শুক্রবার, ডিসেম্বর ১৪

কোহলিদের ব্যর্থতার দিনে জ্বলে উঠলেন ‘ডিপেন্ডেবল’ পূজারা, লড়াকু শতরানে মুখরক্ষা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: অ্যাডিলেডের গ্রিন টপ উইকেটে টসে জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বিরাট কোহলি। কিন্তু প্রথম সেশনেই ব্যুমেরাং হয়ে দাঁড়ায় কোহলির এই সিদ্ধান্ত। শেষ পর্যন্ত পূজারার লড়াকু ব্যাটিংয়ে ভর দিয়ে প্রথম ইনিংসে মুখরক্ষা করলো ভারত।

সবুজ উইকেটে তিন অজি পেস বোলার জশ হ্যাজেলউড, মিচেল স্টার্ক ও প্যাট কামিংসের বিধ্বংসী বোলিংয়ে শুরু থেকেই চাপে পড়ে যায় ভারতীয় ব্যাটিং। প্রস্তুতি ম্যাচে শতরান করা মুরলী বিজয় ১১ রান করে স্টার্কের বলে খোঁচা মেরে অধিনায়ক টিম পেইনের দস্তানায় ধরা দিয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরেন। ফের ব্যর্থ অন্য ওপেনার কেএল রাহুল। মাত্র ২ রান করে হ্যাজেলউডের বলে আউট হন রাহুল।

আরও পড়ুন লাগাতার তিন বছর ‘নম্বর ওয়ান’ সলমন, ১৩’য় ছিটকে গেলেন কিং খান

রান পাননি অধিনায়ক বিরাট কোহলিও। তবে তাঁর আউটের ক্ষেত্রে প্রধান ভূমিকা নিয়েছেন অজি ওপেনার উসমান খোয়াজা। খোয়াজার শূন্যে শরীর ছুঁড়ে এক হাতের দুরন্ত ক্যাচেই মাত্র ৩ রান করে প্যাভিলিয়নে ফেরেন কোহলি। ১৩ রান করে আউট হয়ে যান সহ-অধিনায়ক রাহানেও। মাত্র ৪১ রানে ৪ উইকেট পড়ে যায় ভারতের।

তারপর কিছুটা খেলা ধরার চেষ্টা করেন পূজারা ও এই টেস্টে সুযোগ পাওয়া রোহিত শর্মা। সাবলীল ব্যাটিং করছিলেন রোহিত। দুটো বিশাল ছক্কাও মারেন। কিন্তু ব্যক্তিগত ৩৭ রনের মাথায় ক্ষমার অযোগ্য শট খেলে আউট হন মুম্বইকর। ১৩ রানের মাথায় একই রকমভাবে আউট হন উইকেট কিপার ঋষভ পন্থও।

একদিকে খেলা ধরে রেখেছিলেন পূজারা। নিজের স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে খেলা চালিয়ে যান তিনি। তাঁকে বিপাকে ফেলতে পারেননি কোনও অজি বোলার। ২৪৬ বল খেলে চারটি বাউন্ডারি ও ২টি ওভার বাউন্ডারির মাধ্যমে ১২৩ রান হাঁকান পূজারা৷ রোহিতের সঙ্গে ৪৫, পন্তের সঙ্গে ৪১ ও অশ্বিনের সঙ্গে ৬২ রানের পার্টনারশিপে স্কোরবোর্ড সচল রাখেন ভারতীয় মিডল অর্ডারের ব্যাটিং স্তম্ভ৷ আউট হওয়ার আগে নবম উইকেটে মহম্মদ শামির সঙ্গে পূজারার পার্টনারশিপ ৪০ রানের৷

সেই সঙ্গে এ দিন এক মাইলস্টোন ছুঁউলেন পূজারা। নিজের আইডল রাহুল দ্রাবিড়কে ছুঁলেন তিনি৷ টেস্টে ১০৮ ইনিংসে পাঁচ হাজার রানের গণ্ডি ছুঁয়েছিলেন ‘দ্য ওয়াল’৷ পূজারা পাঁচ হাজার রানের মাইনস্টোন ছুঁতে সমসংখ্যাক ইনিংস নিয়েছেন৷ বোঝা যাচ্ছে ভারতীয় দলের নতুন ‘মিস্টার ডিপেন্ডেবল’ হিসেবে নিজের জায়গা পাকা করে নিয়েছেন সৌরাষ্ট্রের এই ব্যাটসম্যান। ৩ হাজার ও ৪ হাজার রানের ক্ষেত্রেও সমসংখ্যক ইনিংসেই দ্রাবিড়কে ছুঁয়েছিলেন পূজারা।

ঠিক যখন মনে হচ্ছে দ্বিতীয় দিন ফের শামির সঙ্গে শুরু করবেন পূজারা, তখনই বিপর্যয়। দিনের একেবারে শেষ মুহূর্তে ৮৮ তম ওভারের পঞ্চম বলে এক রান নেওয়ার তাড়াহুড়ো করেন পূজারা৷ লক্ষ্য অবশ্যই শামিকে নট স্ট্রাইকার রাখা৷ অর্থ্যাৎ চাপটা নিজের কাঁধে রেখেই উইকেট বাঁচিয়ে ফিরতে চেয়েছিলেন৷ প্যাট কামিন্সের থ্রোয়ের সামনে শেষটায় হারতে হয়৷ তার আগের ওভারে স্টার্ককে একটি ছক্কা হাঁকানোর পরই মনসংযোগের অভাবটা ধরা পড়েছিল৷ ছক্কাটা নিঁখুত হলেও পরের বলেই খোঁচা খেতে খেতে বেঁচেছিলেন তিনি।

শেষ পর্যন্ত প্রথম দিনের শেষে ৯ উইকেটে ২৫০ রান করেছে ভারতীয় দল। তবে উইকেটের যা হাল তাতে দ্বিতীয় দিনে ভারতীয় বোলাররাও এই পিচ থেকে সুবিধা পাবেন, তা নিশ্চিত। কিন্তু বেশ কিছুক্ষণ খেলা হওয়ার পর অনেকটাই স্বাভাবিক হয়ে যাচ্ছে খেলা। তাই শামি, ইশান্তদের প্রথম লক্ষ্যই থাকবে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব অজি ব্যাটিংয়ে ভাঙন ধরানো। এখন দেখার দ্বিতীয় দিন কীভাবে জবাব দেয় ভারতীয় বোলিং লাইনআপ।

The Wall-এর ফেসবুক পেজ লাইক করতে ক্লিক করুন 

Shares

Comments are closed.