দু’ভাগ মোহনবাগান, চাপ বাড়ালেন ঘরের ছেলেই

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: মোহনবাগানের সঙ্গে সংযুক্তিকরণ হয়ে গিয়েছে এটিকের। আরপিএসজি গ্রুপের সঙ্গে চুক্তি করেছেন বাগান কর্তারা। এই চুক্তির ফলে ক্লাবের ৮০ শতাংশ শেয়ার থাকবে আরপিএসজি গ্রুপের হাতে। ২০ শতাংশ শেয়ারের মালিক হবে মোহনবাগান প্রাইভেট লিমিটেড। ক্লাবের নামে এটিকে ও মোহনবাগান দুটোই ব্যবহার করা হবে।

এই সিদ্ধান্ত ঘোষণার পরেই শুরু হয়েছে বিতর্ক। সবুজ-মেরুন সমর্থকদের একটা বড় অংশ এই সংযুক্তি মেনে নিতে পারছেন না। বিশেষ করে যখন এই এটিকের বিরুদ্ধেই একসময় তাঁরা রাস্তায় নেমেছিলেন, সেই এটিকের সঙ্গেই তাঁদের মাতৃসম ক্লাবের নাম যোগ হবে, এটা মানতে পারছেন না কেউ। সোশ্যাল মিডিয়া ভরে গিয়েছে বিরোধিতায়।

আরও পড়ুন মোহনবাগান জুড়ল এটিকের সঙ্গে, ৮০ শতাংশ শেয়ার গোয়েঙ্কাদের

এই পরিস্থিতিতে দ্য ওয়াল-এর তরফে ধরা হয় চার আপাদমস্তক মোহনবাগানিকে। রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায়, কলকাতার মেয়র পারিষদ অতীন ঘোষ এবং বাগানের দুই ঘরের ছেলে সুব্রত ভট্টাচার্য ও সত্যজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে। মোহনবাগান-এটিকে সংযুক্তিকরণ নিয়ে দ্বিধাবিভক্ত তাঁরাও। এই সিধান্ত মেনে নিয়েছেন মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায় ও সত্যজিৎ চট্টোপাধ্যায়। অন্যদিকে এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছেন মেয়র পারিষদ অতীন ঘোষ ও সুব্রত ভট্টাচার্য।

দেখে নিন কী বলেছেন তাঁরা-

সুব্রত মুখোপাধ্যায়: এছাড়া কর্মকর্তাদের কাছে কোনও উপায় ছিল না। এই সিদ্ধান্তের আমি বিরোধিতা করব না।

 

 

অতীন ঘোষ: একজন মোহনবাগান সমর্থক হিসেবে এই চুক্তিতে আমি খুশি নই। কারণ একটি ক্লাবের ৮০ শতাংশ কিনে নেওয়া মানে পুরো ক্লাবটাই তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন হয়ে গেল। যদিও আমি আমি কাগজপত্র কিছুই দেখিনি, তবুও আমি এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত হতে পারছি না। আমার বাড়ির গলিতেই মোহনবাগান ক্লাবের জন্ম। এই শতবর্ষপ্রাচীন একটি ক্লাবের কিছু অর্থের বিনিময়ে বিকিয়ে যাওয়াটা কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। যে কর্মকর্তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তাদের বলতে চাই এই ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ক্লাবের হাজার হাজার সদস্যদের সঙ্গে একটা সাধারণ মিটিং ডেকে তারপর সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত ছিল। আবারও আমি বলছি এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে আমি একমত হতে পারিনি। আমি খুবই অখুশি।

সত্যজিৎ চট্টোপাধ্যায়: এটা একটা ঐতিহাসিক দিন আমাদের কাছে। একটা নতুন অধ্যায়ের সূচনা হল, পরবর্তী ২৫ বছরে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার জন্য। যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হয়। আগেও আমাদের ক্লাবে ম্যাকডাওয়েল এসেছে। এটা খুবই আনন্দের দিন আমাদের কাছে। পরের বছর আইএসএল খেলব। এতে সমর্থকদের ক্ষুব্ধ হওয়ার ব্যাপারই নেই। আমিও তো সমর্থক। প্রথমে দেখতে হবে পরবর্তী সময়ে কী হতে পারে। যেভাবে ভারতবর্ষের ফুটবল চলছে তার সঙ্গে আমাকে সমানভাবে চলতে হবে। মোহনবাগান তো সবসময় সামনের দিকে, উপরের দিকে থাকবে। আমি তো আর পিছিয়ে থাকব না। একটা জিনিসকে আঁকড়ে ধরে থাকলে হবে না। সমর্থকরা যেন ভুল না বোঝেন। যে কোনও জিনিস প্রথমে বোঝা যায় না, কিন্তু পরের বছরেই তাঁরা বুঝতে পারবেন এটাই সঠিক পথ।

সুব্রত ভট্টাচার্য: যখন অর্থনৈতিক সমস্যা থাকে, তখন কেউ সাহায্য করলে ভাল। কিন্তু তার পরিবর্তে আমি সব গ্রহণ করে নেব, এটা ভাল না। ওনারা ক্লাব চালাতে পারবেন না। এত বছর ধরে এটিকের জুনিয়র অ্যাকাডেমি থেকে কটা ফুটবলার তৈরি হয়েছে। কটা কৃশানু দে, গৌতম সরকার, সুরজিত সেনগুপ্ত তৈরি হয়েছে। ওরা পারেনি। ওনাদের অভিজ্ঞতা কম, অর্থ অনেক থাকতে পারে। আগামী দিনেও ওনারা ক্লাব চালালে পারবেন না। ভাবতে হবে এসব কিছু ওনারা ফুটবলের উন্নয়নের জন্য করছেন, না নিজেদের ব্যক্তিগত স্বার্থের জন্য। এই সিদ্ধান্তে ক্লাবের উপর প্রভাব পড়বে। সমর্থকরা গ্রহণ করবেন না। ৫৫-৪৫ শতাংশ অনুপাতে শেয়ার নিলে তাও ঠিক ছিল। নিজস্ব দখলে নিয়ে নিলে আগামী দিনে সুফল পাওয়া যাবে, এটা ভাবলে ভুল হবে। এই সিদ্ধান্তে আমি খুব একটা খুশি নই।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More