রবিবার, সেপ্টেম্বর ২২

রাতে ঘুম হয়নি ম্যানেজার ঘোষিত হওয়ার পর

দেবরাজ চৌধুরী

আমি তখন জার্মানিতে একটি প্রিন্টিং-এর প্রদর্শনীতে গিয়েছিলাম। ২০০৮ সাল। ওখানেই আমার সঙ্গে পরিচয় হয় অসমের বিদ্যুৎ গুহর। তারপর উনিই আমায় কলকাতায় এসে নিতুদার (দেবব্রত সরকার) হাতে তুলে দেন। ইস্টবেঙ্গল ক্লাবে যদি আমার কেউ জনক হন, তিনি নিতুদা।

একদিন ক্লাবে বসেছিলাম, নিতুদা হঠাৎ ডেকে বললেন, “তুই আর অন্য কিছু ভাবিস না। কাল থেকে শুধু টিম নিয়ে লেগে পড়।” ওই দিন রাতে ঘুমোতে পারিনি। শুধু ভেবেছি, ক্লাব যে গুরু দায়িত্ব দিচ্ছে, পারব তো! অনেকেই বলেন সর্বকনিষ্ট ম্যানেজার বা ইত্যাদি। কিন্তু সবার আগে আমি একজন সমর্থক। তারপর বাকি সব। আমি এখনও গ্যালারি মিস করি। ওই উন্মাদনা মিস করি।

গতবার কলকাতা লিগে বাবু চক্রবর্তীকে ডেকে নিতুদা বললেন, একটা ম্যাচ তুই দেবরাজকে নিয়ে বসে শিখিয়ে দে। পরের ম্যাচ থেকে দেবরাজ বেঞ্চে বসবে। যে চেয়ারে রাজা সুরেশ চৌধুরী বসেছেন, সন্তোষের মহারাজা বসেছেন, পল্টু দাশ, জীবন চক্রবর্তী বসেছেন, একটা সময়ে নিতুদা নিজে বসেছেন, স্বপন বল বসেছেন, সেই চেয়ার বসতে পারছি আমি। ভাবলেই গায়ে কাঁটা দেয়। সুভাষ ভৌমিকের মতো কোচের সঙ্গে ডাগআউট শেয়ার করা বা ইস্টবেঙ্গলের ইতিহাসে সবচেয়ে হাইপ্রোফাইল কোচ আলেহান্দ্রোর সঙ্গে ডাগ আউট শেয়ার করছি। অনন্য অভিজ্ঞতা।

ম্যানেজার হিসেবে স্বপন বলকে বেশ কয়েক বছর দেখেছি। স্বপনদা আমায় খুব স্নেহ করতেন। স্বপনদা আজকে নেই। যেখানেই থাকুন উনি, নিশ্চয়ই দেখছেন। স্বপনদা বলতেন, আমাদের রক্তের গ্রুপ ইবি পজিটিভ। স্বপন বল একটা প্রতিষ্ঠানের নাম।

প্রথম বড় ম্যাচের অভিজ্ঞতাও অসাধারণ। দু’গোলে পিছিয়ে থেকে ড্র। কিন্তু এখনও পর্যন্ত সেরা অভিজ্ঞতা প্রথম মোহনবাগান ম্যাচ জয়। তার আগে ৩৩ মাস ডার্বি জিতিনি আমরা। ওই ম্যাচের আগে এনরিকে চোট পেয়ে গেল। সবাই ধরে নিয়েছিল আমরা জিততে পারব না। ওই ম্যাচটায় আমরা প্রথমে গোল হজম করে ফেলি। তারপর ৩-২ গোলে ম্যাচটা জিতলাম। ওই অভিজ্ঞতা বলে বোঝাতে পারব না।

এই শতবর্ষে যদি ভূতের রাজা যদি এসে আমায় একটা বর চাইতে বলেন, চাইব সব ম্যাচ জিততে।

Comments are closed.