বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১৭

দেশে মোট ৬৪, রাজ্যে ১১ জনের টিম ‘৪০ ক্লাবে’

দ্য ওয়াল ব্যুরো: সারা দেশে আট কোটির বেশি ভোটার এ বারই প্রথম তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। আর স্বাধীনতার পর এ বারই প্রথম সংসদে পৌঁছেছেন এত তরুণ সাংসদ। সারা দেশে মোট ৬৪ জন প্রার্থী এ বার লোকসভায় নির্বাচিত হয়েছেন, যাঁদের বয়স ৪০-এর মধ্যে।

নির্বাচন কমিশনের কাছে জমা দেওয়া প্রার্থীদের হলফনামা থেকে জানা যাচ্ছে বাংলার ৪২ জন সাংসদের মধ্যে এগারো জন অর্থাৎ প্রায় চার ভাগের এক ভাগ সাংসদের বয়স ৪০-এর মধ্যে। যদিও এখানেও তৃণমূলকে পিছনে ফেলে দিয়েছে বিজেপি। ১১ জনের মধ্যে বিজেপি-র ছয় আর তৃণমূলের পাঁচ।

আসুন দেখে নেওয়া যাক এই তরুণ একাদশে রয়েছেন বাংলার কোন সাংসদরা-

রাজু বিস্ত

দার্জিলিং কেন্দ্র থেকে রাজু বিস্ত এ বারই প্রথম প্রার্থী হয়েছিলেন বিজেপি-র টিকিটে। তাঁর বয়স ৩৩ বছর। তৃণমূলের প্রার্থী অমর সিং রাইকে পরাজিত করে সংসদে পৌঁছে গিয়েছেন তিনি। গতবারও দার্জিলিং কেন্দ্র ছিল গেরুয়া শিবিরের দখলে। দিল্লির বাসিন্দা তথা নরেন্দ্র মোদীর স্নেহধন্য রাজুর হাত ধরে এ বারও পদ্মফুল ফুটেছে পাহাড়ের এই কেন্দ্রে।

 

 

নিশীথ প্রামাণিক

কয়েক মাস এগেও নিশীথ ছিলেন কোচবিহার জেলার দাপুটে তৃণমূল নেতা তথা যুব তৃণমূল সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। কিন্তু মাস কয়েক আগেই তাঁকে বহিষ্কার করে তৃণমূল। যোগ দেন বিজেপি-তে। লোকসভায় কাঁটা দিয়ে কাঁটা তোলার ফর্মুলায় কোচবিহারে তাঁকেই প্রার্থী করেন অমিত শাহ অ্যান্ড কোং। দল বদল করেও জিতেছেন তিনি। ৩৩ বছর বয়সে পৌঁছে গিয়েছেন সংসদে।

 

 

সুকান্ত মজুমদার

বালুরঘাট কেন্দ্রকে বহুদিন ধরেই পাখির চোখ করেছিলেন বঙ্গ বিজেপি-র নেতারা। এ বার এই কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী করেছিল গৌরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিদ্যার অধ্যাপক সুকান্ত মজুমদারকে। তৃণমূলের নাট্যকার প্রার্থী অর্পিতা ঘোষকে হারিয়ে এ বার সংসদে গিয়েছেন ৪০ বছর বয়সী সুকান্ত।

 

 

শান্তনু ঠাকুর

৬ নম্বর মুরলীধর সেন লেনের নেতারা অনেক দিন ধরেই ভেবে রেখেছিলেন মতুয়া ভোটে থাবা বসাতে পারলেই এ বার অন্তত দু’তিনটি আসন দখল করা যাবে। হয়েছেও তাই। বনগাঁ এবং রাণাঘাট আসন দখল করেছে গেরুয়া শিবির। বনগাঁ থেকেই জিতেছেন মতুয়া মহাসঙ্ঘের বড়মা প্রয়াত বীণাপাণি দেবীর নাতি শান্তনু ঠাকুর। হারিয়েছেন নিজের জেঠিমা তথা তৃণমূল প্রার্থী মমতাবালা ঠাকুরকে। ৩৭ বছর বয়সী শান্তনু জায়গা করে নিয়েছেন সংসদের তরুণ ব্রিগেডে।

 

সৌমিত্র খান

গতবার বিষ্ণুপুর থেকে তৃণমূলের টিকিটে জিতে সাংসদ হয়েছিলেন। কিন্তু দল তাঁকে বহিষ্কার করায় যোগ দেন বিজেপি-তে। কোচবিহারের নিশীথের মতো তাঁকেই বিষ্ণুপুরে প্রার্থী করে গেরুয়া শিবির। আদালতের নির্দেশে নিজের কেন্দ্রে এক দিনের জন্যও প্রচারে যেতে পারেননি ৩৯ বছরের সৌমিত্র। স্ত্রী সুজাতাই সামলেছেন গোটাটা। রাজ্যের মন্ত্রী শ্যামল সাঁতরাকে এই কেন্দ্রে প্রার্থী করেছিল তৃণমূল। কিন্তু শেষ হাসি হেসেছেন সৌমিত্রই।

