রুদ্ধশ্বাস নাটক, ফের সুপার ওভারে বাজিমাত ভারতের

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফের শেষ ওভারে নাটক দেখা গেল ওয়েলিংটনে। জয়ের জন্য ৬ বলে ৭ রান দরকার ছিল নিউজিল্যান্ডের। শার্দুল ঠাকুরের বলে আউট হলেন রস টেলর, টিম সিফার্ট, ড্যারেল মিচেল ও মিচেল স্যান্টনার। ম্যাচ গড়াল সুপার ওভারে। নিউজিল্যান্ড প্রথমে ব্যাট করে ১৩ রান করল। জবাবে ব্যাট করতে নেমে জয় তুলে নিল ভারত।

এদিন শেষ ওভারে ৭ রান দরকার ছিল নিউজিল্যান্ডের। ক্রিজে ছিলেন হাফসেঞ্চুরি করা সিফার্ট ও অভিজ্ঞ রস টেলর। কিন্তু প্রথম বলেই আউট হলেন টেলর। নতুন নামা ড্যারেল মিচেল প্রথম বলে চার মারলেও পরের বল মিস করলেন। রাহুলের ডাইরেক্ট থ্রোয়ে রানআউট হন সিফার্ট। শেষ ২ বলে ২ রান দরকার ছিল। শার্দুলের বলে ছক্কা মারতে গিয়ে আউট হন মিচেল। শেষ বলে দরকার ছিল ২ রান। ১ রান নিয়ে রানআউট হন স্যান্টনার। ম্যাচ গড়ায় সুপার ওভারে।

সুপার ওভারে প্রথমে ব্যাট করে নিউজিল্যান্ড। বুমরাহর প্রথম বলে সিফার্ট ২ রান নেন। পরের বলে চার মারেন তিনি। পরের বলে ফের ২ রান আসে। প্রথম ও তৃতীয় বলে ক্যাচ দিয়েছিলেন সিফার্ট। কিন্তু কঠিন ক্যাচ মিস করেন শ্রেয়স আইয়ার ও লোকেশ রাহুল। চার নম্বর বলে অবশ্য ওয়াশিংটন সুন্দরের বলে আউট হন সিফার্ট। পরের বলে চার মারেন মুনরো। শেষ বলে এক রান হয়। মোট ১৩ রান করে নিউজিল্যান্ড।

১৪ রানের লক্ষ্যে ভারতের হয়ে নামেন অধিনায়ক বিরাট কোহলি ও লোকেশ রাহুল। সাউদিকে প্রথম বলেই ছক্কা মারেন রাহুল। পরের বলে চার মারেন তিনি। কিন্তু পরের বলেই ছন্দপতন। সাউদির বাউন্সারে ছক্কা মারতে গিয়ে আউট হন রাহুল। চতুর্থ বলে বুদ্ধি করে ২ রান নেন কোহলি। পঞ্চম বলে মিড উইকেট দিয়ে চার মেরে ম্যাচ জিতিয়ে দেন কোহলি।

এর আগে এদিন টসে জিতে ভারতকে ব্যাট করতে পাঠান এই ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের অধিনায়ক টিম সাউদি। শুরুটা ভালই করেন লোকেশ রাহুল ও সঞ্জু স্যামসন। কিন্তু এদিন বাজে শট খেলে ফের নিজের উইকেট দিয়ে এলেন সঞ্জু। ৮ রান করে আউট হন তিনি। ব্যাট করতে নেমে পরপর দুটি চার মারলেও বেনেটের বলে টপ এজ লেগে ১১ রানের মাথায় আউট হন বিরাট। আইয়ার মাত্র ১ রান করে সোধির শিকার হন।

টপ অর্ডার আউট হয়ে যাওয়ার পর শিবম দুবের সঙ্গে পার্টনারশিপ গড়েন লোকেশ রাহুল। কিন্তু ভাল সময়ে আউট হয়ে যান রাহুল। ৩৯ রানের মাথায় ছক্কা মারতে গিয়ে সোজা ফিল্ডারের হাতে মারেন তিনি। দুবে ১২ করে আউট হন। দেখে মনে হচ্ছিল ১২০ করা কঠিন হবে ভারতের। তখনই পার্টনারশিপ গড়েন মনীশ পাণ্ডে ও শার্দুল ঠাকুর।

দু’জনে মিলে ভারতের রানকে এগিয়ে নিয়ে যেতে থাকেন। মাঝেমধ্যেই বড় শট আসছিল। ২০ রানের মাথায় বেনেটকে বড় শট খেলতে গিয়ে আউট হন শার্দুল। কিন্তু অন্যদিকে দায়িত্ব নিয়ে ব্যাট করলেন মনীশ। শার্দুল আউট হওয়ার পর সাইনির সঙ্গে পার্টনারশিপ গড়লেন তিনি। দায়িত্ব নিয়ে খেললেন। হিসেব করে মারলেন। শেষ পর্যন্ত নিজের হাফসেঞ্চুরিও করেন পাণ্ডে। ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৬৫ তোলে ভারত। মনীশ ৫০ ও নবদীপ ১১ করে অপরাজিত থাকেন।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা খুব ধীরে করেছিলেন মুনরো ও গাপটিল। পাওয়ার প্লেতে বেশি রান ওঠেনি। মাত্র ৪ রানে আউট হন গাপটিল। তারপর পার্টনারশিপ গড়েন মুনরো সিফার্ট। দুরন্ত খেলছিলেন তাঁরা। ৭৪ রানের পার্টনারশিপ গড়েন দুই ব্যাটসম্যান। হাফসেঞ্চুরি করেন মুনরো। ৬৪ রানের মাথায় বিরাটের দুরন্ত থ্রোয়ে রানআউট হন তিনি। পরের ওভারেই শূন্য রানে আউট হন ব্রুস।

অভিজ্ঞ রস টেলরের সঙ্গে দলকে জয়ের দিকে নিয়ে যাচ্ছিলেন সিফার্ট। হাফসেঞ্চুরি করেন তিনিও। দেখে মনে হচ্ছিল এক ওভার বাকি থাকতেই হয়তো জিতে যাবে নিউজিল্যান্ড। কিন্তু সেই শেষ ওভারে চাপে পড়ল নিউজিল্যান্ড। টেলর ২৪ ও সিফার্ট ৫৭ করে আউট হতেই খেই হারাল তারা। ম্যাচ গড়াল সুপার ওভারে। আর সেখানে জিতে সিরিজে ৪-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল কোহলি ব্রিগেড।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More