সোমবার, অক্টোবর ২১

ম্যানেজমেন্টের হাতে-পায়ে ধরতে হয়েছিল, রীতিমতো ভিক্ষে করেছিলাম, মুখ খুললেন শচীন

দ্য ওয়াল ব্যুরো : স্যার ডন ব্র্যাডম্যানের পর তাঁকেই বিশ্বক্রিকেটের শ্রেষ্ঠ ব্যাটসম্যান বলা হয়। টেস্ট ও একদিনের ক্রিকেটে সবথেকে বেশি রান, সবথেকে বেশি সেঞ্চুরির রেকর্ডও তাঁর। ওপেনিং ব্যাটসম্যানদের আদর্শ তিনি। অথচ এ হেন শচীন তেণ্ডুলকরকেই নাকি ওপেনার হিসেবে খেলার জন্য হাতে-পায়ে ধরতে হয়েছিল টিম ম্যানেজমেন্টের। তবেই সুযোগ মেলে। আর সুযোগ মেলার পরে পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি তাঁকে।

সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও শেয়ার করেছেন মাস্টার ব্লাস্টার। সেই ভিডিওতে নিজের কেরিয়ারের এই কাহিনী বলেছেন তিনি। ১৯৮৯ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক ঘটলেও ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত শচীন ছিলেন মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান। ১৯৯৪ সালে নিউজিল্যান্ড সফরে গিয়েই ছবিটা বদলায়।

শচীন জানিয়েছেন, “আমি ভাবতাম আমি ওপেনার হিসেবে নেমে বিপক্ষের ব্যাটসম্যানদের বিরুদ্ধে আগ্রাসী মনোভাব নিয়ে খেলব। কিন্তু তার জন্য আমাকে ম্যানেজমেন্টের হাতে-পায়ে ধরতে হয়েছিল। রীতিমতো ভিক্ষে করতে হয়েছিল। আমি বলেছিলাম, যদি আমি ব্যর্থ হই, তাহলে আর কোনও দিন আপনাদের সামনে আসব না।”

এই ভিডিওতে ক্রিকেটের ভগবান জানিয়েছেন, তখনকার দিনে সব দলের ধারনা ছিল, ওপেন করতে এমন দুই ব্যাটসম্যানকে পাঠানো হোক, যারা উইকেটে ধরে খেলবে। যাতে বল পুরনো হলে পরের দিকের ব্যাটসম্যানরা সুবিধে পায়। এই ধারনাটা বদলের দরকার ছিল। তিনি বলেন, “১৯৯৪ সালে আমি যখন অকল্যান্ডে প্রথম ব্যাট করতে নামি, অন্যরকমের মানসিকতা নিয়ে নেমেছিলাম। আমি জানতাম ব্যর্থ হলে আর সুযোগ হয়তো আসবে না। কিন্তু রিস্ক নিতেই হত। তাই ভয় না পেয়ে নিজের শট খেলেছিলাম। প্রথম ম্যাচে আমি ৪৯ বলে ৮২ রান করেছিলাম। সেই সময় এই গতিতে রান তোলা যায়, সেটাই কেউ ভাবত না। তারপর আমাকে আর কোনও দিন বলতে হয়নি। টিম ম্যানেজমেন্টই চাইত আমি ওপেন করি।”

এই শিক্ষাকে নিজেদের জীবনে গেঁথে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন শচীন। তিনি বলেন, “আমি এই প্রজন্মের ছেলে-মেয়েদের বলতে চাই, জীবনে রিস্ক নিতেই হবে। রিস্ক না নিলে কখনও সফল হওয়া যায় না। তাই রিস্ক নিতে কখনও ভয় পেও না। তবে সেই সঙ্গে ফোকাসটাও ঠিক রাখতে হবে।”

অবশ্য রান পেলেও ওপেনার হিসেবে প্রথম সেঞ্চুরির জন্য তাঁকে আরও পাঁচ ম্যাচ অপেক্ষা করতে হয়েছিল। প্রথম পাঁচ ম্যাচে শচীনের রান ছিল ৮২, ৬৩, ৪০, ৬৩ ও ৭৩। ছ’নম্বর ম্যাচে শ্রীলঙ্কার কলম্বোতে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ওপেনার হিসেবে প্রথম সেঞ্চুরি পান শচীন। তারপর বাকিটা ইতিহাস।

 

Comments are closed.