 

 

জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো

তৃণমূলের প্রচার যখন মধ্য গগনে, তখন পুরুলিয়ার প্রার্থীর নাম ঘোষণা করে বিজেপি। মুকুল রায় কেন্দ্রীয় নেতাদের বারবার বলেছিলেন, এই কেন্দ্রে মাহাতো নন এমন কাউকে প্রার্থী করলে চলবে না। কারণ ৫২ সালের ভোট থেকে পুরুলিয়া কেন্দ্রে যাঁরা জিতেছেন, তাঁরা প্রত্যেকেই মাহাতো। অনেকটা পরে ২৯ বছর বয়সী জ্যোতির্ময়ের নাম ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় বিজেপি নেতৃত্ব। পিছন থেকে প্রচার শুরু করেও তৃণমূলের মৃগাঙ্ক মাহাতোকে হারিয়ে পার্লামেন্টে পৌঁছে গিয়েছেন জ্যোতির্ময়।

 

 

নুসরত জাহান

অভিনয় জগত থেকে এ বারই তাঁর প্রথম রাজনৈতিক ময়দানে আসা। গতবারের জেতা প্রার্থী ইদ্রিস আলিকে সরিয়ে টলিউডের গ্ল্যামার গার্ল ২৯ বছরের নুসরতকে প্রার্থী করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিজেপি-র সাধারণ সম্পাদক সায়ন্তন বসুকে পরাজিত করে সংসদে গিয়েছেন নুসরত জাহান।

 

 

মিমি চক্রবর্তী

এই অভিনেত্রীরো এ বারই প্রথম ভোটের ময়দানে নামা। সৌজন্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যাদবপুরের মতো একটা ‘প্রেস্টিজিয়াস’ আসনে তাঁকে প্রার্থী করে তৃণমূল। ১৯৮৪ সালে এই কেন্দ্র থেকেই প্রথম বার সিপিএমের সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়কে হারিয়ে সংসদে গিয়েছিলেন মমতা। মিমিও তাই। তাঁর বিরুদ্ধে এ বার সিপিএম প্রার্থী ছিলেন পোড় খাওয়া রাজনীতিক তথা কলকাতার প্রাক্তন মেয়র বিকাশ ভট্টাচার্য ও বিজেপি-র অনুপম হাজরা (গতবার তৃণমূলের বোলপুরের সাংসদ)। ৩০ বছরের মিমির দিকেই সমর্থন উজার করে দিয়েছে যাদবপুরের মানুষ।

 

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়

যুব তৃণমূলের সভাপতি। হেভিওয়েট নেতা। চোদ্দর ভোটেই প্রথম দাঁড়িয়েছিলেন। জিতেছিলেন অভিষেক। ডায়মন্ড হারবার কেন্দ্র থেকে আগের বারের থেকে মার্জিন বাড়িয়ে এ বারও সংসদে গিয়েছেন ৩২ বছরের অভিষেক।

 

 

 

দেব

টলিউডের এই সুপার স্টারকে চোদ্দর ভোটে প্রার্থী করে চমক দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এ বারও তাঁকে ঘাটাল কেন্দ্রেই প্রার্থী করেছিলেন দিদি। প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বিজেপি প্রার্থী তথা পশ্চিম মেদিনীপুরের প্রাক্তন পুলিশ সুপার ভারতী ঘোষ। এক লক্ষের কাছাকাছি ভোটে জিতে সংসদের তরুণ দলে জায়গা করে নিয়েছেন ৩৭ বছর বয়সী এই অভিনেতা।

 

 

অপরূপা পোদ্দার

চোদ্দর ভোটে আরামবাগ কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের হয়ে প্রথম টিকিট পেয়েই জয় পেয়েছিলেন চন্দননগরের ভূমিকন্যা। এ বারও তাঁকে হুগলির এই গ্রামীণ আসনে প্রার্থী করে তৃণমূল। আগেরবার ব্যাপক মার্জিনে সিপিএমের গড় ধুয়ে মুছে সাফ করে দিয়েছিলেন অপরূপা পোদ্দার ওরফে আফরিন আলি। কিন্তু এ বার সুতোর ব্যাবধানে জিতেই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে ৩৩ বছরের অপরূপাকে।

Comments are closed.