রবিবার, ডিসেম্বর ৮
TheWall
TheWall

বিরাট-রাহাণেরা বোল্ড, বল হাতে আগুন ঝরাচ্ছেন শামি-ইশান্তরা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: রান আপ থেকে দৌড়ে আসছেন ইশান্ত শর্মা। তাঁর বলটা পিচে পড়ে সামান্য ভিতরের দিকে ঢুকলে। রাহাণের ব্যাট-প্যাডের মধ্যে দিয়ে স্টাম্প উড়িয়ে বেরিয়ে গেল। শামির বলটা আবার ফুল লেন্থ। সামান্য আউট সুইং হয়ে বিরাটের ব্যাটের পাশ দিয়ে অফ স্টাম্প উড়িয়ে দিল। উমেশ যাদবের আউট সুইং ময়ঙ্ক আগরওয়ালের ব্যাটের কিনারায় লেগে বেরলো। কিপার থাকলে সোজা তাঁর গ্লাভসে যেত। না কোনও ম্যাচের কথা নয়। এ সব দেখা যাচ্ছে মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরের হোলকার স্টেডিয়ামের প্র্যাকটিসে। যেখানে আর ২৪ ঘণ্টা পরেই প্রথম টেস্ট খেলতে নামবে ভারত-বাংলাদেশ। তার আগে ভারতের পেস ত্রয়ীর এই ভয়ঙ্কর রূপ স্বস্তিতে রাখছে টিম ম্যানেজমেন্টকে।

পরিসংখ্যান বলছে গত এক বছরে দেশ-বিদেশের মাটিতে ভারত যত টেস্ট জিতেছে তার সিংহভাগ কৃতিত্ব প্রাপ্য পেস বোলারদের। যশপ্রীত বুমরাহ, মহম্মদ শামি, ইশান্ত শর্মা, ভুবনেশ্বর কুমার ও উমেশ যাদব, এই পাঁচজন বল হাতে দিনদিন আরও ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছেন। গত এক বছরে স্পিনারদের প্রায় দ্বিগুণ উইকেট পেয়েছেন পেসাররা। এই দৃশ্য এর আগে ভারতে দেখা যায়নি। আর এই পেসারদের উপর ভর করেই সিরিজের পর সিরিজ জিতছে কোহলির ভারত।

বিরাট কোহলি নিজে বারবার স্বীকার করেছেন এই বোলারদের অবদানের কথা। ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরাও বলেন, একজন বা দু’জন বিশ্বমানের ব্যাটসম্যান কোনও দলকে ম্যাচ জেতাতে পারে। কিন্তু সিরিজ জেতাতে পারে বোলাররা। তবে সেটা একজন হলে হবে না। হতে হবে বোলারদের একটা গ্রুপ।

এর আগেও বিশ্বমানের বোলার দেখেছে ভারত। কপিল দেব, অনিল কুম্বলে, জভগল শ্রীনাথ, হরভজন সিং থেকে শুরু করে জাহির খান। প্রত্যেকেই নিজের দিনে ভয়ঙ্কর। কিন্তু এঁরা সবাই একসঙ্গে একসঙ্গে খেলেননি। সৌরভের অধিনায়কত্বে জাহির, কুম্বলে, ভাজ্জু মিলে কিন্তু ভারতকে অনেক ম্যাচ জিতিয়েছেন।

বর্তমান দলে এই বোলিং স্কোয়াডটাই বিশ্বমানের। ক্রিকেটের তিন ফরম্যাটেই বিশ্বের সবথেকে ভয়ঙ্কর বোলার হয়ে উঠেছেন বুমরাহ। ইশান্ত শর্মা দিনদিন পরিণত হচ্ছেন। অনেক বেশি দায়িত্ব নিয়ে বল করছেন। নতুন বলে বাকি বোলাররা কার্যকরী হলেও মহম্মদ শামি আবার পুরনো বলে বেশি ভয়ঙ্কর। দ্বিতীয় ইনিংসে তিনিই দলের প্রধান বোলার হয়ে ওঠেন। তারসঙ্গে রয়েছেন ভুবি আর উমেশ। আর এঁদের সাহায্য করার জন্য রয়েছেন ভারতের স্পিন জুটি। কখনও চাহাল-কুলদীপ তো কখনও অশ্বিন-জাদেজা। আর এই বোলারদের দাপটেই ব্যাটসম্যানদের কাজটা অনেক বেশি সহজ হয়ে যাচ্ছে।

বৃহস্পতিবার হোলকার স্টেডিয়ামে নামার সঙ্গেই আর একটা কথা মাথায় থাকবে বিরাটদের। তা হল ইডেনে দ্বিতীয় টেস্ট। সেই টেস্টের প্র্যাকটিসটাও কিন্তু প্রথম টেস্টেই ঝালিয়ে নিতে হবে। আর তাই ইন্দোরে গোলাপি বলেও প্র্যাকটিস করেছে ভারতীয় দল। এখন দেখার ইশান্ত-শামিদের এই আগুন বাংলাদেশ ব্যাটিংকেও ছারখার করতে পারে কিনা।

Comments are closed.