রবিবার, সেপ্টেম্বর ২২

বাগান জার্সিতে অভিষেকেই জোড়া গোল চামারোর, মহামেডানকে হারিয়ে ডুরান্ড শুরু সবুজ-মেরুন ব্রিগেডের

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ম্যাচের আগে মোহনবাগানের ঘরের ছেলে তথা মহামেডান কোচ সুব্রত ভট্টাচার্য বলেছিলেন, কিবু ভিকুনা কত বড় কোচ তিনি দেখে নেবেন। ম্যাচের ১৫ মিনিটের মধ্যেই সব বুঝে যাবেন। কিন্তু ম্যাচের ২৫ মিনিটের মধ্যেই খেলা নিজেদের দখলে করে নিল মোহনবাগান। তারপরে অনেক চেষ্টা করেও ম্যাচ নিজেদের দখলে নিতে পারল না সাদা-কালো ব্রিগেড। বাগান জার্সিতে প্রথম ম্যাচেই জোড়া গোল করে ম্যাচের সেরা হলেন বার্সা বি দল থেকে উঠে আসা স্ট্রাইকার চামারো।

শুরু থেকেই আক্রমণের ঝড় তোলে মোহনবাগান। ম্যাচের দ্বিতীয় মিনিটেই ফ্রিকিক পায় বাগান। নতুন বিদেশি মিডিফিল্ডার বেইতিয়ার ফ্রিকিক থেকে দুরন্ত হেডে বাগান জার্সিতে প্রথম ম্যাচেই গোল করেন সালভাদোর পেরেজ মার্টিনেজ বা চামারো। শুরুতেই গোল পেয়ে আরও বেশি উদ্যমে আক্রমণে উঠতে থাকেন বাগান ফুটবলাররা। দুই প্রান্তকে সচল রেখে বারবার আক্রমণ তুলে আনছিল বাগান। তারই ফল পেলে ২৪ মিনিটের মাথায়। ডান প্রান্ত ধরে আশুতোষ মেহতার ক্রসে জোরালো হেডে গোল করে ব্যবধান বাড়ান সেই চামারো।

প্রথম থেকেই ডিফেন্স সামলাতে ব্যস্ত থাকেন সুব্রত ভট্টাচার্যের ছেলেরা। সে রকম কোনও সুযোগই তৈরি করতে পারেননি মুসা মুড্ডেরা। প্রথমার্ধের শেষ দিকে একটা সুযোগ পায় সাদা-কালো ব্রিগেড। কিন্তু শিল্টনের দুরন্ত সেভ প্রথমার্ধে ২-০ রাখে খেলার ফল।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে অবশ্য কিছুটা আক্রমণ করার চেষ্টা করে মহামেডান স্পোর্টিং। বেশ কয়েকবার বাগানের অ্যাটাকিং থার্ডে ঢুকে পড়েন সাদা-কালো ফুটবলাররা। কিন্তু গোল আসেনি। কিছুক্ষণ পর থেকে খেলা নিজেদের দখলে নেওয়ার চেষ্টা করেন বাগান প্লেয়াররা। বলের দখল তাঁরা বেশি নিতে থাকেন।

কিন্তু তারপরেও মহামেডানের আক্রমণ কমেনি। তীর্থঙ্কর সরকার, মহম্মদ আমিরুলরা বেশ কয়েকবার গোলের কাছে পৌঁছে গেলেও শিল্টনের দস্তানা সব আক্রমণ প্রতিহত করে। ৮২ মিনিটের মাথায় বেইতিয়ার ভুলে ফাঁকা গোলের সামনে বল পান তীর্থঙ্কর। শিল্টনের মাথার উপর দিয়ে বল জালে জড়াতে গিয়ে বাইরে মারেন তিনি।

বাকি সময়ে আর গোল হয়নি। প্রথম ম্যাচে ২-০ গোলেই জিতল মোহনবাগান। তবে ম্যাচ জিতলেও কিছু প্রশ্ন থেকে গেল কোচ ভিকুনার কাছে। প্রথমার্ধে যেভাবে খেলল বাগান, দ্বিতীয়ার্ধে সেই খেলা দেখা গেল না। দ্বিতীয়ার্ধের মাঝামাঝি এসেই যেন হাঁপিয়ে উঠলেন বিদেশি ফুটবলাররা। বোঝা গেল, এখনও এখানকার পরিবেশের সঙ্গে পুরোপুরি মানিয়ে নিতে পারেননি তাঁরা। যত তাড়াতাড়ি সেটা হয়, ততই ভালো সবুজ-মেরুন সমর্থকদের জন্য। কারণ, এ দিন নয় গোল করতে পারেনি মহামেডান। সব ম্যাচে কিন্তু সেটা হবে না।

Comments are closed.