শুক্রবার, ডিসেম্বর ১৪

পড়ল ৪০ উইকেট, সব স্পিনারদের দখলে! বিরল কীর্তি বাংলাদেশের

দ্য ওয়াল ব্যুরো : দুই টেস্টের সিরিজ। বিপক্ষের ৪০ উইকেট পড়ল। অথচ একটাও উইকেট পেলেন না পেস বোলাররা। হলো না কোনও রানআউটও। ৪০ টি উইকেটই দখল করলেন স্পিনাররা। টেস্ট ক্রিকেটের ১৪১ বছরের ইতিহাসে প্রথম ঘটল এই ঘটনা। করে দেখালেন ১১ বাঙালির দল, বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ২ টেস্টের সিরিজ চলছিল। প্রথম টেস্টে চট্টগ্রামে ৬৪ রানে জেতে বাংলাদেশ। সেই ম্যাচেও ২০ টি উইকেটই নেন বাংলাদেশের স্পিনাররা। অধিনায়ক শাকিব-আল হাসান ৫ টি, নঈম হাসান ৫ টি, তাইজুল ইসলাম ৭ টি ও মেহেদি হাসান মিরাজ ৩ টি উইকেট নেন। একমাত্র পেস বোলার মুস্তাফিজুর রহমান দুই ইনিংস বল করেও একটি উইকেট পাননি।

আরও পড়ুন চাপে মত বদল! পরের বছর নয়, এ বছর নকআউট থেকেই চ্যাম্পিয়নস লিগে VAR

সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ঢাকাতে দলে একজন পেস বোলারও রাখেনি বাংলাদেশ ম্যানেজমেন্ট। মুস্তাফিজুর রহমানের জায়গায় একজন অতিরিক্ত ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলানো হয় লিটন দাসকে। প্রথম ইনিংসে ৫৪৪ রানের পাহাড় করার পর ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ফলো অন করাতে বাধ্য করে বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে মেহেদি হাসান মিরাজ একাই ৭ টি উইকেট নেন। ৩ টি উইকেট নেন শাকিব। টেস্ট ক্রিকেটের মর্যাদা পাওয়ার পর ১৮ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম কোনও দলকে ফলো অন করালো বাংলাদেশ।

ফলো অনের পর দ্বিতীয় ইনিংসেও এক হাল। ব্যাটিং ব্যর্থতায় ইনিংস ও ১৮৪ রানে হারে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। দ্বিতীয় ইনিংসে ৫ টি উইকেট নিয়ে মোট ১২ টি উইকেট নেন মেহেদি। শাকিব ৪ টি, তাইজুল ইসলাম ৩ টি ও নঈম হাসান ১ টি উইকেট নিয়েছেন। দুই টেস্ট মিলিয়ে সর্বোচ্চ ১৫টি উইকেট পেলেন বাংলাদেশি স্পিনার মেহেদি হাসান মিরাজ। বাঁ হাতি স্পিনার তাইজুল ইসলাম পেয়েছেন ১০টি উইকেট। এই দুই টেস্টে যথাক্রমে ৯টি ও ৬টি উইকেট পেয়েছেন বাংলাদেশি অধিনায়ক শাকিব আল হাসান এবং ১৮ বছরের তরুণ নঈম হাসান।

এই জয়কে স্মরণীয় বলেই আখ্যা দিয়েছেন বাংলাদেশি অধিনায়ক শাকিব। তাঁর কথায়, “আমরা কোনও দুর্বল প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে এই বিরাট জয় অর্জন করিনি। তালিকায় আমাদের  থেকে উচুতে থাকা দলের বিরুদ্ধে এই সাফল্য সত্যিই স্পেশাল”। এই জয়ের ফলে উৎসবের আবহ বাংলাদেশ জুড়ে। ১১ বাঙালির কীর্তিকে সেলাম জানাচ্ছে ক্রিকেট দুনিয়াও।

The Wall-এর ফেসবুক পেজ লাইক করতে ক্লিক করুন 

Shares

Comments are closed.