মঙ্গলবার, এপ্রিল ২৩

আলভিটোর স্মৃতি ফেরালেন জবি, ১৫ বছর পর দুই পর্বেই ডার্বি জয়, তাহলে কি……

দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেন, নাউ, ফরএভার।

প্রকাণ্ড ব্যানার ঝুলছিল লাল-হলুদ গ্যালারির আপার টায়ারে। গত ১৫ দিন ধরে অক্লান্ত পরিশ্রম করে সেটি তৈরি করেছেন ইস্টবেঙ্গল আল্ট্রাসের সদস্যরা। তার একপাশে আঁকা ইস্টবেঙ্গল ক্লাব তৈরির কোলাজ। কোলে শিশু আর কাঁধে শেষ সম্বল নিয়ে কাঁটাতারের পাশ দিয়ে হেঁটে আসছেন এক মা। পরের ছবিতেই দেখা যাচ্ছে কাঁটাতারের ঠিক উল্টোদিকে হামাগুড়ি দিচ্ছে শিশুটি। তারপর পায়ে বল নিয়ে দাঁড়ানো। গায়ে লা-হলুদ জার্সি। পতাকা তুলে ধরা, মশাল জ্বালানোর পরের ছবিটা ইস্টবেঙ্গল তাঁবুর।

দেশ ভাগের পর ভিটে ছাড়া হওয়ার যন্ত্রণা আর জেদ নিয়ে যে ক্লাবের জন্ম, সেই ছবিই দেখা গিয়েছে এ দিন। ভাইরাল সোশ্যাল মিডিয়াতেও। ‘বাঙাল’ বলে অপমান করার কারণে সুরেশ চৌধুরীদের ১৯২০ সালে জোড়াবাগান ক্লাব ছেড়ে বেরিয়ে আসা। তারপর ক্লাব তৈরি। সেই সময়টাই ধরা ছিল গ্যালারির উপর।

কিন্তু লাল-হলুদ সমর্থকদের মনে বড় ম্যাচ জয়ের পরেও সেই উচ্ছ্বাসটা নেই। কারণ গত দেড় দশক আই লিগ ঢোকেনি তাঁবুতে। একশো বছরের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে থাকা ক্লাবকে যেমন ছবিতে ধরেছে আল্ট্রাস। ঠিক তেমনই ফুটবলাররা ফিরিয়ে আনলেন ২০০২-০৩ মরশুমকে।

সে বার জাতীয় লিগের দুই পর্বেই মোহনবাগানকে হারিয়েছিল লাল-হলুদ। প্রথম পর্বে গোল করেছিলেন আলভিটো এবং শুভাশিষ চক্রবর্তী। দ্বিতীয় পর্বের ম্যাচেও গোল এসেছিল গোয়ানিজ তারকার বুট থেকে। সঙ্গে মাইক ওকোরো। সে বার লিগ এসেছিল ইস্টবেঙ্গল ক্লাবে।

এ বারও খানিকটা একই রকম। দুটো লেগেই ডার্বি জয় লাল-হলুদের। মাঝের এতগুলো বছরে যা অধরা ছিল। আর সে বার আলভিটোর মতো এ বারও দুই পর্বেই গোল পেয়েছেন জবি জাস্টিন। তাহলে কি এ বার? স্বপ্ন দেখছেন লাল-হলুদ সমর্থকরা। এখনও বাকি ২১ পয়েন্টের খেলা। সাপ-লুডোর লিগে ওঠা পড়া হবে ধরেই নিচ্ছেন অনেকে।

অনেকদিন পর বিপক্ষের বিদেশি স্টার ফুটবলারকে বোতলবন্দি করে রাখলেন কোনও দেশীয় ফুটবলার। সনি নর্ডিকে নড়তে দিলেন না লালরাম চুলোভা। অনেক দিন পর কোনও ভারতীয় ফুটবলারের নামে জয়ধ্বনিতে মুখরিত হলো লাল-হলুদ গ্যালারি। জবি-জবি চিৎকারের রেকর্ডিংটা শুনলে হয়তো শান্তি পাবেন কালো হরিণ আইএম বিজয়ন।

আরও পড়ুন

মোহনবাগানের বাতিল গোল কি ন্যায্য ছিল? কী বলছে ফিফার নিয়ম?

Shares

Comments are closed.