কাশ্মীর জয় বাগানের, বেইতিয়া-নওরেমের গোলে লিগ শীর্ষে সবুজ-মেরুন

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: শূন্য ডিগ্রি তাপমাত্রা, অ্যাস্ট্রো টার্ফের মাঠ, ১১ হাজারের বেশি বিরোধী সমর্থকের চিৎকার, কোনও কিছুই আটকাতে পারল না ১১ জন সবুজ-মেরুন ফুটবলারকে। সব বাধা অতিক্রম করে আইলিগের অন্যতম কঠিন ম্যাচ জিতে ফিরলেন বেইতিয়ারা। যে মাঠে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন চেন্নাইকে হারতে হয়েছে, সেই মাঠেই ২-০ গোলে বাজি আর্মান্দদের হারিয়ে ৫ ম্যাচে ১০ পয়েন্ট নিয়ে লিগ টেবিলের শীর্ষে চলে গেল সবুজ-মেরুন ব্রিগেড।

    খেলা শুরুর আগেই দেখা গেল ছবিটা। মাঠে পড়ে থাকা বরফ পরিষ্কার করছেন মাঠ কর্মীরা। এই মাঠে কী ভাবে খেলা হবে তা নিয়েই চিন্তায় ছিলেন অনেকে। শূন্য ডিগ্রি তাপমাত্রায় শ্রীনগরের টার্ফের মাঠে অ্যাডভান্টেজ ছিল ঘরোয়া দলের কাছেই। কিন্তু শুরু থকে মাঠে দেখা গেল মোহনবাগানের দাপট। এদিন প্রথম থেকেই শুরু করলেন বাগানের নতুন স্ট্রাইকার পাপা বাবাকার দিওয়ারা। অনেক দিন পরে দলে ফিরলেন ধনচন্দ্র সিং।

    ট্রার্ফের মাঠেও ছোট ছোট পাসে খেলার চেষ্টা করছিল মোহনবাগান। আক্রমণও বেশি তুলে আনছিলেন বেইতিয়া, শেখ সাহিলরা। সুযোগও আসে দিওয়ারার কাছে। কিন্তু সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি তিনি। অন্যদিকে নিজেদের স্বাভাবিক খেলাটাই খেলছিল রিয়েল কাশ্মীর। ডিফেন্স মজবুত রেখে মাঝমাঠ থেকে লং বল তোলা হচ্ছিল হিগিনবটম, দানিশ, মেসন রবার্টসনদের উদ্দেশে। কিন্তু গোল আসেনি।

    দ্বিতীয়ার্ধেও আক্রমণ- প্রতি আক্রমণের খেলা চলতে থাকে। দু’দলের ডিফেন্সই মজবুত ছিল। ফলে গোলের মুখ খোলা যাচ্ছিল না। এই ঠান্ডাতেও ঘরোয়া দলকে সমর্থন করতে মাঠে উপস্থিত ছিলেন ১১ হাজারেরও বেশি দর্শক। খেলা দেখে বোঝা যাচ্ছিল টার্ফের মাঠে বলের বাউন্স সমস্যায় ফেলছিল বেইতিয়াদের। ৬৫ মিনিটের মাথায় মেসন রবার্টসনের দুরন্ত হেডার দারুণ বাঁচান শঙ্কর। ক্রিজোকে নামিয়ে চাপ বাড়ান কাশ্মীর কোচ ডেভিড রবার্টসন।

    যখন মনে হচ্ছে ম্যাচ হয়তো গোলশূন্য শেষ হবে তখনই জ্বলে উঠলেন বাগান ফুটবলাররা। ৭১ মিনিটের মাথায় ধনচন্দ্রের লম্বা থ্রো হেডে নামিয়ে দেন ড্যানিয়েল সাইরাস। বক্সের মধ্যে থেকে ডান পায়ের জোরালো ভলি জালে জড়িয়ে সবুজ-মেরুনকে এগিয়ে দেন বেইতিয়া। দু’মিনিট পরেই ডান প্রান্তে বল ধরে ব্রিটোর ক্রসে গোল করে ব্যবধান বাড়ান নওদম্বা নওরেম। চলতি আইলিগের প্রথম গোল করলেন এই তরুণ মিডফিল্ডার।

    এগিয়ে যাওয়ার পরে খেলার গতি কিছুটা কমিয়ে দেয় মোহনবাগান। ৭৮ মিনিটের মাথায় হিগিনবটমের ফ্রিকিক থেকে ব্যবধান কমানোর সহজ সুযোগ নষ্ট করেন লাভডে। তারপরেও অনেক চেষ্টা করে কাশ্মীর। কিন্তু গোল আসেনি। ডিফেন্সে দুরন্ত খেললেন মোরান্তে, সাইরাস। মাঝমাঠে অনবদ্য খেললেন বেইতিয়া, গঞ্জালেজ, নওরেম। ম্যাচের সেরা ফ্রান গঞ্জালেজ। দিওয়ারা গোল না পেলেও তাঁর ছোট ছোট টাচ, জায়গা নেওয়া দেখে বোঝা গেল তিনি বড় রেসের ঘোড়া। অ্যাওয়ে ম্যাচে ৬১ শতাংশ বল পজিশন নিয়ে খেলল মোহনবাগান।

    ২-০ গোলে ম্যাচ জিতল কিবু ভিকুনার ছেলেরা। সব মিলিয়ে নতুন বছর দারুণ শুরু হল সবুজ-মেরুন সমর্থকদের।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More