রবিবার, সেপ্টেম্বর ২২

বনগাঁও চলে গেল বিজেপি-র, আর রইল কী!

দ্য ওয়াল ব্যুরো: হাইকোর্টে বনগাঁ মামলার শুনানিতে বিচারপতি সমাপ্তি চট্টোপাধ্যায় বলেছিলেন, “১০ কী করে ১১-এর থেকে বেশি হয়?”

বৃহস্পতিবার তৃণমূল বুঝিয়ে দিল, বনগাঁয় তারা আর ১০-এ নেই। ১৪ হয়ে গেছে।

বিজেপি-তে যোগ দেওয়া চার কাউন্সিলর ফিরলেন তৃণমূলে। দলে ফেরা চার কাউন্সিলরকে নিয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করলেন পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম ও খাদ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূলের উত্তর চব্বিশপরগনার জেলা সভাপতি জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। সাংবাদিক সম্মেলনে পুরমন্ত্রী বলেন, “দলের কর্মী, সৈনিকদের দলে ফিরিয়ে নেওয়া হবে। কিন্তু দলের সঙ্গে যারা বিশ্বাসঘাতকতা করেছে, সেই মির্জাফরদের কোনও জায়গা নেই।” একইসঙ্গে তাঁর দাবি, এই চারজন তৃণমূলে ফেরায়, বনগাঁ পুরসভার দখল রইল তৃণমূলের হাতেই।

লোকসভা ভোটের পর দিন পনেরো গিয়েছে কি যায়নি, তার মধ্যেই একেবারে লাইন দিয়ে পুরসভার রঙবদল শুরু হয়ে গিয়েছিল। গারুলিয়া, ভাটপাড়া, নৈহাটি, হালিশহর, কাঁচরাপাড়া, বনগাঁ—একের পর এক পুরসভা তৃণমূলের হাত ছাড়া হতে শুরু করে। কিন্তু যত সময় এগোচ্ছে, তত হাতের বাইরে চলে যাওয়া পুরসভা ফের নিজেদের দখলে নেওয়ায় সাফল্য পাচ্ছে তৃণমূল। এর আগে কাঁচরাপাড়া, হালিশহর পুরসভাতেও বিজেপি-তে যোগ দেওয়া কাউন্সিলরদের তৃণমূল ওয়াপসি হয়েছে। এ বার সেই তালিকায় যুক্ত হল বনগাঁও।

বনগাঁ পুরসভার মোট আসন ২২টি। একজন কাউন্সিলরের মৃত্যু হয়েছে। ফলে এখন মোট কাউন্সিলর সংখ্যা ২১। ১১ জন কাউন্সিলর যোগ দিয়েছিলেন বিজেপি-তে। ফলে তৃণমূলের সংখ্যা হয়ে যায় ১০। ম্যাজিক ফিগার পেয়ে যায় বিজেপি। এরপর আদালত পর্যন্ত গড়ায় বনগাঁ পুরসভার আস্থা ভোটের মামলা। হাইকোর্টের বিচারপতি সমাপ্তি চট্টোপাধ্যায় ভরা এজলাসে চেয়ারম্যান শঙ্কর আঢ্যকে ‘নির্লজ্জ’ বলে মন্তব্য করেন। বলেন, “আপনি এত নির্লজ্জ কেন? এখনও চেয়ার আঁকড়ে বসে আছেন?” আস্থাভোটের দিন হুলুস্থূল পড়ে যায় পুরসভার বাইরে। বিজেপি-তে যোগ দেওয়া কাউন্সিলরদের আটকে রাখার অভিযোগ ওঠে শাসকদলের বিরুদ্ধে। কিন্তু তৃণমূল যেন লক্ষ্যে অবিচল।

 

Comments are closed.