পরিবারের কথা মেনেই বার্সায় আটকে গেলেন মেসি

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো : কোনও এল ক্ল্যাসিকো ম্যাচেও মনে হয় এত টেনশনে থাকেন না। কিংবা কোনও বিশ্বকাপ ফাইনাল ম্যাচের আগেও। যেভাবে তাঁকে ঘিরে নানা প্রচার হচ্ছিল, সেটিতেও খানিক চাপে ছিলেন ফুটবল রাজপুত্র। ফুটবলমহল জানত, মেসি এমন কোনও হঠকারি সিদ্ধান্ত নেবেন না, যা তাঁর ইমেজে আঘাতের প্লাবন বয়ে দিত। তিনি নিজের হৃদয়ের ডাক শুনেছেন বলেই বার্সেলোনায় শত প্রতিকূলতার মধ্যেও থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন। যদিও এই চুক্তি মাত্র একবছরের সম্পন্ন হয়েছে। তার মানে সামনের মরসুমেও একইভাবে তাঁর দলবদল নিয়ে আলোচনা শুরু হবে। 

যে ক্লাব মেসির অবাধ বিচরণক্ষেত্র, যে ক্লাবে তিনি কিশোর বয়সে পা রেখেছিলেন, এমন কী হল, সেই ক্লাবের প্রতি বিরক্ত হয়ে উঠলেন? মেসি অবশ্য বিশ্বের নামী এক ফুটবল ওয়েবসাইটকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, এর আগেও বহুবার বার্সেলোনা ছাড়ার উপক্রম হয়েছিল। আমি অর্থ দেখিনি, আমি দেখেছি ক্লাবের প্রতি আবেগ ও ভালবাসা। সবকিছুর ওপরই রেখেছিলাম ক্লাবের প্রতি আমার আনুগত্য ও ভালবাসাকে। এবার যদিও নানা কারণে মেসি যেনতেন প্রকারেণ বার্সা ছাড়তে চেয়েছিলেন? তার প্রথম কারণ ক্লাব সভাপতি জোসেফ মারিয়া বার্তিমিউর ব্যবহার। স্প্যানিশ এই ক্লাব সভাপতির বিরুদ্ধে ভুরিভুরি অভিযোগ রয়েছে। তিনি ক্লাবকে ব্যবহার করে নিজের ব্যবসায় পসার করেছেন। বার্তিমিউ সম্প্রতি এক জনংসযোগকারী সংস্থা থ্রি ভিঞ্চার্স –কে দায়িত্ব দিয়েছিলেন ফুটবলারদের নামে নানা গোপন কথা তাঁর কানে দেবেন। এমনকি মিডিয়াকে সুকৌশলে ফুটবলারদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করবেন। মেসি সাক্ষাৎকারে বলেছেন, দল হারলে আমার বদনাম হচ্ছে, অথচ সাফল্য পেলে আমার কথা হচ্ছে না, এগুলি আমার মনকে পীড়া দিয়েছে।

বার্সেলোনা দলে মেসির দুই প্রিয় বন্ধু হলেন লুই সুয়ারেজ ও আর্তুরো ভিদাল। বার্সা কর্তারা তাঁদের গুডবাই জানানোর পরিকল্পনা নিয়ে ফেলেছে, যা মেসি চান না কোনওমতেই। সেটি নিয়েও কর্তাদের সঙ্গে তাঁর সমস্যা। বায়ার্ন মিউনিখের কাছে আট গোলে হারের পরে সভাপতি পুরো দায় চাপিয়েছিলেন মেসি ও তাঁর দুই বন্ধুর দিকে। আগের কোচ ভালভার্দেকে ছাঁটাই করা হয় মেসির কথায়, এমন প্রচার সুকৌশলে করেছেন ক্লাব কর্তারা। সেটিও মেসির কানে এসেছে। ক্লাব থেকে এও প্রচার করা হয়, মেসির কথায় সায় না দিলে তিনি ফুটবলারদের একত্রিত করেন। এটিও মেসি শুনেছেন তাঁর বিশ্বস্ত মহল থেকে।

করোনাভাইরাসের সময় বিশেষ করে লকডাউনের সময় কর্মীদের বেতন কেটে নিয়েছিল ক্লাব। সেই নিয়ে মেসির সঙ্গে চাপানউতোর চলছিল কর্তাদের। তিনি ফুটবলারদের হয়ে জানান, তাঁদের বেতন অর্ধেক করে দিয়ে যেন কর্মীদের পুরো বেতন দেওয়া হয়। এই কৌশলের কথা সভাপতি জানার পরে তিনি নিজের মতো এটি প্রচার করতে শুরু করেন।

এতকিছুর পরেও তিনি থেকে গেলেন পরিবারের জন্য। তাঁর স্ত্রী আন্তোনেলা কুইজো কিংবা তাঁর তিন পুত্র সন্তান কেউই বার্সা ছাড়তে চাইছেন না। মেসি জানিয়েছেন, আমার বার্সেলোনা ছাড়ার খবর শুনে আমার বড় ছেলে থিয়াগো কেঁদে ফেলে, আমি লক্ষ্য করেছিলাম বাকিদের চোখেও জল ছিল। আমার পরিবারের সদস্যরা এই শহরের সঙ্গে মানিয়ে নিয়েছে। পরিবারের কথা ভেবেই তিনি শেষমেশ অন্য কোথাও গেলেন না, সেটিও বোঝা যাচ্ছে। পাশাপাশি ৭০০ মিলিয়ন ইউরো দেওয়ার চাপ তো ছিলই।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More