ব্রিটিশ মক্কার গর্ভগৃহে আজ মাহি-বিরাট সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার অপেক্ষায় ভারত

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

অর্পণ গুপ্ত

মেগা সেমিফাইনালের আগে প্রেস কনফারেন্সে যে উত্তপ্ত আঁচের আশা করেছিলেন পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা সাংবাদিকেরা তার ছিটেফোঁটাও নেই। কোথাও যেন ১১ বছর আগে দেখা হওয়া দুই বন্ধুর পারস্পরিক সৌহার্দ্যের কাছে শীতল হয়ে গেল ইন্ডিয়া-নিউজল্যান্ড সেমিফাইনাল ম্যাচের বহু আকাঙ্খিত উষ্ণতা। কিন্তু চতুর উইলিয়ামসন বা আগ্রাসী বিরাট ভালোভাবেই জানেন বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে মাঠের ভেতরের চেয়েও কখনও বড় হয়ে ওঠে মাঠের বাইরে বিপক্ষকে চাপে রাখার লড়াই। আর তাই হয়তো দুজনের মুখেই শোনা গেল বিপক্ষের প্রশংসা।

১১ বছর আগে অনুর্ধ্ব ১৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপে ভারত-নিউজিল্যান্ড মুখোমুখি হয়েছিল সেমিফাইনালে। সে বারও ভারতীয় দলের ব্যাটন ছিল কোহলির কাঁধে। অন্যদিকে কিউয়ি অধিনায়ক সে দিনও ছিলেন কেন। ভারত ৩ উইকেটে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছিল বিশ্বকাপের। সময় পাল্টেছে। আজ কোহলি-কেন-স্মিথ ও জো রুটকে বিশ্বের শ্রেষ্ঠ চার ব্যাটসম্যান হিসেবে দেখা হয়। আজ এঁদের মধ্যে মুখোমুখি হচ্ছেন দুজন। বৃহস্পতিবার বার্মিংহ্যামে খেলবেন বাকি দু-জন।

ম্যাঞ্চেস্টারের মাঠে বিশ্বকাপে ভারতের ট্র্যাক রেকর্ড কিছুটা স্বস্তি দিচ্ছে ভারতীয় শিবিরকে। বৃষ্টির ভ্রুকুটি থাকলেও যদি বরুণদেব সহায় হন তবে একটা ধুন্ধুমার লড়াই-এর আশা করতেই পারে ক্রিকেটবিশ্ব। ভারতের এই মুহুর্তে ট্রাম্পকার্ড অবশ্যই রোহিত শর্মা। বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে শর্মার ব্যাটিং চলাকালীন কমেন্ট্রি বক্স থেকে সঞ্জয় মঞ্জরেকর বলেছিলেন, যদি রোহিত চলতে শুরু করে তাহলে ভারতকে থামানো অসম্ভব হয়ে পড়বে। কথাটা হয়তো অক্ষরে অক্ষরে মিলে যাচ্ছে বিশ্বকাপের লাস্ট ল্যাপে এসে। মিডল অর্ডারের ব্যর্থতা ঢেকে যাচ্ছে রোহিতের চওড়া ব্যাটে। ভারতের টপ অর্ডারে যদি রোহিত-রাহুল-কোহলির ফর্ম ভরসা যোগায় তবে অবশ্যই চিন্তার বিষয় কিন্তু তাদের মিডল অর্ডার। চার নম্বরে ঋষভ পন্থ চেষ্টা করলেও এখনও সেভাবে সেট হন নি। কেদারের বদলে সম্ভত জাড্ডু খেলবেন। সে ক্ষেত্রে ব্যাটিং অর্ডারে উঠে আসতে পারেন মাহি।

ম্যাঞ্চেস্টারে হয়তো দুই স্পিনারে ফিরে যেতে পারে ভারত। সে ক্ষেত্রে বসতে পারেন ভুবি কিংবা শামির মধ্যে একজন। কেদার যাদবের জায়গায় রবীন্দ্র জাদেজাই থাকছেন এই ম্যাচে। জাদেজার স্পিন একটা বাড়তি অপশন হওয়ায় তিন পেসারে গেলেও অবাক হবো না। কারন বৃষ্টির ভ্রুকুটি থাকায় বলে সুইং হলে ফ্যাক্টর হতে পারেন ভুবনেশ্বর কুমার।

নিউজিল্যান্ডের হয়ে বিশ্বকাপে দুটি শতরান করে ফেলেছেন অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন। মিডল আর লোয়ার অর্ডারে ভরসা দিচ্ছেন গ্র্যান্ডহোম-নিশামরা। কিন্তু চাপে রাখছে ওপেনে গাপ্টিল-মুনরোর খারাপ ফর্ম। এই বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ডের বোলিং অন্যতম বড় ফ্যাক্টর হতে চলেছে ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের সামনে। ম্যাঞ্চেস্টারের উইকেটে ট্রেন্ট বোল্টের গতি আর সুইং সামলানোই বড় চ্যালেঞ্জ রহিত-রাহুলদের। এছাড়া এই বিশ্বকাপে গতি আর ইনসুইংকে কাজে লাগিয়ে চমকে দিচ্ছেন লকি ফার্গুসনও।

ম্যাঞ্চেস্টারে মহারণের মুখে যে মানুষটিকে নিয়ে সবচেয়ে বেশি কৌতূহল সারা বিশ্বের সাংবাদিকদের তাঁর নাম ‘মহেন্দ্র সিং ধোনি’। প্রতি ম্যাচে ব্যাটে স্টিকার বদলে মাহি কিসের ইঙ্গিত দিচ্ছেন তা হয়তো বুঝতে পারছেন অনেকেই। গাভাসকার তো বলেই দিয়েছেন মাহির বিদায়মঞ্চ ম্যাঞ্চেস্টার নয়, হোক লর্ডস। কিন্তু মাহি নিজের চিরকালীন স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতেই সামলাচ্ছেন সবটা। নেটে সময় কাটিয়ে সে ভাবে সাংবাদিকদের মুখোমুখি না হয়েই ফিরে গেছেন ড্রেসিংরুমে। তাঁর খারাপ ফর্ম নিয়ে যতই সমালোচনা হোক না কেন, সারা বিশ্ব কিন্তু জানে মহেন্দ্র সিং ঠিক সময়ে ঠিক জায়গায় জ্বলে উঠতে জানেন। উইকেটের পিছনে গত ম্যাচ থেকেই তিনি কিন্তু ফর্মে ফেরার ইঙ্গিত দিচ্ছেন। আজ সুযোগ এলে কিন্তু ফের ঝলসে উঠতে পারে মাহির ব্যাট। বড় ম্যাচের আগে নিজেকে নিজের ভেতর খুব সুন্দরভাবে গুছিয়ে নিতে পারেন বিশ্বক্রিকেটের এই বর্ণময় চরিত্র।

এই বিশ্বকাপে এখনও শতরান পাননি কোহলি। সমালোচনা ভেদ করে একটু একটু করে ফিরছেন মাহি-ও। তাই রোহিতের আগুনে ফর্মের পাশে পয়মন্ত ম্যাঞ্চেস্টারে আজ কিন্তু ১৩৫ কোটি তাকিয়ে থাকবে এই দুজনের দিকেও, অপেক্ষায় থাকবে মাহি-বিরাট সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার…

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More