পরিকল্পনা, গতি, জেতার খিদে! তিনের মিলে বার্সাকে মাটি ধরিয়ে ফাইনালে লিভারপুল

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো : অবিশ্বাস্য! আর কীই বা বলা যেতে পারে একে!

ঘরের মাঠে ৩-০ গোলের অ্যাডভান্টেজ নিয়ে অ্যানফিল্ডে খেলতে নেমেছিল বার্সেলোনা। লিভারপুলের প্রথম এগারোতে ছিলেন না মো সালাহ্‌, ফিরমিনহো। বিপক্ষের দুই প্রধান ফুটবলার না থাকায় বার্সা সমর্থকরা ভেবেছিলেন, সহজেই ফাইনালে পৌঁছে যাবে বার্সা। কিন্তু মাঠে হলো ঠিক উল্টো। অ্যানফিল্ডের মাঠে দেখা গেল বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবল। অবশ্যই একটা দলের কাছ থেকে। খেলা শুরুর বাঁশি থেকে খেলা শেষের বাঁশি পর্যন্ত একই গতি রেখে খেললেন লিভারপুলের ফুটবলাররা। গতি, শারীরিক সক্ষমতা আর আক্রমণাত্মক মানসিকতা, এই তিনেই মেসিদের মাটি ধরালো লিভারপুল।

খেলার শুরু থেকেই কোচ ইয়ুর্গেন ক্লপ তিনটে পরিকল্পনা করেছিলেন। এক, নিজের দলের ফুটবলারদের প্রথম থেকেই গোলের জন্য ঝাঁপানো। দুই, বার্সা ফুটবলারদের ফাঁকা জায়গা না দেওয়া। তিন, মেসিকে জোনাল মার্কিংয়ে আটকে রাখা। তিনটে কাজেই ১০০’তে ১০০ পেলেন ফুটবলাররা।

সালাহ্‌ ও ফিরমিনহো না থাকায় এই ম্যাচে মানের পাশে শুরু করেছিলেন তরুণ ওরিগি ও অভিজ্ঞ শাকিরি। খেলার শুরু থেকেই আক্রমণের ঝাঁঝ লিভারপুলের। চাপে পড়ে ভুল করা শুরু করল বার্সা ডিফেন্স। ৭ মিনিটের মাথায় জর্ডি আলবার ভুল থেকেই বল পেলেন মানে। মানের থেকে বল পেয়ে হেন্ডারসনের শট টের স্টেগেন বাঁচালেও ফিরতি বলে গোল করে যান ওরিগি। শুরুতেই গোল পেয়ে যাওয়ায় ইংল্যান্ডের দলের আক্রমণ আরও বাড়ে। বার্সার পায়ে বলই থাকছিল না। বল পেলেও দ্রুত দখল হারাচ্ছিলেন তাঁরা। প্রতিটা দ্বিতীয় বল পাচ্ছিলেন লিভারপুলের ফুটবলাররা। তার মধ্যেই গোল করার সুযোগ এসেছিল বার্সার কাছে। কিন্তু গোলকিপার অ্যালিসন বেকারের হাতে সেই সুযোগ প্রতিহত হয়।

দ্বিতীয়ার্ধেও একই ছবি। ৫৪ মিনিটের মাথায় শাকিরির কর্নার থেকে হেডে লিভারপুলের দ্বিতীয় গোল করেন ওয়াইন্যালডম। ২ মিনিট পরে আলেক্সান্ডার-আর্নল্ডের কর্নার থেকে হেডে নিজের দ্বিতীয় ও দলের তৃতীয় গোল ফের ওয়াইন্যালডমের। এগ্রিগেটে ৩-৩ হয়ে যাওয়ার পরেও সুযোগ ছিল বার্সার। একটা গোল করতে পারলেই অ্যাওয়ে গোলের অ্যাডভান্টেজ পেত তারা। কিন্তু লড়াকু লিভারপুল এ দিন যেন জেতার জন্যই নেমেছিল।

ইংল্যান্ডের দলের চার নম্বর গোল অবশ্যই তাদের উপস্থিত বুদ্ধি ও বার্সা ফুটবলারদের বোকামির ফসল। কর্নারে বল বসিয়ে ডিফেন্ডারদের অন্যমনস্কতার সুযোগে আচমকাই ক্রস বাড়ান আলেক্সান্ডার-আর্নল্ড। তৈরি ছিলেন ওরিগি। সেই বলে পা ছুইয়ে দলকে এগিয়ে দেন তিনি। এই গোলের পর বার্সাকে টিকে থাকতে গেলে গোল করতেই হতো। কিন্তু ক্লপের পরিকল্পনা ভাঙতে পারলেন না বার্সা কোচ ভালভার্ডে। ইংল্যান্ডের মাঠ থেকে খালি হাতেই ফিরতে হলো বার্সাকে।

লা লিগা জেতার পর অধিনায়ক হিসেবে চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ের স্বপ্ন এ মরসুমের মতো শেষ হয়ে গেল মেসির। সেই সঙ্গে ক্লপ ও লিভারপুল ফুটবলাররা দেখিয়ে দিলেন, অসম্ভব কিছুই নয়। দলের দুই প্রধান ফুটবলার ছাড়াই বার্সার মতো কঠিন দলকে ০-৩ পিছিয়ে থাকার পরেও হারানো যায়। শুধু দরকার জেতার মানসিকতা, জেতার খিদে, জেতার ইচ্ছে। এই ইচ্ছেটারই যে বড্ড অভাব আজ দেখা গেল মেসিদের মধ্যে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More