‘শাস্তি দিলেও কুছ পরোয়া নেই’, ম্যাচ রেফারির ঘরে গিয়ে আম্পায়ারের বিরুদ্ধে ক্ষোভপ্রকাশ কোহলির

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বর্তমানের টেকনোলজির যুগে ক্যামেরার চোখ এড়িয়ে যাওয়ার ক্ষমতা কিছুরই নেই। সে ঠিকমতো ক্যাচ নেওয়াই হোক, কিংবা বল বিকৃতির চেষ্টা। সবকিছু ধরা পড়ে যায় ক্যামেরাতে। এই প্রযুক্তির সুবিধা থাকা সত্ত্বেও আইপিএল-এর মতো হাই প্রোফাইল টুর্নামেন্টে কিনা এই ভুল! তাও আবার এমন সময়, যাতে খেলার ফলই পাল্টে যেতে পারত। আর এ হেন ভুলের পর কারই বা মাথা ঠিক থাকে। নিজের রাগ-হতাশা চেপে রাখতে পারেননি বিরাট কোহলিও। সরাসরি ম্যাচ কমিশনারের কাছে গিয়ে অভিযোগ জানিয়ে এসেছেন তিনি। এমনকী বলেছেন, এতে যদি তাঁকে কোনও শাস্তি পেতে হয়, কুছ পরোয়া নেই।

ঘটনাটি রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর সঙ্গে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের খেলার শেষ ওভারের। শেষ বলে জয়ের জন্য বেঙ্গালুরুর দরকার ছিল ৭ রান। বল করছিলেন মালিঙ্গা। ব্যাটে ছিলেন শিবম দুবে। শেষ বলে লং অনে শট মারেন দুবে। হার নিশ্চিত জেনে আর রান নেননি। মুম্বই ৬ রানে ম্যাচ জিতে যায়। রোহিত শর্মারা উৎসব শুরু করেন। অন্যদিকে বিরাট কোহলি তখন বিষন্ন। ঘরের মাঠে হেরে যাওয়ার পর পুরো বেঙ্গালুরু দল তখন মাঠে নেমেছে। মুম্বই দল অবশ্য প্যাভিলিয়নে ফিরে গেছে। আর তখনই জায়ান্ট স্ক্রিনে দেখা গেল সেই ঘটনা।

শেষ বলে মালিঙ্গার পা পপিং ক্রিজের বাইরে পড়েছিল। অর্থাৎ পরিষ্কার নো বল। আম্পায়ার এস রবির চোখ এড়িয়ে যায় এই ঘটনা। তাৎপর্যের ব্যাপার, থার্ড আম্পায়ারও আগে সেটা দেখেননি। এই নো বল হলে খেলার ফলই বদলে যেতে পারত। কারণ আম্পায়ার নো বল ডাকলে ১ রান অবশ্যই নিতেন শিবম দুবে। নো বলের জন্য অতিরিক্ত ১ রান হত। অর্থাৎ শেষ বলে দরকার থাকত ৫ রান। স্ট্রাইক থাকত ডিভিলিয়ার্সের হাতে। তিনি তখন ৭১ রানে ব্যাট করছিলেন। তারমধ্যে শেষ বলে ফ্রি হিট হত। ফলে ম্যাচ জিতেও যেতে পারত কোহলির দল। আর সে জন্যই আরও বেশি হতাশ দেখা যায় কোহলিকে।

পুরস্কার মঞ্চে এসে বিরাট বলেন, “এটা আইপিএল খেলা। কোনও পাড়া স্তরের খেলা নয়। আম্পায়ারদের আরও বেশি সতর্ক হওয়া উচিত ছিল। এই ধরণের সিদ্ধান্তের ফলে খেলার ফলাফলই বদলে যায়।” শুধু এখানেই থেমে থাকেননি কোহলি। পুরস্কার মঞ্চের পর সোজা চলে যান ম্যাচ রেফারি মনু নায়ারের ঘরে। সেখানে গিয়ে নিজের হতাশা ও রাগ প্রকাশ করেন তিনি। এমনকী কোহলি এও জানান, আম্পায়ারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করার ফলে যদি তাঁকে কোনও রকমের শাস্তি দেওয়া হয়, তাতেও তাঁর কিছু এসে যায় না।

অবশ্য এ ব্যাপারে কোহলি পাশে পেয়েছেন বর্তমান ও অতীতের অনেক ক্রিকেটারকেই। মুম্বই অধিনায়ক রোহিত শর্মা বলেছেন, “জায়ান্ট স্ক্রিনে রিপ্লে দেখানোর আগেই আমরা প্যাভিলিয়নে ফিরে গিয়েছিলাম। কিন্তু এর আগেও বুমরাহর বলে একটি ওয়াইডের সিদ্ধান্ত ভুল দিয়েছিলেন আম্পায়ার।” রোহিত ছাড়াও মাইকেল ক্লার্ক, মাইকেল ভন, কেভিন পিটারসন, সঞ্জয় মঞ্জরেকরের মতো প্রাক্তন ক্রিকেটার ও হর্ষ ভোগলের মতো ধারাভাষ্যকাররাও এই ঘটনার নিন্দে করেছেন।

এখন দেখার আইপিএল-এর গভর্নিং বডি এই বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিয়ে হস্তক্ষেপ করে কিনা। অন্যদিকে আম্পায়ারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ জানানোর ফলে বিরাট কোহলির বিরুদ্ধে ম্যাচ রিপোর্টে রেফারি কিছু অভিযোগ জানান কিনা সেটাও দেখার।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More