বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ১৪

বোর্ডের মসনদে সৌরভ, কপালে ভাঁজ শাস্ত্রীর

দ্য ওয়াল ব্যুরো: দু’জনের সম্পর্কের কথা অজানা নয় কারও। প্রকাশ্যে একে অন্যের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন বহুবার। তিক্ততা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে দু’জনের মুখোমুখি আলাপচারিতাও প্রায় নেই। সেই দু’জনই এখন ভারতীয় ক্রিকেটের সর্বোচ্চ দুই পদে আসীন। একজন ভারতীয় দলের কোচ রবি শাস্ত্রী। অন্যজন সদ্য বিসিসিআই প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়া সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। সৌরভ বোর্ড প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর থেকেই তাই আলোচনার শিরোনামে তাঁরা।

সৌরভ-শাস্ত্রী দ্বৈরথের শুরু ২০১৬ সালে। তখন বোর্ডের উপদেষ্টা কমিটির প্রধান ছিলেন সৌরভ। তিনি ছাড়াও সেই কমিটিতে ছিলেন শচীন তেণ্ডুলকর ও ভিভিএস লক্ষণ। ডানকান ফ্লেচার ভারতীয় দলের কোচের পদ ছেড়ে দেওয়ার পর এক বছর দলের টেকনিক্যাল ডিরেক্টরের পদে ছিলেন রবি শাস্ত্রী। তারপর ২০১৬ সালে কোচ নির্বাচন প্রক্রিয়ায় আবেদন করেন তিনি। কিন্তু সৌরভের নেতৃত্বাধীন কমিটি কোচ হিসেবে নির্বাচন করেন অনিল কুম্বলেকে। এই নির্বাচনের পরেই প্রকাশ্যে রবি শাস্ত্রী বলেছিলেন, সৌরভের জন্যই কোচের পদ পাননি তিনি। তার জবাবে দাদা বলেন, কোচ হতে গেলে উপস্থিত থেকে ইন্টারভিউ দিতে হয় ( প্রসঙ্গত, রবি শাস্ত্রী ইন্টারভিউ দিয়েছিলেন ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে )।

এক বছর পর অনিল কুম্বলে কোচের পদ থেকে পদত্যাগ করার পর অবশ্য শাস্ত্রীকেই কোচ বেছে নেন সৌরভদের কমিটি। তারপর শাস্ত্রী বলেছিলেন, তাঁদের মধ্যেকার বিভেদ মিটে গিয়েছে। কারণ বর্তমানে তাঁদের দু’জনেরই লক্ষ্য এক। ভারতীয় ক্রিকেটের উন্নতি। রবি শাস্ত্রী যতই এই কথা বলুন না কেন, দু’জনের বিভেদ কিন্তু মেটেনি বলেই খবর ঘনিষ্ঠ মহলের।

আর তাই সৌরভের নাম বোর্ড প্রেসিডেন্ট হিসেবে ঘোষণা হতেই নেট দুনিয়ায় শুরু হয়েছে ট্রোলিং। সবার বক্তব্য প্রেসিডেন্ট হওয়া মানে দল নির্বাচন থেকে শুরু করে ম্যানেজমেন্ট, সব ক্ষেত্রেই সৌরভের কথার গুরুত্ব থাকবে। সে ক্ষেত্রে সব বিষয়ে শাস্ত্রীর সঙ্গে তাঁর মত না মিলতেই পারে। আর সেরকম হলেই শুরু হবে বিবাদ। ২০২০ সালে টি ২০ বিশ্বকাপ। সেখানেও দুই প্রাক্তন অধিনায়কের মতের পার্থক্য হতে পারে।

বোর্ডের অন্দরেই গুঞ্জন, এতদিন সব ব্যাপারে শাত্রী-কোহলি জুটির সিদ্ধান্তই হত শেষ কথা। নির্বাচকরাও কিছু বলতে পারতেন না। কিন্তু সৌরভ বরাবরই স্পষ্টবাদী। তাই তিনি নিজের মত রাখবেনই। সে ক্ষেত্রে সমস্যায় পড়তে হতে পারে রবি শাস্ত্রীকে। সৌরভের বোর্ড প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর থেকেই কপালে ভাঁজ পড়তে শুরু করেছে রবি শাস্ত্রীর।

পড়ুন, দ্য ওয়ালের পুজোসংখ্যার বিশেষ লেখা…

গান্ধীজির ট্যাঁকঘড়িটা চুরি গেল

Comments are closed.