হৃদযন্ত্রে সমস্যা, আনোয়ারকে সই করিয়ে ফাঁপরে মহামেডান

২৩

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো : ভারতীয় ফুটবলে উদীয়মান প্রতিভা। তাঁকে সবাই চিনেছিল অনুর্ধ্ব ১৭ যুব বিশ্বকাপের সময়। সেই ফুটবল আসরে আনোয়ার আলি তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন সবাইকে। ঘানা, আমেরিকা ও কলম্বিয়া ম্যাচে দারুণ খেলেছিলেন। সেইসময় তাঁকে ইন্ডিয়ান অ্যারোজ তুলে নেয়। ওই দলে ভাল খেলার সুবাদে আইএসএলে তাঁকে নেয় মুম্বাই সিটি এফসি। তারা যুব ফুটবলারটিকে ৩০ লক্ষ টাকা দিয়ে চুক্তি করে। এত কম বয়সে বিপুল অর্থ এর আগে কেউ পায়নি। 

সবকিছু ঠিকঠাক এগোচ্ছিল, হঠাৎই আনোয়ারের পরিবারে ধেয়ে আসে এক দুঃসংবাদ। আনোয়ারের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে ধরা পড়ে তাঁর হৃদযন্ত্রে সমস্যা রয়েছে। এও জানা যায়, তাঁর রোগটা জন্মগত। আনোয়ারের ক্ষেত্রে বিষয়টি দেখভালের দায়িত্ব নেয় খোদ সর্বভারতীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এআইএফএফ)। তারা একটি মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করে জানায়, আনোয়ারকে বিদেশে পাঠানো হবে এই সমস্যা থেকে পরিত্রানের জন্য। ফ্রান্সের একটি চিকিৎসক দল আনোয়ারের মেডিক্যাল রিপোর্ট পরীক্ষা করে জানায়, ওর এই রোগটার নাম ‘হাইপারথ্রোপিক কার্ডিওমায়োপ্যাথি’, যে রোগের বিশেষত্ব হল অল্পেতেই হাঁফিয়ে যাবে। এমনকি যেখানে সেখানে পড়েও যেতে পারে। বিশ্ব ফুটবলে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ফুটবলার ফ্র্যাবিস মুয়াম্বার এমন রোগ ছিল। তিনি সেই কারণে দলের বিশেষ ট্রেনিংয়ে অংশ নিতেন না। বেছে বেছে তাঁকে ম্যাচ খেলাতে হতো।

আনোয়ারের সেরকম কোনও সমস্যা না হলেও সেটি হবে না একদমই, বলা যাবে না। তাই ফেডারেশন থেকে বলে দেওয়া হয়েছে, আনোয়ারকে দলে নিতে হলে স্বাস্থ্য নির্দেশিকা মানতে হবে। এরকম একটি ফতোয়ার মধ্যেই এবার আনোয়ারকে দলে নিয়েছে মহামেডান স্পোর্টিং। মহামেডান এবার আই লিগের দ্বিতীয় ডিভিশন খেলবে। তারা দলে নিয়েছে উইলিস প্লাজা, কিংসলের মতো নামী বিদেশীদের। পাশাপাশি ভারতীয়দের মধ্যে বেশকিছু বড় নাম রয়েছে। সেই তালিকায় আনোয়ারকে কেন রাখা হল, যখন এই সমস্যা তাঁর রয়েইছে? কারণ ফেডারেশন জানিয়ে দিয়েছে আনোয়ারকে দুম করে মাঠে নামানো যাবে না, কারণ সেক্ষেত্রে মাঠে ম্যাচ চলাকালীন কিছু হয়ে গেলে তার দায়ভার ক্লাবকে বহন করতে হবে। সেই প্রসঙ্গে মহামডান ক্লাবের সচিব ওয়াসিম আক্রাম জানান, ‘‘আমরা ফেডারেশনের সঙ্গে কথা বলেই যা করার করব। অহেতুক ঝুঁকি আমরা নেবো না। ডাক্তাররা যা বলবেন, তাই করব।’’ জলন্ধরের এই যুব ডিফেন্ডার বর্তমানে কল্যাণীতে মহামেডানের আবাসিক শিবিরে রয়েছেন। তাঁকে প্রস্তুতিতে বিশেষভাবে পর্যবেক্ষণে রেখেছেন কর্তারা।

মহামেডান ক্লাবের সহ সভাপতি প্রাক্তন ফুটবলার তথা বিধায়ক দীপেন্দু বিশ্বাসেরও একই সমস্যা হয়েছিল ২০০৫ সালে। সেই ঘটনা তুলে ধরে বলেছেন, ‘‘আমারও এমন সমস্যার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু আমি ওই বছরে দারুণ খেলেছিলাম। অনেক গোলও ছিল আমার নামের পাশে। তাই আনোয়ারের ক্ষেত্রে চিকিৎসকরা কী বলছেন, সেটাই বড় বিষয়।’’ এরমধ্যেই আবার মহামেডান ক্লাবকে একটি চিঠি দিয়েছেন আনোয়ারের বাবা রাজাক আলি। তিনি তাতে লিখেছেন, ‘‘এমন কঠিন অসুখের পরেও আমার ছেলেকে দলে নেওয়া হয়েছে, তাই খেলতে খেলতে কিছু হয়ে গেলে আমি ক্লাবের গাফিলতিকে দায়ী করব।’’ তাই মহামেডানে সই করলেও আনোয়ারের ফুটবল জীবনই সঙ্কটে, আদৌ তাঁর সার্ভিস ক্লাব তো বটেই, দেশও পাবে কিনা সেটিও বিশ বাঁও জলে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More