সোমবার, মে ২৭

শিশিরের জন্যই কি, নাকি ধোনির অভাব? কীসের জন্য মোহালিতে হারল ভারত?

দ্য ওয়াল ব্যুরো : মোহালিতে টসে জেতার সময় বিরাট কোহলি বলেছিলেন আগের তিন ম্যাচে ভেবেছিলেন শিশির পড়বে, কিন্তু পড়েনি। এমনকী শিশিরের কথা ভেবেই রাঁচিতে প্রথমে বল করার সিদ্ধান্ত নিয়ে ডুবতে হয়েছে কোহলি অ্যান্ড কোংকে। আর তাই মোহালিতে শিশিরের কথা না ভেবেই ব্যাট নিয়েছিলেন। কিন্তু রবিবার সন্ধ্যা থেকেই শিশিরের কবলে ডুবে গেল মাঠ। ভারতীয় বোলাররা বল গ্রিপ করতে পারলেন না। ফলে ৩৫৮ রানের বিশাল লক্ষ্যে সহজেই পৌঁছে গেল অস্ট্রেলিয়া। কিন্তু শুধুই কি শিশিরের কারণেই হারল ভারত? নাকি ধোনির অভাবটা বোঝা গেল এ দিন?

গব্বর-হিটম্যানের দুরন্ত ব্যাটিংয়ে প্রথমে ব্যাট করে ৩৫৮ রান করেছিল ভারত। জবাবে প্রথম দশ ওভারে অস্ট্রেলিয়ার দুই সেরা ব্যাটসম্যান ফিঞ্চ ও শন মার্শের উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া। রানও ছিল খুবই কম। কিন্তু সন্ধ্যা নামতেই শিশির পড়া শুরু হলো। ফলে ভারতের দুই রিস্ট স্পিনার বল গ্রিপ করতে পারছিলেন না। পিচে টার্ন হচ্ছিল না। বল সহজেই ব্যাটে আসছিল। ফলে ব্যাট করা সহজ হয়ে যাচ্ছিল।

কিন্তু এই সময়েই তো সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন উইকেট কিপার। ধোনিকে দেখা যায় পিছন থেকে ক্রমাগত স্পিনারদের বলছেন কোথায় বল করতে হবে, কোন ব্যাটসম্যান কী ভাবছেন। কুলদীপ, চাহাল, কেদাররা চোখ বন্ধ করে সেই মতো বল করেন। তার ফলও মেলে। কিন্তু এ দিন ধোনি না থাকায় সেটার অভাব দেখা গেল। ঋষভ পন্থের কাছে কোনও সাহায্য পেলেন না বোলাররা। ফলে সহজেই রান উঠলো।

এই সাহায্যের থেকেও অবশ্য প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়ালো দুটো স্ট্যাম্পিং। প্রথমে সেঞ্চুরি করা পিটার হ্যান্ডসকম্ব। তারপর অস্ট্রেলিয়াকে ম্যাচ জেতানো অ্যাস্টন টার্নার। প্রথমবার কুলদীপের বলে হ্যান্ডসকম্বের প্যাডে লেগে বল পিছনে যায়। তখন অনেকটা এগিয়ে ছিলেন হ্যান্ডসকম্ব। কিন্তু বল ধরতেই পারলেন না পন্থ। হ্যান্ডসকম্ব যদিও একটু পরে আউট হয়ে যান, কিন্তু পরের ভুলের জন্যই হার হলো। টার্নার তখন সবে হাত খোলা শুরু করেছেন। এগিয়ে আসতে দেখে চাহাল লেগ সাইডে বল করেন। টার্নারকে আউট করার সহজ সুযোগ ফস্কান পন্থ। বল ধরতেই পারেননি তিনি। এই টার্নারই ৮৪ রান করে অস্ট্রেলিয়াকে ম্যাচ জিতিয়ে দেন।

এই ম্যাচ ভালো করে বুঝিয়ে দিল ভারতীয় দলে ধোনির ভূমিকা। ধোনি হয়তো আগের মতো ব্যাট হাতে সেই বিধ্বংসী নেই, কিন্তু এখনও তাঁর মাথাটা বরফ শীতল। এখনও প্রতিটা মুহূর্তে উইকেটের পিছন থেকে বোলারদের খেলান। বড় দাদার মতো তাঁদের ভরসা দেন। বিরাট সমস্যায় পড়লেই ধোনির পরামর্শ নেন। আর তার সঙ্গে তাঁর বিদ্যুৎ গতিতে স্ট্যাম্পিং। বিশ্বক্রিকেটে তাঁর থেকে দ্রুতগতিতে স্ট্যাম্প করতে পারেন না কোনও কিপার। তা ছাড়াও রান আউটের ক্ষেত্রেও তাঁর অনবদ্য পরিকল্পনা থাকে। রাঁচি ম্যাচেও ম্যাক্সওয়েলের আউটে সেটা দেখা গিয়েছে।

তাই মোহালিতে হারের ময়নাতদন্ত হলে কিন্তু শিশিরের সঙ্গে উঠে আসবে পন্থের ভুলগুলোও। এখনও অনেক কিছু শেখার আছে তাঁর।

আরও পড়ুন

#Breaking: যাঁরা টিকিট পাবেন না, নবান্নে একে একে ডাক পড়ছে তাঁদের?

Shares

Comments are closed.