ম্যাঞ্চেস্টারে ফিরে আসুক ১১ বছর আগের কুয়ালালামপুর

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দেবার্ক ভট্টাচার্য্য

    ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০০৮। কুয়ালালামপুরে অনুর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল। একদিকে ভারতের ব্যাটন বিরাট কোহলির হাতে। অন্যদিকে ব্ল্যাক ক্যাপসদের অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন। ততদিনে ক্রিকেট দুনিয়া বুঝে গিয়েছে আগামী দিনে এই দুই অধিনায়ক ব্যাট হাতে বিশ্বক্রিকেটে রাজ করবেন। কিন্তু সেমিফাইনালের চাপ কে বেশি সামলাতে পারেন, তার পরীক্ষা ছিল সে দিন। আর এই পরীক্ষায় উইলিয়ামসনকে হারিয়ে সসম্মানে পাশ করেছিলেন বিরাট। হয়েছিলেন ম্যাচের সেরা। এমনকী উইলিয়ামসনকে আউটও করেছিলেন বিরাট।

    সময় এগিয়ে এসেছে আরও ১১টা বছর। অনুর্ধ্ব উনিশ থেকে বড়দের দলে সুযোগ পাওয়া। তারপর অধিনায়কত্বের ব্যাটন সামলানো। সবটাই যেন এই দুই ক্রিকেটারের জীবনে ঘটেছে প্রায় একই সঙ্গে। অথচ দুই ক্রিকেটারের মাঠের মধ্যের মানসিকতায় আকাশ-পাতাল তফাত। একদিকে কিউয়ি অধিনায়ক যখন বরফশীতল মাথা নিয়ে দল পরিচালনা করেন, অন্যদিকে তখন বিরাট আগ্রাসনে বিশ্বাসী। কিন্তু দু’রকম মানসিকতা থাকলেও সাফল্যের নিরিখে দু’জনেই প্রায় একই সারিতে। অর্থাৎ ম্যাঞ্চেস্টারে দুজনের দক্ষতা নয়, লড়াই হবে সেমিফাইনালের চাপ সামলে খেলার।

    সাধারণত এই ধরণের ম্যাচের আগে বিপক্ষ অধিনায়ক থেকে ক্রিকেটাররা যেভাবে প্রতিপক্ষের উপর চাপ রাখার চেষ্টা করে সে ছবি উধাও। ভারত অবশ্য কোনও দিনই এই নীতিতে বিশ্বাস করেনি। অন্যদিকে উইলিয়ামসনের অধিনায়কত্বে এই নিউজিল্যান্ড দলও যে তা করবে না, তা বলাই যায়। আসলে এই দু’দলে এমন ৫ জন ক্রিকেটার আছেন, যাঁরা ১১ বছর আগের সেই ম্যাচেও ছিলেন। নিউজিল্যান্ডে যেমন গাপটিল, উইলিয়ামসন ও টিম সাউদি, ভারতে তেমনই কোহলি ও জাদেজা। আর তাই তাঁরা জানেন, এই ম্যাচে মুখে নয়, খেলে জিততে হবে।

    এর আগে অবশ্য সেই ম্যাচ নিয়ে বার দুয়েক মুখ খুলেছেন বিরাট। বলেছেন, তাঁর বোলিং যে কতটা মারাত্মক হতে পারে তা হয়তো কেন উইলিয়ামসনের থেকে ভালো কেউ বোঝে না। সে দিন কেনের উইকেটটা তো তিনিই নিয়েছিলেন। কিন্তু এখন আর বল করেন না বিরাট। তিনি বল না করলে কী হবে, তাঁর দলে এমন বোলিং ব্রিগেড রয়েছে, যা যে কোনও দিন যে কোনও দলের মাথাব্যথার কারণ হতে পারে। আর তাই নিউজিল্যান্ডের ব্যাটিং অর্ডারের সামনে আজ কঠিন পরীক্ষা।

    অন্যদিকে কিউয়ি অধিনায়কও জানেন, বিরাট বড় ম্যাচের প্লেয়ার। কারণ সেই সেমিফাইনালে ২ উইকেট নেওয়া ছাড়াও ৪৩ রান করে ম্যাচের সেরা হয়েছিলেন বিরাট। এই মুহূর্তে তিনি বিশ্বের এক নম্বর ব্যাটসম্যান। হতে পারে এখনও পর্যন্ত সেঞ্চুরি মারেননি, তবে ফর্ম খারাপ নেই। হয়তো ‘বন্ধুর’ বিরুদ্ধেই সেঞ্চুরি আসতে চলেছে। আর সেরকম হলে যে তাঁর দলের মাথাব্যথা আরও বাড়বে তা জানেন উইলিয়ামসন। আর সেইজন্য তাঁর প্রধান অস্ত্র হবে ট্রেন্ট বোল্ট। বোল্টকেই দায়িত্ব দেওয়া থাকবে ভারতীয় মিডল অর্ডারকে ভাঙার।

    সেমিফাইনালের মতো খেলার প্রেডিকশন করা বোকামো। কারণ এই ধরণের ম্যাচে কেউ ফেভারিট থাকেন না। সেই দিন যে দল ভালো খেলবে, তারা জিতবে। তবে একটা জিনিস বলা যায়, এ দিনের ম্যাচে উইলিয়ামসন চেষ্টা করবেন ১১ বছর আগের হারের বদলা নেওয়ার। আর কোহলি চাইবেন, ম্যাঞ্চেস্টারে আরও একবার ফিরে আসুক ১১ বছর আগের কুয়ালালামপুর।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More