১৯৮৩ থেকে ২০১৯, বদলে গেছে ক্রিকেটের ছবি, দর্শকদের মান

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দেবাশিস সেনগুপ্ত

১৯৮৩……অনেকেই হয়তো জানেন না যে “ইন্ডিয়ান ক্রিকেটার” নামে একটা অধুনালুপ্ত (দুর্বোধ্য কারণে মাত্র বছরখানেক টিকেছিল) ইংলিশ মিডিয়াম ক্রিকেটীয় মাসিক পত্রিকা আত্মপ্রকাশ করে “আজকাল প্রকাশনী” থেকে ওই বছরের মে মাসে।  “ইন্ডিয়ান ক্রিকেটার”-এর সম্পাদক কিছুটা ক্রিকেট খেলতেন তখন নিজের হাতে।

১৯৮৩……প্রায় সবাই জানেন যে ওই বছরের ২৫শে জুন একদিনের ক্রিকেট বিশ্বকাপ জেতে ভারত। “ইন্ডিয়ান ক্রিকেটার”-এর সম্পাদক ঐ বছরের বিশ্বকাপ জয়ী ভারতীয় দলের সদস্য ছিলেন এবং ফাইনালে ২ রান করে আউট হয়ে যান।

১৯৮৩…..ওই বছরের জুলাই-অগস্টে “বিশ্বকাপ-বিজয় সংখ্যা” বের করে “ইন্ডিয়ান ক্রিকেটার”। অসাধারণ হয়েছিল সংখ্যাটা।

১৯৮৩….ওই বছরের সেপ্টেম্বর নাগাদ বিশ্বকাপ জয়ের উপর একটি বাংলা বই প্রকাশের সিদ্ধান্ত নেয় “আজকাল প্রকাশনী”। যার সম্ভাব্য লেখক ছিলেন তৎকালীন ওই প্রকাশনীর “খেলা” পত্রিকার সম্পাদক এবং “আজকাল” পত্রিকার ক্রীড়া সম্পাদক।

তাঁরই অনুরোধে “ইন্ডিয়ান ক্রিকেটার”-এর সম্পাদক ওই প্রকাশিতব্য বাংলা বইয়ের জন্য একটি অণু-ভূমিকা লিখে দেন। যা শেষ হয়েছিল এইভাবে – “এই বিশ্বজয়ে দলের সবার ভূমিকা ছিল। আমারও। আমার করা ২ রান না হলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সামনে টার্গেট ১৮৩-র বদলে ১৮১ থাকত এবং তারা আর একটু কম চাপে থাকত।” বইটি অবশ্য শেষ অবধি বেরোয়নি নানা কারণে। কিন্তু ভূমিকাময় “গল্প”টা রয়ে গেছে।

ওই সম্ভাব্য লেখকের নাম ছিল অশোক দাশগুপ্ত, আর ভূমিকা লেখক ছিলেন সুনীল মনোহর গাভাসকার।

তখন ক্রিকেট ছিল প্রাণোচ্ছল আর আনন্দদায়ক। আর তখন খেলোয়াড়দের “কৌতুকজ্ঞান” ক্রিকেটকে আরও রঙিন করে রাখত। যার একটি ছোট নমুনা এতক্ষণ পড়লেন।

তখন অল্পে সন্তুষ্ট দর্শক-সমর্থকরাও মাঠের “রৌণক” বাড়িয়ে দিতেন তাঁদের কম চাহিদার “উজ্জ্বল উপস্থিতি” দিয়ে। তখনও পানপরাগ অধ্যুষিত হয়নি ক্রিকেট নামক খেলাটি। সে এক “অন্য সময়”। যখন ক্রিকেটার, দর্শক, কর্মকর্তা মিলে ক্রিকেট ছিল সেই “অন্য সময়”-এর প্রতিনিধি। তখনও ক্রিকেটের জন্য বহিরাগত ছিল “রাজনীতি” বা “কর্পোরেট আগ্রাসন”।

এখন সবকিছুই উল্টোপাল্টা হাওয়ায় উল্টে, পাল্টে গেছে। যার জেরে ভারত-পাক ম্যাচ চলাকালীন হাই তোলা পাক অধিনায়ককে নিয়ে রুচিহীন মিমে ভরে যায় সোশ্যাল মিডিয়া অথবা সোশ্যাল মিডিয়ায় বিরাটের আউট না হয়েও প্যাভিলিয়নে যাওয়া নিয়ে অনুষ্কায়ন। খেলার আগে “রাজ করে” উভয় দেশেই বিজ্ঞাপনের রুচিহীনতা। বেটিং, ডোপ, বলবিকৃতিও এখন ক্রিকেটের অঙ্গ। দর্শক-সমর্থক এবং ক্রিকেট, উভয়েরই মান এখন দ্রুত নিম্নগামী।

একটি ক্রিকেটীয় প্রবাদ বলে যে, যখনকার দর্শকদের মান যেমন, তারা সেই মানেরই ক্রিকেট পাবার যোগ্য। তাই অসম্ভব জেনেও ক্রিকেটের কোনও দেবতা থাকলে তাঁর কাছে এই প্রার্থনা যে, তিনি যেন সেই ক্রিকেটীয় দিনগুলো ফিরিয়ে দেন। আর একবার ফিরে আসুক সেই প্রাণের ক্রিকেট।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More