শুক্রবার, ডিসেম্বর ১৪

মেসি-রোনাল্ডো সাম্রাজ্য ভেঙে ‘বিশ্বের সেরা’ ক্রোট ম্যাজিশিয়ান লুকা মড্রিচ

দ্য ওয়াল ব্যুরো : সালটা ২০০৭। ব্যালন ডি’ওর হাতে উঠছিল ব্রাজিলিয়ান কাকা’র। তাঁর দু’দিকে দাঁড়িয়ে মেসি ও রোনাল্ডো। কে ভাবতে পেরেছিল পরের ১০ বছর এই দুই সেরা তারকার হাতেই উঠবে ৫বার করে ব্যালন ডি’ওর। ঠিক তেমনই কেই বা ভাবতে পেরেছিল ১০ বছরের এই আধিপত্যকে ভেঙে দিয়ে সেরার স্থানে উঠে আসবেন এক উদ্বাস্তু, ক্রোট লুকা মড্রিচ।

ছোট বেলাটা কেটেছে ক্রোয়াশিয়ার রিফিউজি ক্যাম্পে। সার্বিয়ার আক্রমণে মারা গেছে বাবা। দাদুর কাছে মানুষ। ছোট থেকেই কাজ মেষ চড়ানো। সেই মেষ চড়ানো ছোটখাটো ছেলেটা যে একদিন দুনিয়া কাঁপাবে, কে ভেবেছিল? চরম অনিশ্চয়তায় ভরা জীবনের মতোই ফুটবল। আর তাই ফুটবলকেই নিজের জীবন করে নিয়েছিলেন মড্রিচ। প্রথমে টটেনহ্যাম হটস্পার। তারপর রিয়েল মাদ্রিদ। নিঃশব্দে নিজের কাজ করে গেছেন। কৃতিত্বের দাবি করেননি কখনও।

আরও পড়ুন চাপে মত বদল! পরের বছর নয়, এ বছর নকআউট থেকেই চ্যাম্পিয়নস লিগে VAR

কিন্তু প্রতিভা তো আর লুকিয়ে থাকে না। পৃথিবীর সামনে সগৌরবে নিজেকে তুলে ধরে। তেমনটাই ঘটল রুশ বিশ্বকাপে। রাশিয়ার মাটিতেই এক এক করে বিশ্বকাপ জয়ী আর্জেন্টিনা, ইংল্যান্ড সবাইকে মাত দিয়ে উঠে এসেছে মাত্র ৪১ লাখ জনসংখ্যার ক্রোয়েশিয়া। র‍্যাকিটিচ, মানজুকিচ, পেরিসিচদের হার না মানা মনোভাব দেখেছে গোটা বিশ্ব। দেখেছে মাঝমাঠে দাঁড়িয়ে ছোট্টখাট্টো অধিনায়ক লুকা মড্রিচের লড়াই। আর তাই বিশ্বকাপের শিরোপা না পেলেও পেলেন বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড়ের তকমা। কিন্তু সেখানেই শেষ নয়।

মাসখানেক আগে ফিফা ‘দ্য বেস্ট’ পুরস্কার উঠেছিল মড্রিচের হাতে। এই লড়াইয়েও তিনি হারিয়েছিলেন মেসি-রোনাল্ডোকে। তারপর এল ব্যালন ডি’ওরের পালা। প্যারিসের ঝলমলে গ্র্যান্ড প্যালাইস হোটেলে তখন চাঁদের হাট। ৩০ জন তারকার মধ্যে কার হাতে উঠবে সেরার শিরোপা, কেউ জানেন না। তবে সবাই এটা জানেন, মেসি-রোনাল্ডো নন, অন্য কেউ, অন্য কোনও মুখে এবার ফুটবে হাসি।

একে একে নাম ঘোষণা চলছে। প্রথম ১০ জায়গা পেলেন না সুয়ারেজ, নেমাররা। সেরা গোলকিপারের তকমা পেলেন বেলজিয়ামের থিবাউ কুর্তোয়া। সেরা অনূর্ধ্ব ২১ খেলোয়াড় হিসেবে প্রথমবার কোপা পুরস্কার পেলেন কিলিয়ান এমব্যাপে। সেরা মহিলা ফুটবলার হিসেবে ব্যালন ডি’ওর পেলেন নরওয়ের আদা হেগারবার্গ। কিন্তু কোথায় তিনি?

এলেন। স্ত্রী, ছেলে,মেয়েকে নিয়ে। মুখে হাসি, চোখ দুটো চিকচিক করছে। জানেন পরিশ্রমের ফল পাচ্ছেন এতদিনে। ৫ নম্বরে নাম ঘোষণা হলো লিওনেল মেসির। বিশ্বকাপের মতো এই বছরটাই যেন যন্ত্রণায় কাটল এলএম টেনের। ২০০৬ সালের পর এই প্রথম সেরা তিনের বাইরে থাকলেন মেসি।

অবশেষে এল সেই মুহূর্ত। নাম হলো ঘোষণা। গোটা হল ফেটে উঠল হাততালিতে। উঠে দাঁড়িয়ে নায়ককে কুর্নিশ জানালেন সবাই। আসতে আসতে ছোটখাটো শরীরটা উঠে দাঁড়ালো মঞ্চে। হাতে নিলেন সোনার বলটা। একবার চুমু খেলেন। তারপর মাইকের সামনে এসে দাঁড়ালেন। স্ত্রীর চোখে তখন জল। কাঁদছেন তিনিও। মেসি-রোনাল্ডোর সাম্রাজ্য ভেঙে দেওয়া এক রিফিউজি ছেলে, লুকা মড্রিচ। আর তাঁর সঙ্গে হয়তো কাঁদছে সেই সব স্বপ্ন দেখা চোখগুলো, যারা ফুটবল ছাড়া কিছুই বোঝে না। যাদের কাছে ফুটবলেই সব যন্ত্রণার মুক্তি।

The Wall-এর ফেসবুক পেজ লাইক করতে ক্লিক করুন 

Shares

Comments are closed.