রবিবার একদিনে সর্বাধিক করোনা পজিটিভ পাওয়া গেল বাংলায়, হঠাৎ করে কেন এমন হল

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রশাসনের মধ্যে আশঙ্কা ছিলই। সেটাই সত্যি হল।

    রবিবার পশ্চিমবঙ্গে নতুন ২০৮ জনের শরীরে কোভিড পজিটিভ পাওয়া গিয়েছে। একদিনে যা এখনও পর্যন্ত সর্বাধিক। অর্থাৎ এর আগে বাংলায় চব্বিশ ঘন্টার মধ্যে এতো করোনা পজিটিভ রোগী একদিনে পাওয়া যায়নি।

    এ দিন ৯২১৬ টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। যা এখনও পর্যন্ত সর্বোচ্চ। স্বাস্থ্য দফতরের এক কর্তার মতে, এটা ঠিক যে বেশি সংখ্যায় টেস্ট হয়েছে বলে আরও বেশি কোভিড পজিটিভ রোগীর সন্ধান মিলেছে। কিন্তু হয়তো সেটাই একমাত্র কারণ নয়। বিভিন্ন রাজ্য থেকে পরিযায়ী শ্রমিকরা বাংলায় ফিরছেন। তাঁদের অনেকের মধ্যে উপসর্গ রয়েছে। এঁদের কারণেই কোভিড পজিটিভের সংখ্যা হঠাৎ বেড়ে গেল বলে মনে করা হচ্ছে।

    স্বাস্থ্য দফতরের ওই কর্তার বক্তব্যের পক্ষে স্পষ্ট যুক্তিও রয়েছে। দেখা যাচ্ছে, যে উত্তর দিনাজপুর দীর্ঘ সময় পর্যন্ত গ্রিন জোন ছিল, সেখানে ৩৩ জন করোনা আক্রান্ত। গত চব্বিশ ঘন্টায় নতুন ১৩ জন কোভিড পজিটিভ পাওয়া গিয়েছে ওই জেলায়। একই ভাবে মালদহ, মুর্শিদাবাদেও গোড়ার দিকে দীর্ঘ সময় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলির তুলনায় নগণ্য ছিল। কিন্তু মালদহে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা এখন ৮২। এর মধ্যে ৩১ জন কোভিড পজিটিভ পাওয়া গিয়েছে রবিবার। একই ভাবে রবিবার নতুন ৯ জন কোভিড পজিটিভ পাওয়া গিয়েছে মুর্শিদাবাদে। সেখানে মোট আক্রান্তের সংখ্যা এখন ৪৪।

     

    হাওড়ায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যাও এখন অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে। রবিবার সেখানে নতুন করে ৪৮ জন পজিটিভ পাওয়া গিয়েছে। ফলে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৯৯। তবে কলকাতায় আক্রান্তের সংখ্যা এখনও পর্যন্ত সবথেকে বেশি। এবং সব জেলার তুলনায় দৈনিক বৃদ্ধিও বেশি এই মহানগরীতে। রবিবারও শহরে নতুন ৫২ জন কোভিড পজিটিভ পাওয়া গিয়েছে। ফলে কলকাতায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬৬৭।

    তবে ইতিবাচক হল, গত চব্বিশ ঘন্টায় রাজ্যে করোনা আক্রান্ত রোগীর মৃত্যুর সংখ্যা কম। তিন জনের মৃত্যু হয়েছে। অর্থাৎ এখনও পর্যন্ত রাজ্যে মোট ২৭২ জন করোনা আক্রান্ত রোগীর মৃত্যু হয়েছে।

    বস্তুত পরিযায়ী শ্রমিকদের থেকে করোনার সংক্রমণ যে ছড়ানোর আশঙ্কা রয়েছে সে অনেকেই বলছিলেন। সেই কারণে পরিযায়ী শ্রমিকরা ভিন রাজ্য থেকে ফিরলে অনেক জেলায় বা গ্রামে তাঁদের ঢুকতে দেওয়া হচ্ছিল না। কিন্তু প্রশাসনের কর্তাদের অনেকের বক্তব্য, এটা বাস্তব হলেও মেনে নিতে হবে। পরিযায়ী শ্রমিকরা ভিন রাজ্যে অত্যন্ত কষ্ট করে ছিলেন। তাঁরা বাড়ি ফিরতে চাইছেন। তাঁদের পরিবারের লোকজন তাঁদের জন্য আকুল হচ্ছেন। এই বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিভঙ্গী নিয়েই দেখতে হবে। তবে এও ঠিক, পরিযায়ী শ্রমিকরা যেন বাড়ি ফিরে কোয়ারেন্টাইনে থাকেন। কারও শরীরে কোনও রকম উপসর্গ দেখা দিলে কোনও ঝুঁকি না নিয়ে পরীক্ষা করান। তার পর আইসোলেশনে থাকেন। কারণ, সমাজের প্রতি তাঁদেরও দায়িত্ব রয়েছে। এ ব্যাপারে সচেতন হয়ে পদক্ষেপ তা তাঁর পরিবার ও পরিজনদের জন্যও মঙ্গলের হবে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More