শনিবার, মার্চ ২৩

দু’বছর আগে এই চার্চিলই বারাসতে বাধা হয়েছিল, সমর্থকরা বলছেন এটা আলেজান্দ্রোর ইস্টবেঙ্গল

দ্য ওয়াল ব্যুরো: লাল-হলুদ সমর্থকরা তাঁর নাম দিয়েছিলেন ‘মিস প্লাজা’। বক্সের ভিতরে গোলরক্ষককে একা পেয়েও তেকাঠির উপর দিয়ে বল উড়িয়ে দিতেন তিনি। সেই উইলিস প্লাজাই এ বার আই লিগে এখনও পর্যন্ত শীর্ষ গোলদাতা। চার্চিলের জার্সি গায়ে ১৭ টি গোল এসে গিয়েছে তাঁর বুট থেকে। পুরনো দলের বিরুদ্ধে নামার আগে হুঙ্কারও ছেড়ে রেখেছেন ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জ থেকে কলকাতা হয়ে গোয়ার ক্লাবে খেলা এই স্ট্রাইকার।

কিন্তু আলেজান্দ্রো মেনেন্ডেজের ইস্টবেঙ্গল সে সব ভাবছেই না। দুশ্চিন্তা নেই সমর্থকদেরও। অনেক দিন পর ইস্টবেঙ্গল সমর্থকরা বলছেন, ‘একটা কোচের মতো কোচ।’ অনেক দিন পর কোনও কোচ বলছেন, ‘আমার ইস্টবেঙ্গল, সমর্থকদের জন্য মাঠে নামে।’

 

আই লিগের প্রথম ডার্বিতে ছিলেন না মোহনবাগানের প্রাণভোমরা সনি নর্ডি। কিন্তু দ্বিতীয় ডার্বিতে চোট সারিয়ে মাঠে নেমেছিলেন হাইতিয়ান তারকা। সবুজ-মেরুন সমর্থকদের আশা ছিল প্রথম লেগের বদলা হবে ফিরতি ম্যাচে, ঝলসে উঠবেন সনি। কিন্তু তাঁকে কার্যত বোতলবন্দি করে দিয়েছিলেন লালরাম চুলোভা। নড়তেই দেননি। হয়তো প্লাজার জন্যও রবিবাসরীয় বিকেলে কোনও ছক ভেবে রেখেছেন লাল-হলুদ কোচ।

শেষ তিনটি ম্যাচে জয় আসেনি আলেমাও চার্চিলের দলের। তাই ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধে জিতে লিগের লড়াইয়ে ফিরতে চাইবেন প্লাজারা। শুধু তো প্লাজা নন, আরেক লাল-হলুদের প্রাক্তনীও থাকবেন চার্চিল মাঝমাঠে। কেভিন লোবো। কিন্তু সব বাধা পেরিয়ে চার্চিল ম্যাচ জিতে পয়েন্ট টেবিলে চেন্নাইকে ছুঁতে চাইছে ইস্টবেঙ্গল।

শনিবার ম্যাচের আগের দিন হলেও অনুশীলন করাননি ইস্টবেঙ্গল কোচ। গোটা দল নিয়ে চলে গিয়েছিলেন ইকো পার্কে বেড়াতে। যাতে টিমের গায়ে চাপের ছিটেফোঁটা আঁচ না লাগে।

পর্যবেক্ষকদের মতে, বেশ কয়েকবছর পর চার্চিল লিগের দৌড়ে উঠে এসেছে এ বার। কিন্তু পরপর পয়েন্ট হারিয়ে চাপে। তাই গোয়ার দলটি চাইবেই ছোবল মারতে। অনেকে আবার বলছেন, দু’বছর আগে চ্যাম্পিয়নশিপের দৌড়ে থাকলেও বারাসতের বিদ্যাসাগর ক্রীড়াঙ্গনে চার্চিলের কাছে হেরেই ছিটকে যেতে হয়েছিল লাল-হলুদকে। কিন্তু সমর্থকদের একটা বড় অংশের মতে সেটা ছিল দ্বিতীয় ইনিংসের ট্রেভর মরগ্যানের ইস্টবেঙ্গল। আর এটা আলেজান্দ্রো মেনেন্ডেজের ইস্টবেঙ্গল। বদলে যাওয়া ইস্টবেঙ্গল।

তবে শেষ পর্যন্ত কী হয়, তার জন্য তাকিয়ে থাকতে হবে রবিবার সন্ধে পর্যন্ত।

Shares

Comments are closed.