প্রিমিয়ার লিগ চ্যাম্পিয়ন লিভারপুল, ক্লপের হাতেই কাটল অ্যানফিল্ডের ৩০ বছরের খরা

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: এভাবে আধিপত্য রেখে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের মতো টুর্নামেন্ট কে কবে জিতেছে তা কেউ মনে করতে পারছেন না। স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসনের তারকা খচিত ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেড, কিংবা পেপ গুয়ার্দিওলার ম্যাঞ্চেস্টার সিটি, কেউই এত সহজে চ্যাম্পিয়নের খেতাব পাননি। বরং বেশিরভাগ মরসুমেই শেষ ম্যাচ পর্যন্ত বাকি থাকে ফয়সালা। অনেক সময় হেড টু হেড কিংবা গোল পার্থক্যেও খেতাব পেয়েছে ক্লাব। কিন্তু তাই বলে এভাবে। নির্ণায়ক ম্যাচের আগেই ফল ঘোষণা। বাকি থেকে গেল সাত ম্যাচ। ইউর্গেন ক্লপের লিভারপুল যেন ইতিহাস তৈরি করল। ৩০ বছর পর কাপ ফিরল অ্যানফিল্ডে। সেইসঙ্গে ১৯ বার ইপিএল জিতল লিভারপুল। সবথেকে বেশিবার এই ট্রফি পেয়েছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, ২০ বার।

    চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য নির্ণায়ক ম্যাচে মাঠে নামতেই হয়নি রেড ডেভিলসদের। বৃহস্পতিবার রাতে দ্বিতীয় স্থানে থাকা ম্যাঞ্চেস্টার সিটি চেলসির কাছে ১-২ গোলে হারতেই চ্যাম্পিয়ন হয়ে যায় লিভারপুল। ২৩ পয়েন্টের পার্থক্য হয়ে যাওয়ায় সাত ম্যাচ বাকি থাকতেই চ্যাম্পিয়ন হয়ে যান মহম্মদ সালাহ, সাদিও মানে, ফিরমিনহোরা। তার আগে অবশ্য বুধবার নিজেদের ঘরের মাঠে ক্রিস্টাল প্যালেসকে ৪-০ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়নশিপের দোরগোড়ায় পৌঁছে গিয়েজিলেন তাঁরা।

    কী দাপটের সঙ্গে লিভারপুল চ্যাম্পিয়ন হয়েছে তা কয়েকটা পরিসংখ্যান দেখলেই বোঝা যাবে। এখনও পর্যন্ত ৩১ ম্যাচের মধ্যে ২৮ টি ম্যাচে জিতেছে তারা। বাকি তিন ম্যাচ ড্র হয়েছে। কোনও ম্যাচে হারতে হয়নি এই মরসুমে। ২০১৭-১৮ মরসুমে ১০০ পয়েন্ট হয়েছিল ম্যাঞ্চেস্টার সিটির। সেই রেকর্ড ভাঙার মুখে ক্লপের ছেলেরা। ২০১৭-১৮ ও ২০১৮-১৯ মরসুমে ৩২ ম্যাচে জয় পেয়েছিল গুয়ার্দিওলার সিটি। সেটাই ছিল এক মরসুমে সবথেকে বেশি ম্যাচ জয়ের রেকর্ড। বাকি সাত ম্যাচে পাঁচ ম্যাচ জিতলেই সেই রেকর্ড ভেঙে দেবে তারা। এর আগে দুই ম্যাঞ্চেস্টার সবথেকে বেশি পাঁচ ম্যাচ বাকি থাকতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। সেই রেকর্ড ভেঙে লিভারপুল সাত ম্যাচ বাকি থাকতে চ্যাম্পিয়ন হল।

    লিভারপুলের এই জয়ের পিছনে কিন্তু সবথেকে বড় হাত জার্মান কোচ ক্লপের। বুরুসিয়া ডর্টমুন্ডকে নিয়ে বুন্দেশলিগায় যে চমক তিনি দেখিয়েছিলেন তার থেকেও বড় চমক দেখালেন ইংল্যান্ডে এসে। এই লিভারপুল দলটা যেন এক সুতোয় বাঁধা। যখন যাকে দরকার, তাকে খেলিয়েছেন ক্লপ। দিনের পর দিন বেঞ্চে বসে থাকলেও কখনও কোনও প্লেয়ারের সঙ্গে তাঁর মনোমালিন্য হয়নি। যাঁকে যখন সুযোগ দিয়েছেন, তিনি কাজ করে দেখিয়েছেন। তার জন্যই মরসুমের একটা বড় সময় ধরে এক নম্বর গোলকিপার অ্যালিসন বেকারকে না পেলেও লিগ জিততে সমস্যা হয়নি। কারণ ডিফেন্সে পাহাড়ের মতো দাঁড়িয়ে থেকেছেন ভার্জিল ভ্যান ডাইক। মাঝমাঠে নেতৃত্ব দিয়েছেন হেন্ডারসন, আলেগজান্ডার আর্নল্ডরা। আর সামনে মানে, সালাহ, ফিরিমনহোর ত্রিফলা। যার জন্য শাকিরি, মিলনার, ওরিগির মতো প্লেয়ারদের মরসুমের বেশিরভাগ সময় বেঞ্চে বসেই কাটাতে হয়েছে।

    আগামী মরসুমে হয়তো এই দলে বেশ কিছু বদল হবে। অনেক ফুটবলারকে সই করাতে ঝাঁপাবে অনেক বড় ক্লাব। ক্লপের পিছনেও লাইন পড়বে ক্লাব মালিকদের। সেসব পরের কথা। কিন্তু এবার প্রথম ম্যাচ থেকেই যেন চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য নেমেছিল লিভারপুল। আর সেই চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সঙ্গে এক মহাকাব্য রচনা করে গেল তারা।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More