শেষ ম্যাচেও হার বিরাটদের, ওয়ান ডে সিরিজে লজ্জার হোয়াইটওয়াশ ভারতের

ছোট ফরম্যাটে ০-৫ হারের বদলা তারা নিল ওয়ান ডে সিরিজে ভারতকে ৩-০ ব্যবধানে হারিয়ে। তিনটে ম্যাচেই হারতে হল বিরাটদের। কোহলির অধিনায়কত্বে এই প্রথম কোনও সিরিজ একটাও ম্যাচ না জিতে হারতে হল ভারতকে।

দ্য ওয়াল ব্যুরো: টি ২০ সিরিজের বদলা নিল নিউজিল্যান্ড। ছোট ফরম্যাটে ০-৫ হারের বদলা তারা নিল ওয়ান ডে সিরিজে ভারতকে ৩-০ ব্যবধানে হারিয়ে। তিনটে ম্যাচেই হারতে হল বিরাটদের। কোহলির অধিনায়কত্বে এই প্রথম কোনও সিরিজ একটাও ম্যাচ না জিতে হারতে হল ভারতকে।

এদিন ২৯৭ রানের টার্গেট নিয়ে খেলতে নেমে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিলেন নিউজিল্যান্ডের দুই ওপেনার মার্টিন গাপটিল ও হেনরি নিকোলস। বেশি আক্রমণাত্মক ছিলেন গাপটিল। বড় শট খেলছিলেন। দুই ওপেনার মিলে সেঞ্চুরি পার্টনারশিপ করেন। এই পার্টনারশিপেই ম্যাচ হাতের বাইরে বেরিয়ে যায় কোহলিদের।

৬৬ রান করে চাহালের শিকার হন গাপটিল। ওয়ান ডে সিরিজে প্রথমবারের জন্য ব্যাট করতে নামেন কেন উইলিয়ামসন। শুরুটা ভাল করলেও ২২ রানের মাথায় ফের চাহালের বলে আউট হন নিউজিল্যান্ডের অধিনায়ক। ১২ রান করে আউট হন আগের দুই ওয়ান ডে’র হিরো রস টেলর। ৮০ রানের মাথায় নিকোলসও নিজের উইকেট দিয়ে বসেন। চাহালের বলে ১৯ রানের মাথায় নিশাম আউট হতে ম্যাচে কিছুটা ফেরে ভারত।

তখনও ম্যাচ নিজেদের হাতে নিতে হলে অন্তত একটা উইকেট দরকার ছিল বিরাটদের। কিন্তু তা দিলেন না টম ল্যাথাম ও কলিন ডি গ্র্যান্ডহোম। গোটা সিরিজে ব্যাট হাতে ফ্লপ গ্র্যান্ডহোম এদিন জ্বলে উঠলেন। কোনও বোলারকেই রেয়াত করলেন না তিনি। মাত্র ২১ বলে হাফসেঞ্চুরি করেন কিউয়িদের এই অলরাউন্ডার। অন্যদিকে টিকে ছিলেন ল্যাথাম।

৪৭.১ ওভারে ৫ উইকেটে ম্যাচ জিতে নেয় নিউজিল্যান্ড। গ্র্যান্ডহোম ২৮ বলে ৫৮ ও ল্যাথাম ৩২ করে অপরাজিত থাকেন। তার সঙ্গেই সিরিজ হোয়াইটওয়াশ সম্পূর্ণ করে নিউজিল্যান্ড। এই প্রথম কোনও সিরিজে এত লজ্জাজনকভাবে হারতে হল বিরাটদের।

এর আগে ব্যাট করতে নেমে ফের ব্যর্থ ময়ঙ্ক আগরওয়াল। মাত্র ১ রানে আউট হন তিনি। বিরাট ৯ করে প্যাভিলিয়নে ফেরেন। অনেক দিন ধরে বড় রান নেই কোহলির ব্যাটে। পৃথ্বী শ’র সঙ্গে পার্টনারশিপ গড়েন শ্রেয়স আইয়ার। ৪০ করে ভুল বোঝাবুঝির শিকার হয়ে রানআউট হন পৃথ্বী।

তিন উইকেট পড়ে যাওয়ার পরে পার্টনারশিপ গড়েন আইয়ার ও রাহুল। এই দু’জনের ব্যাটে ভর করেই এগোতে থাকে ভারতের ইনিংস। দুই ব্যাটসম্যানই হাফসেঞ্চুরি করেন। ১০০ রানের পার্টনারশিপ গড়ার পরে ৬২ রানের মাথায় আউট হন আইয়ার। কিন্তু নিজের খেলা চালিয়ে যান এই সিরিজে স্বপ্নের ফর্মে থাকা লোকেশ রাহুল। তাঁকে সঙ্গ দেন এই ম্যাচে কেদার যাদবের বিরুদ্ধে সুযোগ পাওয়া মনীশ পাণ্ডে। নিজের সেঞ্চুরি করেন রাহুল। কিন্তু ৪৭ তম ওভারে পরপর দু’বলে দুই সেট ব্যাটসম্যানকে তুলে নিয়ে ভারতকে ধাক্কা দেন বেনেট। প্রথমে ১১২ রানের মাথায় রাহুল ও তারপর ৪২ রানের মাথায় মনীশকে আউট করেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ৫০ ওভারে ৭ উইকেটের বিনিময়ে ২৯৬ রান তোলে ভারত।

সেই রান সহজেই তাড়া করে জিতে গেল নিউজিল্যান্ড। এবার সামনে টেস্ট সিরিজ। এখন দেখার লাল বলের ক্রিকেটে কেমন খেলে ভারতীয় দল।

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.