রবিবার, সেপ্টেম্বর ২২

বিশ্বজয় করেছে মেয়ে, বাড়ি ফিরলে ফিশ কারি-কিমা রেঁধে খাওয়াবেন সিন্ধুর মা

দ্য ওয়াল ব্যুরো : রবিবার বাসেলে ব্যাডমিন্টনের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে পিভি সিন্ধুর ফোরহ্যান্ড স্ম্যাশটা যখন নাজোমি ওকুহারার র‍্যাকেটে নেমে কোর্টের বাইরে আছড়ে পড়ল, তখন টেলিভিশনের এ পারে বসে কেঁদে ফেলেছিলেন মা পি বিজয়া। মনে পড়ে যাচ্ছিল ছোট থেকে সিন্ধুর পরিশ্রমের গল্পটা। সেই সঙ্গে তাঁরও জার্নির কথা। আর তাই মেয়ে বাড়ি ফিরলেই তাঁকে নিজের হাতের ফিশ কারি ও কিমা রান্না করে খাওয়াবেন বলে ঠিক করেছেন মা।

মঙ্গলবার সন্ধেবেলা ব্যাডমিন্টনে ভারতের প্রথম বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হিসেবে দেশের মাটিতে পা রাখবেন সিন্ধু। আর তার অনেক আগে থেকেই শুরু হয়ে গেছে অভ্যর্থনা জানানোর তোড়জোড়। বিজয়া জানিয়েছেন, “দেশে ফেরার পরেই সাংবাদিক সম্মেলন আছে সিন্ধুর। তা ছাড়াও আমাদের কমিউনিটিতেও একটা গেট টুগেদার হবে। কিন্তু সবার আগে আমি নিজের হাতে রান্না করা ফিশ কারি ও কিমা করে খাওয়াবো ওকে। সিন্ধু এই দুটো খেতে খুবই ভালোবাসে।”

রবিবার মায়ের জন্মদিনে চ্যাম্পিয়ন হয়ে সেই জয় মাকেই উৎসর্গ করেছেন সিন্ধু। এই ব্যাপারে খুবই গর্বিত তিনি। বিজয়া বলেন, “প্রতি বছর আমার জন্মদিনে সুন্দর সুন্দর উপহার দিত সিন্ধু। কিন্তু এ বার যেটা দিল সেটা সবথেকে স্পেশ্যাল। এই উপহার আমার সারা জীবন মনে থাকবে।”

ছোট থেকেই সিন্ধুর জীবনের অনেকটা জায়গা নিয়ে ছিলেন মা। মেয়ের ব্যাডমিন্টন ট্রেনিং-এ যাতে কনও খামতি না থাকে, সে দিকে দেখাশোনা করতেন বাবা পিভি রাম্মান। আর তাই সংসার চালাতে চাকরি করতেন বিজয়া। কিন্তু তারপরেও মেয়ের পড়াশোনা থেকে শুরু করে খাওয়া-দাওয়া সবদিকে নজর থাকত তাঁর। অবশ্য ছোট থেকে কখনও কোনও কিছু নিয়ে সমস্যায় পড়তে হয়নি তাঁকে। মায়ের কথায়, “ছোট থেকেই নিজের সব কাজ নিজেই করত সিন্ধু। প্রচণ্ড পরিশ্রমী ছিল। ব্যাডমিন্টন নেশার মতো ছিল সিন্ধুর কাছে। আমিই ওকে বরং বারবার বিশ্রামের কথা বলতাম।”

অবশ্য সিন্ধু বড় হওয়ার পর সবসময় তাঁর সঙ্গে থাকার জন্য চাকরি ছেড়ে দেন এক সময় রেলওয়েজের হয়ে জাতীয় স্তরে ভলিবল খেলা বিজয়া। সিন্ধুর বাবা পিভি রামান্না নিজেও জাতীয় স্তরের ভলিবল প্লেয়ার ছিলেন। খেলার সূত্রেই দু’জনের আলাপ, তারপর বিয়ে।

নিজে খেলোয়াড় জীবনে সেভাবে নাম করতে না পারার আক্ষেপ রয়েছে পি বিজয়ার। তিনি বলেন, “আমাদের সময় মেয়েদের খেলাধুলোর ক্ষেত্রে অনেক সমস্যা ছিল। তাই হয়তো ইচ্ছে থাকলেও সফল হতে পারিনি। কিন্তু মেয়ে আমার সব দুঃখ ভুলিয়ে দিয়েছে।” মেয়ের এই সাফল্যের পিছনে সিন্ধুর কোচ পুলেল্লা গোপিচাঁদেরও অনেক প্রশংসা করেছেন তাঁর মা।

এই সাফল্যের মাঝেও রিও অলিম্পিক্সের ফাইনালের কথা ভোলেননি পি বিজয়া। তিনি বলেন, “ফাইনালে মারিনের কাছে হারের পর ভেঙে পড়েছিলন সিন্ধু। বেশ কিছুদিন সময় লেগেছিল ওকে হারের ধাক্কা থেকে উঠতে। সে সময় আমি, ওর বাবা, ওর কোচ সবাই মিলে সিন্ধুকে বুঝিয়েছিলাম, সে দিন একটা খারাপ দিন ছিল। নিজের দিনে ও ভয়ঙ্কর। রবিবার সেটাই করে দেখালো ও। সিন্ধুর সামনে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ওকুহারাকেও মনে হচ্ছিল সাধারণ স্তরের কোনও প্লেয়ার।” এতদিনে রিওর হারের বদলা নিতে পারল মেয়ে, এ কথা বলতে বলতে ফের চোখে জল মায়ের। আসলে লড়াওটা তো দু’জনেই করেছিলেন। তাই সাফল্যের আনন্দাশ্রু দু’জনেই ঝরালেন।

Comments are closed.