শচীন নন, ভারতের হয়ে সবচেয়ে কম বয়সে অভিষেক বাংলার এই প্রাক্তন ক্রিকেটারের

খেলার মাঠেও ব্যতিক্রম নয়। হয়তো জাতীয় ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত ছিলেন, ভারতের জার্সি গায়েও খেলেছেন, কিন্তু বাংলা তার মর্যাদা দেয়নি। কিংবা দেশও মনে রাখেনি তেমন করে। সেরকমই এক ব্যক্তিত্ব হলেন বাংলার প্রাক্তন মহিলা ক্রিকেটার গার্গি বন্দ্যোপাধ্যায়।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো : সর্বস্তরেই কিছু মহাব্যক্তিত্ব থাকেন, যাঁরা বিস্মৃতির অতলে তলিয়ে যান। কিন্তু তাঁরাও তারকা, হয়তো বহুক্ষেত্রে জোটে না তেমন সম্মান, যেটি তিনি পাওয়ার দাবিদারও।

খেলার মাঠেও ব্যতিক্রম নয়। হয়তো জাতীয় ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত ছিলেন, ভারতের জার্সি গায়েও খেলেছেন, কিন্তু বাংলা তার মর্যাদা দেয়নি। কিংবা দেশও মনে রাখেনি তেমন করে। সেরকমই এক ব্যক্তিত্ব হলেন বাংলার প্রাক্তন মহিলা ক্রিকেটার গার্গি বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি দেশের হয়ে সফল ব্যাটসম্যান ছিলেন। একসময় তাঁর খেলা দেখে বোর্ড কর্তা ও কংগ্রেস নেতা মাধব রাও সিন্ধিয়া সরাসরি সিনিয়র দলে স্থান করে দিয়েছিলেন। এবং সেই খেলাটাই গার্গিকে ইতিহাসে স্থান করে দেয়।

১৯৭৮ সালে মহিলা বিশ্বকাপ ক্রিকেটের ম্যাচে ইডেন গার্ডেন্সে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলার এই ব্যাটসম্যান খেলতে নেমেছিলেন ১৪ বছর ১৬৫ দিন বয়সে। অনেক বিশেষজ্ঞই বলে থাকেন, ভারতীয় মহিলা দলের হয়ে সবচেয়ে কম বয়সে মাঠে নেমেছেন গতবছরে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ভারতের শেফালি ভার্মা, তিনি ১৫ বছর ২৩৯ দিন মাঠে নামার পরে হইচই শুরু হয়ে যায়। কিন্তু তখনও বাংলার এই প্রাক্তন নামী তারকার কথা কেউ মাথায় আনেননি।

এমনকি ১৯৮৯ সালে পাকিস্তান সফরে শচীন তেন্ডুলকারের ১৬ বছর বয়সে মাঠে নামাকেও অনেকে বলে থাকেন সবচেয়ে কম বয়সে জাতীয় দলের অভিষেক। তবুও সেই বিষয়েও নির্লিপ্ত গার্গি। ৫৭ বছর বয়সী দক্ষিণ কলকাতার বাসিন্দা জানান, আমার এই নিয়ে দুঃখ নেই। এসব ভেবে কী হবে? তবে সিএবি-তে আমাকে সবাই সম্মান করে, ‘‘এমনকি মহারাজও দেখা হলে জিজ্ঞাসা করে, কী গো দিদি, ভাল আছো তো? কিছু দরকার হলে বলো।’’

শুধু তাই নয়, বাংলার এক মহিলা ক্রিকেটার হিসেবে তিনি মেরিলিবন ক্রিকেট ক্লাবের (এমসিসি) আজীবন সদস্যও। সেই প্রসঙ্গে জানিয়েছেন, ‘‘আমি যখন ভারতীয় মহিলা দলের নির্বাচক ছিলাম, সেইসময় আমি ইংল্যান্ডে গেলে আমাকে ওই সম্মান দেওয়া হয়েছিল।’’ সেরা ম্যাচ বলতে গিয়ে ১৯৮৪ সালের জানুয়ারি মাসে খেলা দিল্লির ফিরোজ শা কোটলা টেস্ট ম্যাচের কথা বলেন। ম্যাচটি ছিল অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে, ওই খেলায় ওপেন করতে নেমে হাফসেঞ্চুরি করেছিলেন।

একটা সময় ভারতীয় মহিলা দলের কোচও ছিলেন। সেই কারনেই ঝুলন গোস্বামী, মিতালি রাজদের কাছে তিনি শুধু দিদিই নন, ম্যামও। যিনি মনে করেন, ‘‘মেয়েদের আইপিএল হওয়াও উচিত, তাতে মহিলা ক্রিকেট আরও জনপ্রিয় হবে।’’ এই প্রসঙ্গে আরও ব্যাখ্যা, ‘‘আমি যখন জাতীয় নির্বাচক ছিলাম, সেইসময় দলে একজন করে অনুর্ধ্ব ১৬ একটা ক্রিকেটার রাখতাম, কারণ সেই ক্রিকেটার যদি প্রথম সুযোগেই বাজিমাত করে দিতে পারে, সে দেশের সম্পদ হয়ে উঠবে।’’

ভারতের বর্ষিয়ান তারকা ডায়ানা এডুলজি, শান্তা রঙ্গস্বামী, শুভাঙ্গি কূলকার্নিদের সমসাময়িক বাংলার এই প্রাক্তন দেশের হয়ে ১২টি টেস্ট ও ২৬টি ওয়ান ডে ম্যাচ খেলেছেন। খেলা থেকে অবসর নেওয়ার পরে জাতীয় কোচ, জাতীয় নির্বাচক তথা বাংলার মহিলা ক্রিকেটের উন্নতির লক্ষ্যেও কাজ করেছেন। তবুও তাঁর আক্ষেপ, ‘‘ঝুলনের পরে বাংলা থেকে সেই ভাবে কোনও মহিলা ক্রিকেটার উঠল না, তেমনি সৌরভের পরে আর কোনও ক্রিকেট তারকা, এও মানছেন ওরা ব্যতিক্রমী বলেই তো আজ ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে গিয়েছে।’’

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More