সোমবার, অক্টোবর ২১

ক্লাব-কোয়েস দ্বন্দ্ব! শতবর্ষে ‘কলঙ্ক’ লাগল ইস্টবেঙ্গলের গায়ে

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বৃহস্পতিবার দুপুর তিনটে নাগাদ কসবার এক ইস্টবেঙ্গল সমর্থক ফেসবুকে  লিখলেন, “ইস্টবেঙ্গল হেরে গেছে মানা যায়। ইস্টবেঙ্গল খেলতে নামেনি মানা যায় না।”

কানাঘুষো চলছিলই। তবু অনেক সমর্থক আশা করেছিলেন, হয়তো রিজার্ভ বেঞ্চের প্লেয়ারদের দিয়ে হলেও টিমটা অন্তত নামবে। কিন্তু হল না। পঞ্চমীর দুপুরে মখমলের মতো কল্যাণী স্টেডিয়ামে রেফারি, দুই লাইন্সম্যান আর ক্যালকাটা কাস্টমসের ১১ জন খেলোয়াড় বাদ দিয়ে লাইন আপে এল না ইস্টবেঙ্গল টিম। ওয়াকওভার পেয়ে গেল কাস্টমস। লিগ জিতে গেল পিয়ারলেস।

৫৮ সালের ইস্টার্ন রেলের পর একটা ছোট দল লিগ জেতায় কলকাতা ফুটবল যেমন বুনিয়াদি দিক থেকে লাভবান হয়েছে, ঠিক তেমনই অনেকে বলছেন, ক্লাবের শতবর্ষে ওয়াকওভারের কলঙ্ক লেগে গেল লাল-হলুদের গায়ে।

এ দিন দুপুরে কোয়েসের তরফে একটি প্রেস বিবৃতি জারি করে হাজারো দাবি করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, এ দিনের ম্যাচের কথা নাকি আইএফএফ-এর তরফে ‘কমিউনিকেট’ই করা হয়নি। সবই নাকি সংবাদমাধ্যম আর সূত্র মারফত জেনেছে কোয়েস। কিন্তু ইস্টবেঙ্গল কর্তারা আগেই জানিয়েছিলেন, আইএফএ ৩ অক্টোবরের খেলার কথা জানিয়েছে।

লাল-হলুদের স্প্যানিশ কোচের এ দিন স্পেনে যাওয়ার বিমান। তাই তিনি যাবেন না জানিয়ে দিয়েছিলেন। অধিকাংশ খেলোয়াড়কে ছুটি দিয়ে দিয়েছিল ম্যানেজমেন্ট। এ দিন সকালে তা-ও একবার শেষ চেষ্টা করেছিলেন ক্লাব কর্তারা। বাস্তব রায়কে কোচ করে খেলোয়াড়দের জড়ো করে টিম পাঠানোর চেষ্টা হয়েছিল বটে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা আর দানা বাঁধেনি।

এখন সমর্থকদের অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, ক্লাবকর্তা আর বিনিয়োগকারী সংস্থার দ্বন্দ্বের মাঝে কেন কলঙ্কিত হতে হবে প্রতিষ্ঠানকে? কেন শতবর্ষের গর্বের বছরে এমন দাগ লাগল ঐতিহ্যে? কেন বসে মীমাংসা করা গেল না?

পর্যবেক্ষকদের মতে, ইগোর লড়াই চলছিলই। শতবর্ষের সূচনা অনুষ্ঠানে কোয়েসের বদলে কিংফিশারের জার্সি জানান দিয়েছিল, লেসলি ক্লডিয়াস সরণির আকাশে গভীর নিম্নচাপ ঘণীভূত হয়েছে। কিন্তু পুজোর মধ্যে তা যে এ ভাবে ঝরে পড়বে, তা বোধহয় অনেকেই ভাবেননি।

সমর্থকদের অনেকেই বলছেন, কর্তারা দোষ চাপাবেন কোয়েসের ঘাড়ে। কোয়েস দোষ দেবে আইএফএ কে। কিন্তু দিনের শেষে কলঙ্ক লেগে থাকবে শতবর্ষের ইস্টবেঙ্গলের গায়ে।

Comments are closed.