বৃহস্পতিবার, মার্চ ২১

সিডনি, হ্যামিলটন, ওয়েলিংটন! বিশ্বকাপে টপ অর্ডার ব্যর্থ হলে কী হবে? উঠছে প্রশ্ন

দ্য ওয়াল ব্যুরো: হ্যামিলটনের পর এ বার ওয়েলিংটন। হারের নিরিখে রেকর্ড গড়ল ভারত। বিরাট কোহলির ডেপুটি রোহিত শর্মা অধিনায়ক হিসেবে যতই ওয়ান ডে সিরিজ জয়ের ট্রফি তুলুন না কেন, তাঁর অধিনায়কত্বের ক্যাবিনেটে এই হারের কালি লেপে গেল।

বুধবার সিরিজের প্রথম টি টোয়েন্টি ম্যাচে টসে জিতে বল করার সিদ্ধান্ত নেন রোহিত। শুরুতেই ভারতীয় বোলারদের উপর চাপ তৈরি করতে থাকেন দুই ওপেনার কলিন মুনরো ও নতুন খেলতে নামা টিম সেইফার্ট। বেশি বিধ্বংসী দেখালো নতুন সুযোগ পাওয়া এই উইকেট কিপার-ব্যাটসম্যানকে। ৪৩ বলে ৬ ছক্কা ও ৭টি বাউন্ডারির সাহায্যে ৮৪ রানের ধামাকাধার ইনিংস খেললেন সেইফার্ট৷

ওপেনিং জুটিতে ৮.২ ওভারে ৮৬ রান তোলে নিউজিল্যান্ড৷ ২০ বলে ৩৪ রান করে অন্য ওপেনার কলিন মুনরো৷ ঝোড়ো ইনিংসে ২টি ছক্কা ও দু’টি বাউন্ডারি মারেন তিনি৷ ক্যাপ্টেন কেন উইলিয়মানসন ওয়ান ডে সিরিজে চেনাছন্দে না-থাকলেও এদিন ২২ বলে তিন ছক্কায় ৩৪ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন৷ এছাড়া রস টেলর ১৪ বলে ২৩ এবং স্কট কুগেলিন ৭ বলে ২০ রানের ক্যামিও ইনিংস খেলেন৷ ৩টি বাউন্ডারি ও একটি ছয় মারেন কিউয়ি অল-রাউন্ডার৷ ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ২১৯ রান তোলে কিউয়ি বাহিনী৷ ভারতের বিরুদ্ধে এটাই নিউজিল্যান্ডের সর্বোচ্চ টি-২০ স্কোর৷

রান তাড়া করতে নেমে চার বল বাকি থাকতে দেড়শোর আগেই গুটিয়ে যায় ভারতীয় ইনিংস৷ ধোনি কিছুটা লড়াই করলেও বাকিরা চূড়ান্ত ব্যর্থ৷ ইনিংসের সর্বোচ্চ ৩৯ রান করেন ধোনি৷ ৩১ বলের ইনিংসে পাঁচটি বাউন্ডারি ও একটি ছক্কা মারেন মাহি৷ এছাড়া শিখর ধাওয়ান ২৯, বিজয়শংকর ২৭ এবং ক্রুনাল পান্ডিয়া ২০ করেন৷ পাঁচ বল খেলে মাত্র এক রান করে ডাগ-আউটে ফেরেন অধিনায়ক৷ ১৮ রানে ওপেনিং জুটি ভাঙার পর কিউয়ি বোলারদের সামনে নিয়মিত উইকেট হারাতে থাকে ভারত৷ চার ওভারে মাত্র ১৭ রান খরচ করে ৩টি উইকেট নেন টিম সাউদি৷

৮০ রানের বিশাল ব্যবধানে ম্যাচ হারে ভারত। টি টোয়েন্টি ক্রিকেটের ইতিহাসে এটাই ভারতের সবথেকে বড় ব্যবধানে হার। এর আগে হ্যামিলটনে চতুর্থ ওয়ান ডে ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করে মাত্র ৯২ রানে গুটিয়ে গিয়েছিল ভারত। ২১২ বল বাকি থাকতে সেই রান তুলে নিয়েছিল নিউজিল্যান্ড। বলের নিরিখে সেটা ছিল ভারতের সবথেকে বাজে হার।

অস্ট্রেলিয়াতে টেস্ট ও ওয়ান ডে সিরিজ জিতেছে ভারত। টি টোয়েন্টি সিরিজও ড্র হয়েছে। তারপর নিউজিল্যান্ডে পা দিয়েও ৪-১ ব্যবধানে ওয়ান ডে সিরিজ জিতেছে টিম ইন্ডিয়া। বিদেশের মাঠে ভারতের এই পরিসংখ্যান দেখে বলা যেতেই পারে বিশ্বকাপের জন্য দল তৈরি। কিন্তু হ্যামিলটন, ওয়েলিংটন ও অস্ট্রেলিয়াতে সিডনি ওয়ান ডে’তে হার কিন্তু একটা জিনিস কমন। তিনটে ম্যাচেই ভারতের টপ অর্ডার ব্যর্থ হয়েছিল।

প্রত্যেকদিন রোহিত, শিখর, বিরাট খেলে দেবেন, তা হয় না। যে দিন তাঁরা ব্যর্থ হবেন, ভারতের মিডল ও লোয়ার মিডল অর্ডারের কি ক্ষমতা আছে ভারতকে জেতানোর। মহেন্দ্র সিং ধোনি ফর্মে ফিরেছেন। অম্বাতি রায়ুডু, কেদার যাদন, দীনেশ কার্তিক সুযোগ পেলে খেলে দিচ্ছেন। কিন্তু তাঁরা এখনও সেভাবে পরীক্ষিত নন। বিশ্বকাপ জিততে হলে কিন্তু ১১ জনেরই অবদান সমান থাকা দরকার। ২০১১ সালে সেটাই হয়েছিল। এ বার কী হবে? সত্যিই কি টিম ইন্ডিয়া তৈরি বিশ্বকাপ ঘরে আনার জন্য?

আরও পড়ুন 

‘আমি ইচ্ছা করেই রবার্টকে ছাড়তে গিয়েছিলাম’, দায়িত্ব নিয়েই স্ট্রেট ব্যাটে লড়াইয়ের ইঙ্গিত প্রিয়ঙ্কার

Shares

Comments are closed.