রবিবার, সেপ্টেম্বর ২২

ধডরাশোল থেকে ইস্টবেঙ্গল, ড্রিবল করে এগিয়ে যাচ্ছেন পিন্টু

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ক্লাবের শতবর্ষ উপলক্ষে ইস্টবেঙ্গল এ বার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সবচেয়ে পুরনো যে জার্সিটার সন্ধান পাওয়া যাবে, সেটাই হবে এ মরসুমের জার্সি। ১৯২৫ সালের জার্সি খুঁজে পেয়েছেন ইস্টবেঙ্গল কর্তারা। গোটাটা লাল, জার্সির ডান হাতা থেকে বুক হয়ে বাঁ হাতা পর্যন্ত একটা চওড়া হলুদ স্ট্রাইপ। গত ২৯ তারিখ বিকেলে ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের প্রেস কনফারেন্স রুমে সেই জার্সির উন্মোচন করেছে ইস্টবেঙ্গল। হোম এবং অ্যাওয়ে জার্সি পড়ে সাংবাদিকদের সামনে এসে দাঁড়িয়েছিলেন পিন্টু মাহাতো এবং সামাদ আলি মল্লিক।

সামাদ যেহেতু ইস্টবেঙ্গলে পুরনো, তাই চোখ টেনে নিয়েছিলেন পিন্টুই। বাগান থেকে লাল-হলুদে আসা। তাই বাড়তি উৎসাহ ছিল। এখনও গ্রাম্য আড়ষ্ঠতা কাটেনি ২২ বছরের ছেলেটার। ক্যামেরার ফ্ল্যাশ বাল্বের সামনে লাজুক হয়ে পড়লেন। সেটা সামলেই জার্সির লোগোতে চুমু খেলেন। আর পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ইস্টবেঙ্গল কর্তা নিতু সরকার আদর করেই পিন্টুর পিঠে চাপড় মেরে বললেন, “গোল করতে হবে কিন্তু!”

প্রথম ম্যাচে কোচ তাঁকে শুরু থেকে নামাননি। দ্বিতীয়ার্ধের বেশ কিছুটা পরের দিকে মাঠে নেমেছিলেন। কিন্তু তেমন ঝলক দেখেনি ইস্টবেঙ্গল জনতা। মঙ্গলবার ডুরান্ডের দ্বিতীয় ম্যাচে আলেজান্দ্রো মেনেন্ডেজ প্রথম একাদশে রেখেছিলেন পিন্টুকে। গোটা ম্যাচটা খেললেন। গোল করলেন। টিমটাকে খেলালেন। এবং ম্যাচের সেরাও হলেন।

পিন্টু মাহাতো। পশ্চিম মেদিনীপুরের গুড়গুড়িপাল থানার ধডরাশোল গ্রামের পিন্টু মাহাতো। যাঁকে প্র্যাকটিসে যেতে হত ১৮ কিলোমিটার সাইকেল চালিয়ে। যে ছেলেটা প্র্যাক্টিসে যেতে যেতে দেখত যৌথ বাহিনীর রুট মার্চ। মেদিনীপুর শহরের রাঙামাটি স্পোর্টিং-এ সুযোগ পাওয়ার পর যেতে চাইত না মাঠে। ভয় পেত ওই জলপাই পোশাক। ভয় পেত রাইফেল দেখে। জঙ্গলমহল অশান্ত, তখন গ্রামের মাঠেই নিজের পায়ে বলকে বশ করে নিত পিন্টু। তারপর মোহনবাগান অনূর্ধ ১৪ দল।

বাবা সুধীর মাহাতো চাষি। মা বালিকা মাহাতো গৃহবধূ। অভাব ছিল সংসারে। কিন্তু ড্রিবল করে এগিয়েছেন পিন্টু। অভাব বুঝতে দেননি বাবা। উৎসাহ দিয়েছেন ছেলেকে। গত মরসুমে সবুজ-মেরুন জার্সিতে বাগানে ফুল ফুটিয়েছেন। গোল করেছেন বড় ম্যাচেও। মেহেতাব হোসেনের ভক্ত সেই পিন্টুই এ বার ইস্টবেঙ্গলে।

জামশেদপুরকে ছ’গোল দিয়েছে ইস্টবেঙ্গল। কিন্তু ইস্টবেঙ্গল মাঠ ফেরত জনতার মুখে একটাই নাম, পিন্টু মাহাতো। আর ময়দানের ঘাত প্রতিঘাত দেখা অনেকেই বলছেন, এমন প্রতিভা কম আসেনি। শঙ্কর ওঁরাও, জিতেন মুর্মু, বুধিরাম টুডুর মতো খেলোয়াড়রা উঠে এসেছিলেন অভাবের আদিবাসী ঘর থেকেই। কিন্তু হারিয়ে গিয়েছেন। পিন্টুর জন্য তাই ময়দানের প্রার্থনা, ছেলেটা যেন হারিয়ে না যায়। ছেলেটা যেন মাঠে থাকে।

 

Comments are closed.