড়াগেড়িয়া ফাঁড়িকে। ২৯ জুন থেকে রাজ্য পুলিশের সশস্ত্র বাহিনীর ৪৩৬ জন জওয়ানকে নিয়ে শুরু হয়েছিল কাউন্টার ইন্সারর্জেন্সি অ্যান্টি টেররিজম ট্রেনিং। ৮ জুলাই প্রথম এক জন অসুস্থ বোধ করলে তাঁর নমুনা সংগ্রহ করা হয়। ১০ জুলাই তাঁর রিপোর্ট আসে পজিটিভ। তারপরে আরও ৭ জনের নমুনা নেওয়া হয়েছিল। ১২ জুলাই রিপোর্ট আসে তাঁদের মধ্যে ৩ জনের পজিটিভ। ওই দিনই আরও ৬০ জনের অমীমাংসিত ফল এসেছিল। ১৩ জুলাই রিপোর্ট আসে তাঁদের মধ্যে ৪২ জন করোনা পজিটিভ। আরও ৯০ জনের অমীমাংসিত রয়েছে তার ফলাফল আজ মঙ্গলবার আসবে বলে জেলা স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে খবর।

জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক নিমাইচন্দ্র মণ্ডল জানান, সালুয়াতে মোট ৪৬ জনের পজিটিভ রিপোর্ট এসেছে। পরিস্থিতির উপর গুরুত্ব দিয়ে মঙ্গলবার দুপুরে সালুয়ায় একটি বৈঠক হয়। সেই বৈঠকে ডিআইজি (এপি) ইএফআর দেবাশিস বেজ, এসডিও খড়্গপুর বৈভব চৌধুরী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজি সামসুদ্দিন আহমেদ, অতিরিক্ত মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক (খড়্গপু)র দেবাশিস দাস উপস্থিত ছিলেন। এসডিও বৈভব চৌধুরী বলেন, “যাঁরা রয়েছেন ওই ট্রেনিং সেন্টারে তাঁদের সেফ হোমে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। স্যানিটাইজ করা হয়েছে ট্রেনিং সেন্টার। কনটেনমেন্ট জোন হিসাবে সব রকম ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ডিআইজি (এপি) ইএফআর দেবাশিস বেজ বলেন, “আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে। যাঁরা ট্রেনিংয়ে এসেছিলেন তাঁদের মধ্যে যাঁরা অন্য ভবনে ছিলেন তাঁদের ছুটি দিয়ে বাড়ি পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।”

সালুয়া বাজার কমিটির সম্পাদক তথা ভেটিয়া পঞ্চায়েত সদস্য রওশন লামা লামা বলেন, “বাজার স্যানিটাইজ করা হয়েছে। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বাজার। যেহেতু ওই বাজারে আসতেন ওই ক্যাম্পের জওয়নারা তাই বাজারের লোকেদের নমুনা সংগ্রহ করার দাবি জানানো হয়েছে।”

সালুয়া কাছে রাস্তায় যাতায়াতের উপরেও নজরদারি রাখতে শুরু করেছে পুলিশ। থার্মাল স্ক্যানার দিয়ে রাস্তায় লোকজনকে পরীক্ষা করা শুরু হয়েছে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More