রবিবার, মার্চ ২৪

শিলিগুড়ির সেই রাত যুবভারতীতে ফিরিয়ে আনতে চান সনি

দ্য ওয়াল ব্যুরো: সালটা ২০১৭, ৯ এপ্রিল। শিলিগুড়ির কাঞ্চনজঙ্ঘা স্টেডিয়ামে প্রায় ২৫ গজ দূর থেকে নেওয়া ফ্রিকিক বাঁক খেয়ে লাল-হলুদ গোলকিপার রেহেনেশকে পরাস্ত করে জড়িয়ে গেল জালে। ডার্বিতে নিজের প্রথম গোল করে ইস্টবেঙ্গল গ্যালারির দিকে এগিয়ে গেলেন সনি নর্ডি। মেশিনগান চালানোর মতো করে নিজের গোল সেলিব্রেট করলেন হাইতিয়ান তারকা। সেই শুরু। পরের দু’বছরে বাগান জনতার হার্টথ্রব হয়ে উঠলেন সনি।

সে দিনের ডার্বি আর আগামীকাল যুবভারতীতেতে আই লিগের ফিরতি ডার্বিতে অনেক তফাৎ। সে দিন সনি ও আজহারউদ্দিনের গোলে ইস্টবেঙ্গলকে ২-১ গোলে হারিয়েছিল মোহনবাগান। তারপর একটা দীর্ঘ সময় ধরে ডার্বিতে আধিপত্য রেখেছে সবুজ-মেরুন ব্রিগেড। পরিসংখ্যান বলছে ৩৩ মাস অধরা ছিল ইস্টবেঙ্গলের জয়। হয় খেলা ড্র হয়েছে। নয়তো মোহনবাগান জিতেছে। কখনও সনি, কখনও আজহার, কখনও বা ডিকা, কখনও আবার গোলের নীচে দেবজিৎ মজুমদার, নায়ক হয়ে উঠেছেন। লিগ না পেলেও এই ক’বছরে ডার্বির রং ছিল সবুজ-মেরুন।

চলতি মরসুমেও কলকাতা লিগে ২-২ গোলে অমীমাংসিত শেষ হয় ডার্বি। আট বছরের খরা কাটিয়ে কলকাতা লিগ পেলেও ডার্বি জিততে না পারায় কিছুটা আক্ষেপ ছিল মোহন জনতার। আই লিগে সেই আক্ষেপ সুদে-আসলে উশুল করে নিতে চেয়েছিলেন। বাগান সমর্থকদের আশা কয়েক গুণ বেড়ে যায়, যখন চোট সারিয়ে ফিরে দলের সঙ্গে যোগ দেন সনি নর্ডি।

কিন্তু ১৬ ডিসেম্বর, ২০১৮ দিনটা ভালো হলো না সবুজ-মেরুন সমর্থকদের জন্য। শুরুতে আজহারউদ্দিনের গোলে এগিয়ে গেলেও কেমন যেন হারিয়ে গেলেন ডিকারা। মাঝমাঠের দখল নিয়ে আক্রমণ করলো ইস্টবেঙ্গল। আর তাতে চাপে পড়ে পরপর তিন গোল হজম করতে হলো বাগানকে। শেষ দিকে ডিকা ব্যবধান কমালেও তাতে কোনও লাভ হয়নি। ৩৩ মাস পরে ডার্বিতে হারের লজ্জা নিয়ে বাড়ি ফেরেন হাজার হাজার মোহন জনতা। সঙ্গে গোদের উপর বিষফোঁড়া, অধিনায়ক কিংসলের শিশুসুলভ লাল কার্ড দেখা।

এই ডার্বিতে হারের পর থেকেই বেশ কয়েকটা ম্যাচে খারাপ খেলে মোহনবাগান। ঘরের মাঠে আসছিল না জয়। বাইরে গিয়ে জয় তুললেও ঘরের মাঠে পয়েন্ট নষ্টের খেসারত দিতে হয় দলকে। লিগের লড়াইয়ে অনেকটাই পিছিয়ে পড়ে ডিকা-হেনরিরা। রিয়েল কাশ্মীরের কাছে হারের পর সমালোচনার মুখে পড়ে দায় মাথায় নিয়ে পদত্যাগ করেন মোহনবাগানকে ঘরোয়া লিগ দেওয়া কোচ শঙ্করলাল চক্রবর্তী। বাগান কর্তারা তড়িঘড়ি কোচ করে আনেন আই লিগ জয়ী ও প্রাক্তন লাল-হলুদ কোচ খালিদ জামিল।

