রবিবার, এপ্রিল ২১

রবিবাসরীয় ইডেনে বদলার ম্যাচ নাইট রাইডার্সের

দ্য ওয়াল ব্যুরো: নাইট রাইডার্সের গাড়ি যেন হঠাৎই ব্রেক মেরেছে। পরপর দু’ম্যাচে হারতে হয়েছে। লিগ টেবিলে পয়েন্ট তালিকায় আরও তিনটি দল উঠে এসেছে একই পয়েন্টে। আর এ সবই হয়েছে চিপকে চেন্নাইয়ের কাছে লজ্জাজনক হারের পর থেকে। ওই একটা ম্যাচেই যেন নাইটদের মনোবল বেশ খানিকটা কমিয়ে দিয়েছে। কিন্তু বদলা নেওয়ার সুযোগও চলে এসেছে দীনেশ কার্তিকদের কাছে। পয়লা বৈশাখের আগের দিনই বাঙালির কাছে নববর্ষ উদযাপনের সুযোগ। রবিবারই ইডেনে মুখোমুখি হচ্ছে চেন্নাই ও কলকাতা। এই ম্যাচ জিতলে ফের প্রথম চারের দৌড়ে এগিয়ে যাবে কেকেআর। সেই লক্ষ্যেই রবিবার মাঠে নামছেন তাঁরা।

এই মরসুমের সবথেকে ধারাবাহিক দল চেন্নাই। চিপককে তো নিজেদের গড় বানিয়ে নিয়েছেন ধোনি বাহিনী। অ্যাওয়ে ম্যাচেও জিতছেন সমানতালে। কেবল ওয়াংখেড়েতে মুম্বইয়ের বিরুদ্ধে হোঁচট খেতে হয়েছে। চেন্নাইয়ের পক্ষে সবথেকে প্লাস পয়েন্ট হচ্ছে ধোনির ফর্মে ফেরা। চলতি মরসুমে ইতিমধ্যেই দুটি হাফসেঞ্চুরি করে ফেলেছেন। প্রথমে ব্যাট করলে শেষ পর্যন্ত থেকে দলের রান এমন জায়গায় নিয়ে যাচ্ছেন যাতে বোলাররা তা ডিফেন্ড করতে পারে। প্রথমে বল করলে ক্ষুরধার বুদ্ধি দিয়ে প্রতিপক্ষ ব্যাটসম্যানদের সমস্যায় ফেলছেন। আবার রান তাড়া করতে গিয়ে ম্যাচ জিতিয়ে ফিরছেন। তার সঙ্গে সব ম্যাচেই কখনও দু’প্লেসি, কখনও রায়না, রায়ুডু, কেদার যাদবরা রান পাচ্ছেন। তবে চেন্নাইয়ের প্রধান অস্ত্র বোলিং। দুই স্পিনার তাহির, হরভজন এবং পেসার চাহার দুরন্ত ফর্মে রয়েছেন।

অন্যদিকে কলকাতার এখনও পর্যন্ত সবথেকে ধারাবাহিক ব্যাটসম্যান আন্দ্রে রাসেল। ব্যাট করতে নেমে প্রতিটি ম্যাচে রান পেয়েছেন। বলেও উইকেট নিচ্ছেন। নীতীশ রাণা ও শুভমান গিলও ভালো ব্যাট করছেন। বলে প্রসিদ্ধ কৃষ্ণা, চাওলা, কুলদীপরা ভালো করছেন। তবে এখনও পর্যন্ত এক-দুটি ম্যাচ ছাড়া রান পাননি ক্রিস লিন-সুনীল নারিন জুটি। রান পাননি অভিজ্ঞ উথাপ্পা ও অধিনায়ক দীনেশ কার্তিকও। তাই সব চাপ চলে আসছে রাসেলের উপর।

দিল্লির বিরুদ্ধে দলে তিন বিদেশির পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছিল কলকাতা। চোটের জন্য লিন-নারিনকে পাওয়া যায়নি। বল করতে গিয়ে সামান্য সমস্যায় দেখা গিয়েছে রাসেলকেও। চেন্নাইয়ের বিরুদ্ধে এই তিনজনকেই ফিট চাইবে কেকেআর। চতুর্থ বিদেশি হিসেবে ইডেনের মাটিতে নতুন অস্ট্রেলীয় পেসার নাকি ক্যারিবিয়ান ব্রেথওয়েট, কার উপর ভরসা দেখায় নাইট ম্যানেজমেন্ট সেটা দেখার।

তবে চেন্নাইয়ের বোলাররা এতদিন যে উইকেটে বল করছিলেন, সেরকম উইকেট কিন্তু পাবেন না ইডেনে। চলতি আইপিএলে দেশের মধ্যে সবথেকে দ্রুতগতির উইকেট ইডেন। ফলে চেন্নাইয়ে খেলে অভ্যস্ত বোলাররা এখানে সমস্যায় পড়তে পারেন। ব্যাটসম্যানদের ক্ষেত্রেও কিন্তু স্ট্রোক খেলা অনেক সহজ ইডেনে। ফলে চিপকে নাইট রাইডার্সের যে ব্যাটিং ভরাডুবি হয়েছিল, তা ইডেনে হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় নেই।

ফলে চেন্নাইয়ের এখনও পর্যন্ত সবথেকে কঠিন ম্যাচ হতে চলেছে রবিবারের ম্যাচ। যদিও কলকাতাতেও বেশ খানিকটা সমর্থন পাবেন মাহি। তবে বেশিরভাগ ইডেনই কিন্তু গলা ফাটাবে ঘরের টিমের জন্যই। এখন দুই উইকেট-কিপার অধিনায়ক ধোনি ও কার্তিকের যুদ্ধে শেষ হাসি কে হাসেন, তা অবশ্য জানা যাবে আর কয়েক ঘণ্টা পরেই।

Shares

Comments are closed.