সোমবার, আগস্ট ২০

৯ ডিসেম্বরের যুবভারতীর ছায়া অস্ট্রিয়ার স্টেডিয়ামে

দ্য ওয়াল ব্যুরো: মাঝে কেটে গিয়েছে ৫ বছর ৮ মাস। ২০১২ সালের ৯ ডিসেম্বর থেকে ২০১৮ সালের ৯ অগস্ট। দূরত্ব অনেক। কলকাতা থেকে অস্ট্রিয়া। কিন্তু ছবিটা এক। গ্যালারির উন্মত্ততায় ফুটবল মাঠে রক্ত।

ইউরোপা লিগের খেলা চলছিল অস্ট্রিয়ার স্টার্ম গ্রাজ বনাম সাইপ্রাসের এইকে লার্নাকোর মধ্যে। খেলার বয়স তখন ৬৮ মিনিট। অ্যাওয়ে ম্যাচে লার্নাকো এগিয়ে রয়েছে ২-০ গোলে। সেই সময়ই গ্রাজের গ্যালারি থেকে উড়ে এল একটি বোতল। সজোরে গিয়ে লাগল সুইডিশ লাইন্সম্যান ফ্রেড্রিক ক্লিভারের মাথায়। মাটিতে লুটিয়ে পড়লেন বছর আটচল্লিশের ফ্রেড্রিক। খেলা বন্ধ। ছুটে এলেন দুই দলের খেলোয়াড়, রেফারি, অন্যান্য অফিসিয়ালরা। মাটিতে পড়ে ফ্রেড্রিক। আর সবুজ ঘাস ভেসে যাচ্ছে রক্তে। মাথায় আটটি সেলাই করতে হয় লাইন্সম্যানের। ব্যান্ডেজ নিয়েই চলে যেতে হয় টানেলের মধ্যে দিয়ে। বাকি খেলা পরিচালনা করেন ফোর্থ অফিসিয়াল।

একটি আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমের দাবি, আয়োজক দল স্টার্ম গ্রাজ এরপর খেলা বন্ধ করে দেওয়ার দাবি জানায়। কিন্তু তা আর হয়নি। খেলা শেষ হয় ২-০ গোলেই। ঘরের মাঠে হারতে হয় অস্ট্রিয়ার দলটিকে। সেই সঙ্গে জুড়ে যায় ন্যক্কারজনক ঘটনার কলঙ্ক।

স্টার্ম গ্রাজ ক্লাব তাদের ওয়েবসাইটে গোটা ঘটনার নিন্দা করে ক্ষমা চেয়েছে। স্পষ্ট ভাবে এও জানিয়েছে, ফুটবল মাঠে এসে যে বা যারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে তারা ফুটবলের শত্রু।

একই ঘটনা ঘটেছিল ২০১২ সালের কলকাতা ডার্বিতে। হরমনজ্যোৎ সিং খাবরার গোলে এগিয়ে ছিল ইস্টবেঙ্গল। এরপর খেলা চলতে চলতেই এক গোলে পিছিয়ে থাকা মোহনবাগানের স্ট্রাইকার ওডাফা ওকোলিকে লাল কার্ড দেখান রেফারি। ফুটতে থাকে গ্যালারি। তিন নম্বর গ্যালারির মোহনবাগান অংশ থেকে রেফারির উদ্দেশে উড়ে আসে পাথর। কিন্তু লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে তা লাগে বাগান ডিফেন্ডার রহিম নবির কপালে। রক্তাক্ত রহিম নবিকে বাইরে নিয়ে যায় অর্ণব, মেহেতাব, সৌমিকরা।

গোটা ফুটবল মহল সেদিন ধিক্কার জানিয়েছিল ওই ঘটনাকে। রেফারির সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে দ্বিতীয়ার্ধে আর দলই নামায়নি সবুজ-মেরুন। যে কারণে সে বার শাস্তি হিসেবে পয়েন্টের ক্ষেত্রে খেসারত দিতে হয় বাগানকে। এবং পরের বার আই লিগ খেলার জন্য দু’কোটি টাকা জরিমানা দিতে হয় মোহন শিবিরকে।

অস্ট্রিয়ার এই ঘটনা আরও একবার প্রমাণ করে দিল, খেলার মাঠে আবেগ, উচ্ছ্বাসের যেমন কোনও দেশ হয় না, ঠিক তেমনই ‘অসভ্যতা’রও কোনও রং হয় না।

 

Shares

Leave A Reply