খালিদ কোচ হিসেবে আসার পর পরপর দুই ম্যাচে জয় এসেছে মোহনবাগানের। দল নির্বাচন থেকে শুরু করে পরিকল্পনা, সব ক্ষেত্রেই নতুনত্ব এনেছেন খালিদ। সৌরভ চক্রবর্তীর জায়গায় বড় চেহারার ড্যারেন ক্যালডেইরাকে খেলাচ্ছেন। গোলে ফিরেছেন অভিজ্ঞ শিল্টন পাল। ওমর অনেক বেশি দায়িত্ব নিয়ে খেলছেন। সর্বোপরি চোট সারিয়ে দলে ফিরেছেন সনি। গোলের মধ্যে রয়েছেন এই হাইতিয়ান তারকা। আগের সেই দৌড় না থাকলেও এখনও স্কিল একই রকম রয়েছে।

রবিবারের ডার্বি মোহনবাগানের দৃষ্টি থেকে মূলত দু’জনের জবাব দেওয়ার ম্যাচ। একদিকে খালিদ জামিল। আইজলকে আই লিগ দেওয়ার পর খালিদকে কোচ হিসেবে এনেছিলেন লাল-হলুদ কর্তারা। কিন্তু সেই মরসুমে আই লিগে ব্যর্থ হওয়ায় খালিদকে ছেঁটে ফেলা হয়। তাই রবিবার এই কোচের কাছে জবাব দেওয়ার সুযোগ। দেখিয়ে দেওয়ার সুযোগ, তিনিও বড় দলের কোচিংয়ের দায়িত্ব সামলাতে পারেন। নিজের মগজাস্ত্র দিয়ে ঘায়েল করতে পারেন বিপক্ষের হাই প্রোফাইল স্প্যানিশ কোচকে।

বদলার ম্যাচ সনি নর্ডিরও। তিনি মোহনবাগান ছেড়ে গত মরসুমে চলে যাওয়ার সময় অনেক লাল-হলুদ সমর্থক আক্ষেপ করে বলেছিলেন, সনির মেশিনগান সেলিব্রেশনের বদলা বাকি থেকে গেল। এমনকী রবিবারের ম্যাচে সনি নামলে বিপক্ষের সমর্থকরা তৈরি থাকবেন তাঁকে জবাব দেওয়ার জন্য।

তৈরি থাকবেন সনিও। ‘১৭ সালের ৯ এপ্রিলের কাঞ্চনজঙ্ঘা স্টেডিয়ামকে যুবভারতীতে নামিয়ে আনার জন্য। কারণ চোট সারিয়ে ফেরার পরেও অনেক কটাক্ষ শুনতে হয়েছে তাঁকে। কেউ বলেছেন, জোর করে দলে নেওয়া হয়েছে তাঁকে। কেউ বলেছেন সনি এখন চোট পাওয়া ঘোড়া। আগের সেই তেজ আর নেই। তিনি যে এখনও ফুরিয়ে যাননি, সেটা দেখানোর জন্য রবিবারের যুবভারতীর থেকে ভালো মঞ্চ আর কীই বা হতে পারে। আর চ্যাম্পিয়নরা তো বেছে নেন বড় মঞ্চকেই। চাপের মধ্যেই নিজেকে প্রমাণ করতে মুখিয়ে থাকেন তাঁরা।

কে বলতে পারে, কাল হয়তো যুবভারতীকে ফের দেখা যাবে ২৫ গজ দূর থেকে গোলার মতো ফ্রিকিক। ফের দেখা যাবে গোল করে মেশিনগান সেলিব্রেশন। সবুজ-মেরুন জনতাও তাকেই সে দিকেই।

আরও পড়ুন-

সনিকে মাঠে রেখেই মেশিনগানের বদলা চায় ইস্টবেঙ্গল জনতা

Shares

Comments are closed.