বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ১৪

সাড়ে ৯টায় ব্রিজেশকে শুভেচ্ছা জানিয়েছিলাম, এক ঘণ্টা পর শুনলাম আমি প্রেসিডেন্ট: সৌরভ

দ্য ওয়াল ব্যুরো: এ ভাবেও ফিরে আসা যায়। রবিবার সন্ধেবেলা মুম্বইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে খবরটা ছড়িয়ে পড়েছিল। বোর্ডের নতুন প্রেসিডেন্ট হতে চলেছেন প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট নারায়ণস্বামী শ্রীনিবাসনের পছন্দের ব্রিজেশ পটেল। কিন্তু ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই ঘুরে যায় খেলা। দেশের ক্রিকেট বোর্ডের মসনদে বসেন প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। অথচ তিনি নাকি জানতেনই না প্রেসিডেন্ট হচ্ছেন। এমনকি ব্রিজেশ পটেলকে নাকি প্রেসিডেন্ট হওয়ার আগাম শুভেচ্ছাও জানিয়েছিলেন সৌরভ।

বোর্ডের প্রেসিডেন্ট হিসেবে মনোনয়ন জমা দেওয়ার পর এক সাক্ষাৎকারে এমনটাই জানিয়েছেন মহারাজ। সৌরভ বলেন, “আমি জানতামও না প্রেসিডেন্ট হব। আমি এসেছিলাম সিএবিকে রিপ্রেসেন্ট করতে। সাড়ে ৯টা নাগাদ জানতে পারি ব্রিজেশ পটেল প্রেসিডেন্ট হচ্ছেন। আমি ওঁকে শুভেচ্ছাও জানাই। বলি সবসময় পাশে আছি। তার এক ঘণ্টা পরেই জানতে পারি আমি প্রেসিডেন্ট হচ্ছি।”

তবে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেওয়ার আগেই নিজের পরিকল্পনা ঠিক করে ফেলেছেন সৌরভ। কীভাবে রঞ্জি স্তর থেকে ভালো ক্রিকেটার তুলে আনতে হবে সে কথা বলেন তিনি। ক্রিকেট বোর্ডের মধ্যে স্বচ্ছতা আনার প্রতিশ্রুতিও দেন সৌরভ। বলেন “সবাই মিলে কাজ করব। আমি তো সিএবি প্রেসিডেন্ট ছিলাম। সুতরাং প্রশাসনিক কাজ আমার জানা। সেটাকেই এ বার আরও বড় পর্যায়ে করতে হবে।”

কিন্তু কীভাবে হল এই উলটপুরান?

বোর্ডের ভিতরের খবর, সৌরভকে প্রেসিডেন্ট করার শ্রেয় যাচ্ছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তথা বিজেপি সভাপতি তথা গুজরাত ক্রিকেট আসোসিয়েশনের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট অমিত শাহের উপর। শ্রীনির প্রার্থী ব্রিজেশ পটেল সভাপতি হচ্ছেন জানতে পেরেই অসমের স্বাস্থ্যমন্ত্রী হেমন্ত বিশ্বশর্মাকে ফোন করেন অমিত। তাঁকে নির্দেশ দেন শ্রীনিবাসনকে ফোন করে জানাতে যে ব্রিজেশ নন, সভাপতি হবেন সৌরভ। তারপরেই নাকি কোনও প্রতিদ্বন্দ্বী ছাড়াই প্রেসিডেন্টের জন্য উঠে আসে সৌরভের নাম।

সৌরভের জীবনটা তো চিরকাল এ ভাবেই কাকতালীয়ভাবেই এগিয়েছে। ভারতীয় ক্রিকেটের টালমাটাল পরিস্থিতিতে অধিনায়কের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল তাঁকে। আবার অধিনায়ক থাকাকালীন দল থেকে সে ভাবেই বাদ পড়েন। কামব্যাকও করেন মহারাজের মতোই। এ বারে বোর্ডের মসনদেও বসলেন এক ঘণ্টার থ্রিলারে।

পড়ুন, দ্য ওয়ালের পুজোসংখ্যার বিশেষ লেখা…

গান্ধীজির ট্যাঁকঘড়িটা চুরি গেল

Comments are closed.