লালা-ঘাম ছাড়া কী ভাবে সুইং করবে বল, কতটা বদল হবে ক্রিকেটে, উত্তর মিলবে আগামী সপ্তাহেই

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনাভাইরাসের আবহে প্রায় চার মাস বন্ধ থাকার পরে আগামী সপ্তাহে শুরু হচ্ছে ক্রিকেট। ৮ জুলাই থেকে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজ খেলতে নামবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। কিন্তু এই সফরেই প্রথমবার একাধিক নিয়মকানুন দেখা যাবে। তার মধ্যে অন্যতম হল বলে লালা কিংবা ঘামের ব্যবহার বন্ধ। আর এই নিয়ম না থাকায় বল কী ভাবে নিজের কাজ করে সেদিকেই তাকিয়ে সবাই। ক্রিকেট কি আরও বেশি ব্যাটসম্যানদের খেলা হয়ে উঠবে, সেই প্রশ্নই করছেন সবাই।

    আইসিসি নিয়ম করেছে, এবার থেকে বল তৈরি করতে লালা কিংবা ঘামের ব্যবহার করা যাবে না। বল তৈরি করা অর্থাৎ, বলের শাইন বজায় রাখা, যাতে বলে সুইং দীর্ঘক্ষণ বজায় থাকে। এছাড়া পুরনো বলে রিভার্স সুইং করার জন্যও বলের একদিকে শাইন রাখা প্রয়োজন। কিন্তু লালা, ঘাম ব্যবহার না করলে কি তবে সুইং তাড়াতাড়ি চলে যাবে বল থেকে। তাহলে তো ব্যাটসম্যানদের আরও সুবিধা।

    এই বিষয়েই মুখ খুলেছেন বিশ্বের টেস্ট বল তৈরি করা দুটি কোম্পানি ডিউকস ও এসজি-র নির্মাতারা। ডিউকস কোম্পানির মালিক দিলীপ জাজোদিয়া অবশ্য বলছেন, “এই নিয়মের প্রভাব ইংল্যান্ডে বিশেষ একটা হবে না। কারণ ইংল্যান্ডের আবহাওয়ায় বল তাড়াতাড়ি খারাপ হয় না। শাইন অনেকক্ষণ বজায় থাকে। তার উপর পরিবেশে আর্দ্রতা বেশি থাকায় সুইং বেশি হয়।”

    বলে কোনও রকমের বদল তাঁরা করেননি বলেই জানিয়েছেন জাজোদিয়া। তিনি বলেন, “আমাদের বল হাতে সেলাই করা হয়। তার উপরে বলের উপর গ্রিজ থাকে। ফলে বলের সুইং অনেক বেশি থাকে। হাতে সেলাই হওয়াই সিম তাড়াতাড়ি নষ্ট হয় না। তাই যদি বোলাররা সুতির টাওয়েল সঙ্গে রাখেন তাহলে তাতে ঘষেই বলের শাইন বজায় রাখা যাবে। আগেকার দিনে তো টাওয়েল দিয়েই বল বানাতেন ক্রিকেটাররা। তাঁরা লালা বা ঘাম খুব একটা ব্যবহার করতেন না।”

    অন্যদিকে ভারতে যে বলে টেস্ট খেলা হয়, সেই কোম্পানি সানস্পারেইলস গ্রিনল্যান্ডস বা এসজির মার্কেটিং ও সেলস ডিরেক্টর পারস আনন্দ জানিয়েছেন, “আমরা বিসিসিআই ও আইসিসির কাছে আবেদন করেছিলাম শাইন বজায় রাখার জন্য যদি একটু বেশি মোমের ব্যবহার করা যায়। কিন্তু ওরা কিছু বলেনি। তাই আগের মতোই বল তৈরি করছি আমরা। আমাদের বলও হাতেই সেলাই হয়। আশা করছি প্লেয়াররা বলের শাইন বজায় রাখার নতুন উপায় ঠিক খুঁজে নেবেন।”

    ক্রিকেটের যত বিবর্তন হয়েছে, তত তা ব্যাটসম্যানদের খেলায় পরিণত হয়েছে। সব নিয়মই তাঁদের অনুকূলেই গিয়েছে। বোলারদের হাতিয়ার ছিল এই সুইং ও রিভার্স সুইং। এই দুই অস্ত্র চলে গেলে শুধুমাত্র গতির হেরফের আর পিচের উপরেই তাঁদের নির্ভর করে থাকতে হবে। তাতে আখেরে ক্ষতি হবে ক্রিকেটেরই। তাই নতুন পরিস্থিতিতে বলের ব্যবহার ঠিক কেমন হয়, সেদিকেই তাকিয়ে বিশেষজ্ঞরা। আগামী সপ্তাহেই তা প্রথম দেখা যাবে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More