রবিবার, সেপ্টেম্বর ২২

নেমন্তন্ন করেনি ইস্টবেঙ্গল, দুঃখ পেয়েছেন বরিশালের ছেলে বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়

দ্য ওয়াল ব্যুরো: মোহনবাগান যাতে ম্যাচ হারে, সে জন্য ‘তুক’ করতে তাঁর জাভা মোটরবাইকটা নিয়ে মাঠের বাইরে এক চক্কর মেরে আসতেন। সে কবেকার কথা। তখন কলেজ পেরিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি হয়েছেন। কেমন যেন সংস্কার তৈরি হয়ে গিয়েছিল মনে মনে। ম্যাচের আগে মাঠের আশপাশ গিয়ে এক বার ঘুরে এলেই সবুজ-মেরুন ডাহা হারবে। হতোও নাকি তাই!

অথচ শতবর্ষের অনুষ্ঠানের ‘বরিশালের ছেলেকে’ আমন্ত্রণই করলেন না ইস্টবেঙ্গলের কর্মকর্তারা।

বারুইপুর পশ্চিমের বিধায়ক তথা বিশিষ্ট আইনজীবী বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় ব্যক্তিগত ভাবে এতে মর্মাহত। সেই সঙ্গে তীব্র অসন্তোষও রয়েছে তাঁর। সে কারণ অবশ্য অন্য।

বৃহস্পতিবার ইস্টবেঙ্গলের শতবর্ষের অনুষ্ঠানের উদযাপন হয়েছে নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে। বিধানসভার স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায়, “ক্লাবের পুরনো অনেক সদস্যকেই আমন্ত্রণ করা হয়নি। বিধানসভার স্পিকারকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। স্পিকার পদ একেবারেই অরাজনৈতিক পদ। বিধানসভার নাকের ডগায় ক্লাবগুলো অবস্থিত। অথচ বিধায়কদের কোনও ম্যাচে আমন্ত্রণ জানানো হয় না। এ ধরনের কাজ খুবই নিন্দাজনক। এ ধরনের কাজকে আমি নিন্দা করি”।

তাঁকে প্রশ্ন করা হয় ব্যক্তিগত ভাবে আপনি কতটা মর্মাহত?

বিমানবাবু বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে যখন পড়তাম ইস্টবেঙ্গলের কোনও ম্যাচ বাদ দিয়েছি বলে মনে পড়ে না। বরিশালে আমার জন্ম। সে যাক। ব্যক্তিগত দুঃখ হতাশার প্রশ্ন তুলছি না। কিন্তু স্পিকারের পদকে মর্যাদা দেওয়া তাঁদের উচিত ছিল। তাঁর কথায়, প্রয়োজন পড়লে বিষয়টা আমি নিয়ে যথাস্থানে কথা বলব।

ছোটবেলায় বরিশাল শহরেই কেটেছে বিমানবাবুর। যে স্কুলে পড়াশুনা করতেন, বিধানসভার স্পিকার হওয়ার পর সেই স্কুলে একবার গিয়েওছিলেন। সাড়ম্বরে তাঁকে বরণ করে নিয়েছিলেন স্কুল কর্তৃপক্ষ। সেই স্মৃতিচারণ করতে করতে এখনও আবেগঘন হয়ে পড়েন বিমানবাবু।

এ ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে, ইস্টবেঙ্গলের এক কর্মকর্তা বলেন, বিমানবাবুর আবেগের কথা অনুভব করতে পারছি। স্পিকারকে আমন্ত্রণ না জানিয়ে ক্লাবের দিক থেকে একটা ত্রুটি হয়েছে। তাঁর সঙ্গে দেখা করে এ ব্যাপারে দুঃখপ্রকাশ করা হবে।

Comments are closed.