রবিবার, সেপ্টেম্বর ২২

অভাবকে ড্রিবল রুবেলের, প্রতিষ্ঠা দিবসেই ইস্টবেঙ্গলের জলপাইগুড়ির ক্যাম্প থেকে সাই-তে ডাক

দ্য ওয়াল ব্যুরো, জলপাইগুড়ি: একদিকে যখন ক্লাবের শতবর্ষ উদ্‌যাপনে মেতেছেন সদস্য-সমর্থক থেকে শুরু করে কর্মকর্তারা, অন্যদিকে তখন রুবেলের চোখে জল। আজই যে তার জলপাইগুড়ির অনূর্ধ্ব ১৫ ইস্টবেঙ্গল ক্যাম্পে শেষ দিন। আগামীকালই সে যোগ দিচ্ছে জলপাইগুড়ির সাই-এর ক্যাম্পে। সেখানেই হবে তার পরবর্তী ট্রেনিং।

জলপাইগুড়ি জেলার ময়নাগুড়ি ব্লকের দোমহনি এলাকার অতি দরিদ্র পরিবারে জন্ম রুবেল মহম্মদের। ছয় ভাইবোনের সংসারে বাবা দর্জির কাজ করে সামান্য উপার্জন করেন। তা দিয়ে জোটে না দু’বেলার ভাত। কিন্তু দু’চোখে বড় ফুটবলার হওয়ার স্বপ্ন ছোটবেলা থেকেই। আর তাই ছোটবেলা থেকেই তাঁর পরিশ্রম শুরু।

কাকভোরে ঘুম থেকে উঠে দীর্ঘ ১৫ কিলোমিটার পথ কোনওদিন সাইকেলে, কোনওদিন আবার হেটে পাড়ি দিয়ে ময়নাগুড়ি ব্লকের দোমহনি থেকে জলপাইগুড়ি কলেজ পাড়ার এবিপিসি ক্লাব ময়দানে চলে আসত এই মুহুর্তে জলপাইগুড়ি ময়দানে অনূর্ধ্ব ১৫ থেকে ১৭-এর অন্যতম সেরা স্ট্রাইকার রুবেল মহম্মদ।

সাই-এর ক্যাম্পে সুযোগ পাওয়ার পর রুবেলের বক্তব্য, “বাড়িতে ৪ ভাই ২ বোন মিলে মোট আট জনের সংসার। বাবা দর্জির কাজ করেন। দু’বেলা ভালো করে খেতেই পাইনা। কিন্তু আমার ইচ্ছা বড় ফুটবলার হয়ে ইস্টবেঙ্গল ক্লাবে এবং জাতীয় দলে খেলার। এ বার আমি সাই-এ চান্স পেলাম। আরও ভালো করে প্রশিক্ষন নিয়ে স্বপ্ন পূরনের দিকে এগিয়ে যাবো।”

জলপাইগুড়ির ইস্টবেঙ্গল ক্যাম্পে এ দিন সকালেই শতবর্ষের পতাকা উত্তোলন করেন ক্লাবের আজীবন সদস্য গৌতম সোম এবং রমেন সরকার। ক্যাম্পের কোচ খোকন কর্মকার জানান, “মাত্র আট মাসে আমরা যথেষ্ট সফল। আমরা এর মধ্যে তিনটি প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন ও দুটিতে রানার্স হয়েছি। এই ক্যাম্পের সেরা খেলোয়াড় রুবেল। অনেক প্রতিকূলতার মধ্যেও এই মুহুর্তে জলপাইগুড়ি জেলাতে অনূর্ধ্ব ১৫ থেকে ১৭-এর মধ্যে সেরা স্ট্রাইকার ও। রুবেলকে আটকানোর করার ক্ষমতা কারও নেই। ওর স্বপ্নপূরণ খালি সময়ের অপেক্ষা মাত্র।”

Comments are closed.