ধোনিই বলেছিলেন ভারতের হয়ে আমার কেরিয়ার শেষ হতে চলেছে, জানালেন যুবি

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতীয় ক্রিকেটে দু’জনেরই উত্থান এক সময়ে। যুবরাজ সিংয়ের ভারতীয় ক্রিকেটার হিসেবে কেরিয়ার আগে শুরু হলেও ধোনি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পা রাখার পরে ভারতীয় দলের অধিনায়ক হয়েছিলেন। খেলার মাঠে ও বাইরে দু’জনের বন্ধুত্ব ছিল সর্বজনবিদিত। আর ধোনিই তাঁকে সবার আগে ভবিষ্যতের কথা জানিয়েছিলেন বলে জানালেন যুবরাজ সিং। তাঁর কথায়, ধোনিই তাঁকে সবার আগে জানিয়েছিলেন, তাঁর আন্তর্জাতিক কেরিয়ার শেষ হতে চলেছে।

সম্প্রতি এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে যুবরাজ বলেন, “আমি ঘরোয়া ক্রিকেটে পঞ্জাবের হয়ে ভাল খেলছিলাম। কিন্তু তারপরে ধোনিই আমাকে ঠিক ছবিটা দেখান। ২০১৭ সালের মাঝামাঝি ধোনি আমাকে বলেন ২০১৯ সালের বিশ্বকাপের জন্য নির্বাচকরা আমার কথা ভাবছেন না। আমার কেরিয়ার এবার শেষ হতে চলেছে।”

যুবি আরও বলেন, “ধোনি আমাকে সঠিক ছবিটা দেখিয়েছিলেন। আমার জন্য যা করা সম্ভব তিনি করেছিলেন। কিন্তু কখনও অধিনায়ক হিসেবে সবার হয়ে কথা বলা সম্ভব হয় না। রিকি পন্টিং থেকে শুরু করে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়কেও এটা করতে হয়েছে। সমর্থন করা বা না করা একজনের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। ধোনি আমাকে স্পষ্ট বলেছিলেন। উনি যতটা সম্ভব করেছিলেন।”

২০১১ সাল পর্যন্ত তিনিই দলের প্রধান ক্রিকেটার ছিলেন বলে জানিয়েছেন এই বাঁহাতি অলরাউন্ডার। যুবরাজ বলেন, “২০১১ বিশ্বকাপ পর্যন্ত ধোনির আমার উপর খুব আস্থা ছিল। উনি বলতেন আমিই দলের সেরা ক্রিকেটার। কিন্তু ক্যানসার সারিয়ে ফিরে আসার পরে অনেক কিছুর পরিবর্তন হয়।”

তাঁর এই কেরিয়ার শেষ হওয়ার জন্য ধোনিকে কোনওমতেই দোষ দিতে রাজি নন। যুবি। তিনি বলেন, “এভাবে সব কিছু বিচার করা যায় না। অধিনায়কের কাজ থাকে দলকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। তাই বিশ্বকাপের মতো টুর্নামেন্টে ব্যক্তিগত পছন্দের কোনও দাম থাকে না। কারণ দিনের শেষে সবাই দেখে দল কেমন খেলল। তাই সব অধিনায়কই কিছু ক্রিকেটারকে সমর্থন করে। ক্যানসার থেকে ফিরে আমারই নিজের উপর বিশ্বাস কম ছিল। তাই অন্যদের আমি কোনও ভাবেই দোষ দিতে পারি না।”

কয়েক দিন আগে অবশ্য যুবি জানিয়েছেন, তাঁর শেষটা আরও একটু ভাল হতে পারত। ২০১১ বিশ্বকাপের ম্যান অফ দ্য টুর্নামেন্ট বলেন, “আমি মনে করি আমার কেরিয়ারের শেষদিকে আমার সঙ্গে যেভাবে ব্যবহার করা হয়েছে সেটা ঠিক হয়নি। ওটা খুবই অপেশাদার ছিল। প্রাপ্য সম্মান আমি পাইনি। শেষটা আরও একটু ভাল হলে ভাল লাগত। কিন্তু আমি যদি তাকিয়ে দেখি তাহলে দেখব বীরেন্দ্র সেহওয়াগ, জাহির খান, হরভজন সিংয়ের মতো বড় ক্রিকেটারদের সঙ্গেও একই ঘটনা ঘটেছে। এটা ভারতীয় ক্রিকেটের অঙ্গ। আমি আগেও তা দেখেছি। তাই আমি অবাক হইনি।”

ভারতীয় ক্রিকেটের অনেক অনুরাগীর মতে একটা ফেয়ারওয়েল ম্যাচ প্রাপ্য যুবরাজের। সেই প্রসঙ্গে ভারতের এই অলরাউন্ডার বলেন, “কাউকে ফেয়ারওয়েল ম্যাচ দেওয়া হবে কিনা সেটা আমার হাতে নেই। এটা বিসিসিআইয়ের হাতে রয়েছে। তাই এটা বিসিসিআই ঠিক করবে। আমি নই।”

ভারতের হয়ে ৩০৪টি একদিনের ম্যাচ খেলা যুবরাজ কেরিয়ারে ৮৭০১ রান করেছেন। তার মধ্যে ১৪টি সেঞ্চুরি ও ৫২টি হাফ সেঞ্চুরি রয়েছে। একদিনের কেরিয়ারে ১১১ উইকেট নিয়েছেন তিনি। ২০০৭ টি ২০ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের স্টুয়ার্ট ব্রডকে ছ’বলে ছটা ছক্কা মেরেছিলেন তিনি। ২০১১ বিশ্বকাপে ভারতকে জেতানোর পিছনে অন্যতম সেরা হাত ছিল যুবির। ক্যানসারকে সঙ্গে নিয়েও লড়েছিলেন তিনি। কিন্তু তারপরেও শেষে নিজের প্রাপ্য সম্মান পাননি বলে আক্ষেপ রয়েছে তাঁর।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More